• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

ক্যান্সারের জন্য দায়ী প্রতিদিনের কিছু সাধারণ কিছু ভুল

  • প্রকাশিত ০৫:০৪ সন্ধ্যা জানুয়ারী ১৩, ২০২০
কফি
খুব গরম চা বা কফিও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে পিক্সাবে

দৈনন্দিন এমন কিছু ভুল আমরা করে থাকি যাতে রয়েছে মারাত্মক রকমের ক্যান্সারের ঝুঁকি, তাই নিজেকে নিরাপদ রাখতে জেনে নিন সেই ভুলগুলো

মানুষকে যে রোগগুলো বেশি ভোগায়, তার মধ্যে ক্যান্সার সবচেয়ে ভীতিকর।  ক্যান্সার শরীরে একবার বাসা বেঁধে ফেললে রোগীকে বাঁচিয়ে ফেরানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। তাই ক্যান্সার নিয়ে সব মানুষকেই সতর্ক থাকতে হবে। 

জানেন কি, দৈনন্দিন এমন কিছু ভুল আমরা করে থাকি যাতে রয়েছে মারাত্মক রকমের ক্যান্সারের ঝুঁকি। তাই নিজেকে নিরাপদ রাখতে জেনে নিন সেই ভুলগুলো-

গরম চা-কফি: খুব গরম চা বা কপি আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যানসারে’ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে ফুটন্ত চা খাওয়ার প্রবণতা। যারা প্রায় প্রতিদিন ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার চা পান করেন, তাদের এই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৬৫ ডিগ্রির ওপর কোনো পানীয় খেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ফুয়েল টিউমার থেকে ক্যানসার ডেকে আনে।

প্লাস্টিক: আমরা নিত্যপ্রয়োজনে প্লাস্টিক বিভিন্ন পাত্র ব্যবহার করে থাকি। ঘরোয়া দূষণের অন্যতম উৎস হল এ প্লাস্টিক। প্লাস্টিকে বিসফেনল যৌগ থাকে। এই যৌগ খাদ্যদ্রব্য ও পানির সংস্পর্শে এসে সেগুলোকে দূষিত করে তুলতে পারে। এর ফলে প্রস্টেটের মতো অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে, গর্ভবতী মহিলাদের ভ্রূণেরও ক্ষতি হয়। সাধারণ কোনো প্লাস্টিকের বোতলে গরম পানি রাখলে বা প্লাস্টিকের পাত্রে মাইক্রোওভেনে খাবার তৈরি করলে অথবা পাত্রগুলোকে ডিটারজেন্টে ধুয়ে নিলে বিপিএ মুক্ত হয়।

চিনি: মাছ-মাংসের স্বাদ বাড়াতে আমরা তেলে চিনি ভেজে লাল করে নেই। মাংসের ঝোলে লালচে রঙ করার জন্য এটি খুব ব্যবহৃত পদ্ধতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি অত্যন্ত মারাত্মক। এমনিতেই চিনি সরাসরি ক্যানসারের কারণ কি না, তা নিয়ে বিশ্বে নানাবিধ গবেষণা চলছে। অনেকের মতেই চিনি কোষকে ভাঙতে সাহায্য করে। তাই চিনি খুব নিরাপদ নয়। আর চিনি ভাজলে চিনির কার্বন যোগ ভেঙে তা সরাসরি খাবারে মেশে। এ কারণেই চিনির পরিবর্তে লাল বাতাসা, গুড় অথবা মধু ইত্যাদি ব্যবহার করতেও পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস: অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকেও ক্যান্সার হতে পারে। মানসিক চাপ বেশি থাকলে ক্যান্সার আক্রান্তদের রোগ বেড়ে যায়। চাপমুক্ত থাকলে ক্যান্সার কমার পাশাপাশি চিকিৎসাতেও দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। মানসিক চাপ কমানো ছাড়া ক্যান্সারের চিকিৎসা অসম্ভব। বিশেজ্ঞদের মতে, এই স্ট্রেস শরীরকে ভেতর থেকে ক্লান্ত করে ও কোষগুলোকে কমজোরি করে। ফলে কোষ দ্রুত ভাঙতে শুরু করে এবং শরীরকে ক্যানসারের উপযোগী করে তোলে।

ধূমপান : তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের পরিবর্তে অনেকেই ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। অনেকেই ভেবে থাকেন, এটি ব্যবহারের ফলে কম ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ই-সিগারেটেও সমান ক্ষতি হয়। সাধারণ বিড়ি-সিগারেট ও ই-সিগারেট- সব ক্ষেত্রেই শরীরে ঢুকে পড়ে তামাক ও কার্বন। ক্যানসার দানাবাঁধার সবরকম উপাদান এতে রয়েছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মলিকিউলার সায়েন্সে’ প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ই-সিগারেটের অভ্যাসের কারণে মুখগহ্বরের টিস্যুতে নানারকম পরিবর্তন দেখা যায়। যে পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিকভাবেই ক্যানসার ডেকে আনে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার: প্যাকেটবন্দি মাছ, মাংস, সস, বেকন, সালামি ও হ্যাম আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এগুলোকে গ্রুপ-১ কার্সিনোজেন ও গ্রুপ-২-এ কার্সিনোজেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অত্যাধিক পরিমাণে এসব খেলে ক্যানসারের বীজ শরীরে ঢোকে।

দূষিত পরিবেশের মধ্যে থাকা: বাসা-বাড়িতে ধুলার মধ্যে থাকা। যা পরিবেশ দূষণ করে। দূষণের কারণে শরীরে কার্বনের নানা যৌগ জমে। এসব থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে ক্যানসার। তাই চলাচলের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাস্ক (বাজারে পাওয়া প্রচলিত মাস্ক নয়) কিনে ব্যবহার করা। দূষণ বেশি থাকলে বাড়ির চারপাশে বেশি করে গাছ লাগানো ও এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার ইত্যাদি উপায়ে দূষণ রুখতে হবে।