• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ রাত

জীবনকে ফেসবুক আসক্তিমুক্ত রাখার উপায়!

  • প্রকাশিত ০৭:৪৩ রাত জানুয়ারী ৬, ২০২০
ফেসবুক
রয়টার্স

গবেষকরা বলছেন, ফেসবুক ব্যবহার বন্ধের কারণে মানুষ সমসাময়িক অনেক বিষয়ে জানতে পারেন না ঠিকই কিন্তু তারা সুখী থাকেন!

বর্তমান সময়ে ফেসবুক আমাদের জীবনে একটি অপরিহার্য অংশ হিসাবে পরিণত হয়েছে। আমাদের অনেকের সকালই শুরু হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। তবে ফেসবুকের এইসব ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু নেতিবাচক দিক। 

গবেষকরা বলছেন, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাত্র চার সপ্তাহের জন্য নিষ্ক্রিয় (ডিঅ্যাক্টিভেট) কিংবা বন্ধ রাখলে মানুষের আচরণ ও মানসিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। শুধু তাই নয়; টানা কয়েকদিনের জন্য ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ রাখলে ফেসবুক আসক্তি কমে যায়। ফেসবুক ব্যবহার বন্ধের কারণে মানুষ সমসাময়িক অনেক বিষয়ে জানতে পারেন না ঠিকই কিন্তু তারা সুখী থাকেন।

ফেসবুক আসক্তির কিছু লক্ষণ

১. নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত শেয়ার

২. যখন-তখন কারণ ছাড়াই ফেসবুকে ঢোকা

৩. প্রোফাইলের ছবিটি নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া

৪. ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিউজ ফিড পড়া এবং এগুলো নিয়ে সময় পার করা

৫. অনলাইনের জন্য বাস্তবের জীবনকে জলাঞ্জলি দেওয়া

৬. কাউকে বন্ধু করতে পাগলের মতো আচরণ করা

৭. ফোনের নোটিফিকেশন বা কোনো নোটিফিকেশনের চিহ্ন দেখলেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা

৮. কোথাও গেলে সঙ্গে সঙ্গে চেক ইন করার মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া

৯. প্রায়ই মানুষকে ট্যাগ করা

১০. কাজের সময় লুকিয়ে গোপনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করা

আসক্তির ফলে যা যা ঘটতে পারে

১. আবেগ-অনুভূতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে

২. হতাশা ও দুশ্চিন্তা পেয়ে বসে

৩. আসক্ত ব্যক্তি একাকী বোধ হয় ও নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করে 

৪. কাজের সময় ঠিক থাকে না, কাজের আগ্রহ হারিয়ে যায়

৫. সময়জ্ঞান লোপ পায়, অসৎ পথে পরিচালিত হতে বাধ্য করে

৬. নিজেকে অন্যর সঙ্গে তুলনা করে ঈর্ষাবোধ হতে শুরু করে

৭. দায়-দায়িত্ব ভুলে মনোযোগ ডুবে থাকে ফেসবুকে

আসক্তি থেকে মুক্তি পাবার কিছু উপায়

১) আপনার অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহার আপনার ঘনিষ্ঠজনরা কেমনভাবে নিচ্ছে তা জানার চেষ্টা করুন। আপনি আপনার পরিবার পরিজনকে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে ফেসবুকে মেতে রয়েছেন, তাদের সময় না দিয়ে সর্বক্ষণ ফেসবুক উপভোগ করা কী চরম স্বার্থপরতা নয়? এ কি যুক্তিসঙ্গত। ভেবে দেখুন। যদি ভাবতে পারেন, যদি উপলব্ধি করতে পারেন তাহলে এমনিতেই কমে যাবে আপনার ফেসবুক আসক্তি। তাই ভাবুন ও উপলব্ধি করুন ফেসবুকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে আপনার ঘনিষ্ঠজনের অনুভূতি।

২) আপনার ফেসবুক ব্যবহারের সময়সীমা রক্ষা করার জন্য টাইমার ব্যবহার করতে পারেন। টাইমার সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোনে ইনস্টল করে ফেলুন কিংবা অন্যকোনও টাইমার ব্যবহার করুন। যতটুকু সময় আপনি ফেসবুকের জন্য বরাদ্দ, ঠিক ততটুকু ব্যবহার করতে সাহায্য করবে টাইমার। এটি বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক লগআউট করে উঠে পড়ুন। কোন দ্বিধা, ধানাই-পানাই না করেই উঠে পড়ুন। জানি ফেসবুক ছাড়তে বেজায় কষ্ট হবে। তবু মাথাচাড়া দিয়ে মনে জোর এনে উঠে পড়ুন।

৩) অনেকের ঘণ্টায় ঘণ্টায় স্ট্যাটাস না দিলে ভালই লাগে না। এটা অন্যরা কিন্তু ভাল চোখে নেয় না, তা কি আপনি জানেন? সারাদিনের মনের কথা একটি স্ট্যাটাসেই দিয়ে দিন না। এতে আপনার বারবার ফেসবুকে বসার পরিমাণও কমবে। আবার অন্যের বিরক্তির উদ্রেগ করবে না। অনেকেই অপ্রয়োজনীয় অনেক পেজে লাইক দেন। এতে অপ্রয়োজনীয় নিউজ ফিডে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। তাই ফেসবুক থেকে আনলাইক করে দিন অপ্রয়োজনীয় পেজ। দেখবেন, এতে অনেক সময় সাশ্রয় ঘটবে।

৪) ই-মেইল নটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। এটি আপনাকে চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যাবে ফেসবুকের কাছে। মানে বলতে চাচ্ছি, ফেসবুক লগ-ইন করার তাগিদ সৃষ্টি করবে আপনার মাঝে। কে কখন কী করল, কে কোথায় লাইক দিল, কখন কী কমেন্ট করল তার সবই আপনার জানার দরকার আছে কি? না নেই। তাই ই-মেইল নটিফিকেশন অপশনটি বন্ধ করে দিন। দেখবেন ফেসবুকে ঢোকার প্রবণতা অনেকখানি কমে গেছে।

৫) যাদের সঙ্গে আপনার ভাল জানাশোনা নেই তাদের কী আপনার বন্ধু বানানো খুব জরুরি? বেশি বন্ধু হলে আপনার কাছের বন্ধুদের কথাই আপনি অনেক সময় মিস করে ফেলেন, তাই এতো হাজার হাজার বন্ধু করা থেকে বিরত থাকুন, আর বেছে বেছে অপ্রয়োজনীয় বন্ধুদের ছাঁটাই করে ফেলুন। বন্ধুর মতো বন্ধু অল্প কয়জন থাকলেই হয়, তাতো আপনি ভাল করেই জানেন।

৬) সপ্তাহের একটি দিনকে “ফেসবুক-মুক্ত দিন” হিসেবে ঘোষণা করে দিন! দেখবেন, ফেসবুক আসক্তি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসছে। ভাবছেন, এতে আপনার ফেসবুক বন্ধুরা আপনাকে খুঁজে না পেয়ে রাগ করবে। তা যাতে তারা না করে, এজন্য আগেই একটি স্ট্যাটাস দিয়ে দিন যে, অমুক দিন আপনার ফেসবুকহীন দিবস। ব্যস কেল্লাফতে!

৭) ফেসবুকে এত্ত এত্ত অপশন যে কিভাবে সময় কেটে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। ভিডিও গেমসসহ আজব অনেক কাণ্ড-কারখানার লিঙ্ক ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া যায়। আর তাতে মত্ত হয়ে পড়লে সময়ের হিসেব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। তাই যথাসম্ভব চেষ্টা করুন এসব লিঙ্কে প্রবেশ না করতে। মনে রাখবেন, এ এক গোলকধাঁধা। এতে ঢুকলে বের হওয়া মেলা কষ্টের!