• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

কফের সাথে রক্ত এলে যা করবেন

  • প্রকাশিত ০২:৩৬ দুপুর জানুয়ারী ১১, ২০২০
রক্ত
অনেকের কাশতে কাশতে কফের সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসে সংগৃহীত

অনেকের কাশতে কাশতে কফের সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসে। আর একে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না

শীতকাল অনেকের কম-বেশি কাশির সমস্যা হয়। অনেকের আবার কাশতে কাশতে কফের সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসে। আর একে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এই সমস্যার সমাধান সহজেই কমানো সম্ভব।

রক্তবমি আর কফে রক্ত আসা কি এক?

একেবারেই না! রক্তবমি আর কফে রক্ত আসা একেবারেই আলাদা ব্যাপার। অনেকে এই দু’টো ব্যাপারকে এক ভেবে থাকেন। কফে রক্ত আসার ক্ষেত্রে মূলত আঠালো কফ ও তাতে রক্তের ছিটাকেই বোঝায়। কখনো এই রক্তের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়। রক্তবমির ক্ষেত্রে সমস্যা পাকস্থলীতে হয়। কখনো এই রক্ত কালো হতে পারে, কখনো স্বাভাবিক রঙের হতে পারে। 

সাধারণত, হজমের সমস্যা এবং পাকস্থলীর নানা সমস্যার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। অন্যদিকে কফে রক্ত আসার পেছনে থাকে পুরোপুরি অন্য কারণ।

কাশির সঙ্গে রক্ত কখন যায়?

মূলত ফুসফুস ও শ্বাসনালির যেকোনো অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হলেই, তা কাশির সঙ্গে কফের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। কারণ কফের উৎপত্তি হয় এখানে। তাই শুধুমাত্র টিবি বা যক্ষ্মা রোগ নয়, অন্য কারণেও যেকোনো কারণে ফুসফুসের রক্তনালির ক্ষতি হলে তা থেকে রক্ত বের হতে পারে। অন্য যে কারণগুলোতে রক্ত যেতে পারে তা জেনে নিন।

ব্রঙ্কাইটিস

ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালির প্রদাহ। এটি বেশিরভাগক্ষেত্রে সহজেই সেরে যায়। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া খুবই প্রয়োজন।

ব্রঙ্কিয়েকটেসিস

এই অসুখে শ্বাসনালির স্থায়ী ক্ষতি হয়। এক্ষেত্রে শ্বাসনালির মধ্যে বারবার সংক্রমণ হয়। সেকারণে রোগীকে প্রায় সারাজীবনই কষ্টে ভুগতে হয়।

নিউমোনিয়া

এটি ফুসফুসের একধরণের প্রদাহ ও সংক্রমণ। বিভিন্ন কারণে এই অসুখ হতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে সমস্যা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

ফুসফুসের ক্যান্সার

শুধু ফুসফুসেই যে এই ক্যান্সার হতে পারে এমন নয়। অর্থাৎ শরীরের অন্য কোনো অংশের ক্যান্সারও ফুসফুসে ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া হার্টের ভাল্বের কিছু সমস্যা, হার্টের প্রদাহ হলেও কাশির সঙ্গে রক্তপাত হতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে

নারীদের ক্ষেত্রে ইউটেরাসের ভিতরের আবরণ মাঝে মাঝে ফুসফুসে চলে আসে। ফলে প্রতিবার স্বাভাবিক মাসিকের সময় হলে সেখান থেকে রক্তপাত হয়, যা কফের সঙ্গে বেরিয়ে আসে।

বিবিধ

আবার অন্ত্রের কৃমি ফুসফুসে গেলেও রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। হৃদরোগের চিকিৎসায় যারা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ নিয়মিত দীর্ঘদিন ধরে খেলে শরীরের যেকোন জায়গার পাশাপাশি ফুসফুস থেকেও রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়ে। কোকেন জাতীয় মাদক দ্রব্য ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রেও এই একই আশঙ্কা দেখা যায়। এছাড়া আঘাতজনিত কারণেও রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে।

সমস্যাটি চিহ্নিত করবেন কীভাবে?

এগুলোর মধ্যে আপনার কফে রক্ত আসার কারণ কোনটি সেটা জানতে চিকিৎসকেরা-

১)  আপনার পরিবারে এমন সমস্যা আগেও ছিল কি না সেটা জানার চেষ্টা করবেন।

২) সমস্যা আরও ভালোভাবে বুঝতে এক্স রে, সিটি স্ক্যান ও ইউরিন টেস্ট করতে হতে পারে।

৩) বাড়তি কিছু পরীক্ষা, এই যেমন- ব্রোংকোসকপি ( নাক বা মুখের মধ্য দিয়ে পাইপ প্রবেশ করিয়ে ভেতরটা দেখা হবে, যাতে করে সেখানে কোনো সমস্যা আছে কি না তা বোঝা যায়), পালস অক্সিমেট্রি (শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ বোঝার জন্য), নানারকম রক্তপরীক্ষা ইত্যাদি করবেন।

৪) এই সমস্যার প্রতিকার হিসেবে রক্তপাত বন্ধ করতে চিকিৎসকেরা আপনাকে কিছু ওষুধ দিতে পারেন। তবে সবক্ষেত্রে ওষুধ কাজ করবে এমনটা নয়। সেক্ষেত্রে, কেমোথেরাপি বা স্টেরয়েড নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।

তবে হ্যাঁ, এই সবগুলো পদ্ধতি ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, যদি আপনি দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করেন। যতটা দেরি করা হবে, এক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি বাড়বে। তাই, আপনার যদি কফে রক্ত আসার এমন সমস্যা থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।