• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ সকাল

সুস্থ থাকতে হাঁটুন!

  • প্রকাশিত ০৩:২৯ বিকেল জানুয়ারী ১১, ২০২০
হাঁটা
সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের স্ট্রোক এসোসিয়েশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটেন তাদের উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়

হাঁটা একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। এছাড়া আমাদের সাস্থ্য ভালো রাখার অন্যতম উপায় হলো হাটা। হাঁটা আপনার স্বাস্থ্য, শরীর মন সবকিছুই ভালো রাখতে পারে। হাঁটলে শারীরিকভাবে ভালো থাকার পাশাপাশি ত্বকও ভালো থাকে। একইসঙ্গে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই কেবলমাত্র হেঁটেই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন আপনি।

কত সময় হাঁটবেন?

অবশ্যই কমপক্ষে আমাদের সুস্থ শরীরের জন্য ৩০ মিনিট হাঁটা উচিত। তবে প্রতিদিন না হাঁটলে হবে। আপনি সুস্থ থাকবেন যদি আপনি সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে ১৫০ মিনিট হাঁটেন। একজন মানুষের সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটা জরুরি। যাদের শারীরিক অবস্থা ভালো, তাঁরা বেশি সময় ধরেও হাঁটতে পারেন। শারীরিক সক্ষমতার ওপর বেশি সময় হাঁটতে পারেন। কিন্তু কখনোই ৩০ মিনিটের কম হাঁটা উচিত নয়। কারও যদি একবারে ৩০ মিনিট হাঁটার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে তিনবার—প্রতিবার ১০ মিনিট করে ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন। অথবা একবার ২০ মিনিট, অন্যবার ১০ মিনিট করে ৩০ মিনিট। যেভাবে হোক আপনার ৩০ মিনিট সময় পূরণ করতে হবে। 

শুধুমাত্র হাঁটার মাধ্যমে আপনি আপনার মানসিক ও শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে পারেন।

সুস্থ হৃদপিণ্ড, সুন্দর জীবন

যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন তাদের হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া হাঁটার সময় শরীর থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিআর কমে যায় ও ভালো কোলেস্টেরল এইচডিআর-এর মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়া শরীরের রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে।

যুক্তরাজ্যের স্ট্রোক এসোসিয়েশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটেন, তাদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে ডাক্তারের পরামর্শে তারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন। মজার কথা এতে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে যায়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিয়মিত হাঁটলে ৬০ ভাগ পর্যন্ত কোলন ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। এটা স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো।

ওজন নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ ব্যায়াম

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন রকম ব্যায়াম করতে দেখা যায়। যদি ওজন কমাতে চান, তবে প্রতিদিন ৬০০ ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলতে হবে। যেটা একদিনের খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালরির চেয়ে বেশি। যার ওজন ৬০ কেজি তিনি যদি প্রতিদিন ঘণ্টায় ২ মাইল গতিতে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন, তবে ৭৫ ক্যালরি শক্তি ক্ষয় করতে পারেন। যদি ঘণ্টায় ৩ মাইল গতিতে হাঁটতে অভ্যস্ত হন তবে, ৯৯ ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলতে পারেন। ঘন্টায় ৪ মাইল গতিতে হাঁটলে আরও বেশি ক্যালরি ক্ষয় করতে পারবেন। এতে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫০। হাঁটলে দেহের পেশীগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সাধারণত মানুষের স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ৬৫ বা এর বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১৪ জনের মধ্যে ১ জনের স্মৃতিভ্রম হয়। আর ৮০ বা এর বেশি বয়সীদের ৬ জনের মধ্যে ১ জনের দেখা দেয় স্মৃতি হারানোর রোগ। নিয়মিত বিভিন্ন ব্যায়াম অনুশীলনে মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বাড়ে। এতে স্মৃতিহানি হওয়ার ঝুঁকি ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়। যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের মধ্যে যারা সপ্তাহে অন্তত ৬ মাইল পথ হাঁটেন তাদের স্মৃতিশক্তি অটুট থাকে।

জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি নেই

নিয়মিত হাঁটাচলা করলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি কমে যায়। সাধারণত বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের শরীরের বিভিন্ন হাড় ও সংযোগস্থলে ব্যথা করে। শরীরের জয়েন্টগুলোকে সুস্থ রাখতে হাঁটা নিঃসন্দেহে খুবই কার্যকর ব্যায়াম।

যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকতে হবে–

হাঁটার ব্যাপারে কিছু বিষয় সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত, যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাঁটতে যাওয়া উচিত নয়। ঘুম থেকে উঠে কমপক্ষে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিন এরপর আস্তে-ধীরে হাঁটতে বের হোন। দেখবেন সকালে উঠলে আপনার দিনটাও আপনার কাছে বেশ বড় মনে হবে। যাদের সন্ধ্যায় বা রাতে হাঁটার অভ্যাস তারা অবশ্যই ঘুমানোর কমপক্ষে দু–তিন ঘণ্টা আগে হাঁটা শেষ করা উচিত।