• শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ রাত

অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি

  • প্রকাশিত ১০:০৫ সকাল জানুয়ারী ১৬, ২০২০
প্রেটিন
প্রাণীজ প্রোটিন সংগৃহীত

গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি ৪ শতাংশ বেড়ে যায়। আবার বেশি মাংস খেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে

খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন অন্যতম। শরীরের তাপ উৎপাদন, দেহের হজমক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, দেহতন্তুর ক্ষতিপূরণ ও শরীরস্থ উপাদানসমূহ নির্মাণ প্রোটিন খাদ্যের কাজ। শরীর গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। আমাশয় রোগে প্রোটিন বিশেষ প্রয়োজন। তাছাড়া শরীরের বৃদ্ধি (গ্রোথ), দেহের পুষ্টি ও মেধা বাড়ানোর জন্য সহায়ক।

তবে গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি ৪ শতাংশ বেড়ে যায়। আবার বেশি মাংস খেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়ার ফলে বৃদ্ধি পাওয়া ক্যানসারের এই ঝুঁকির সঙ্গে বিজ্ঞানীরা দিনে ২০টি সিগারেট খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কতটা প্রোটিন খাওয়া হলে তা শরীরের জন্য অতিরিক্ত? বিভিন্ন গবেষণা বলছে, শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। যেমন- কারও ওজন যদি ৫০ কেজি হয় তাহলে দৈনিক তার ৪০ গ্রামের বেশি প্রোটিন খাওয়া ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের প্রোটিনের মাত্রা ঠিক রাখতে যেসব খাবার থেকে বেশি প্রোটিন পাওয়া পাওয়া সেসব খাবার খাওয়া কমাতে হবে। বিশেষ করে দুগ্ধজাত খাবার, পনির এসব খাবার খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে। তবে সেটা আবার এমন পরিমাণে কমানো যাবে না যাতে শরীরে অপুষ্টি দেখা দেবে।

এছাড়া অতিরিক্ত হাই প্রোটিন গ্রহণের ফলে নিম্নের স্বাস্থ্যসমস্যা হতে পারেঃ

১. শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় বাই-প্রডাক্ট হিসেবে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়। এতে দেহে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

২. একেকজনের শরীরে প্রোটিনের প্রভাব একেকভাবে পড়ে। তাই লিভার ও কিডনি রোগীদের প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।

৩. বডি বিল্ডার, গর্ভবতী ও দুধ পান করানো মা কিংবা সার্জারির রোগীদের প্রোটিন খাওয়ার ব্যাপারে আরো সতর্ক হওয়ার কথা বলেন স্বাস্থ্যবিশারদরা।

৪. অতিরিক্ত প্রোটিন বা কার্বোনেটযুক্ত খাবার শরীরে সহজে হজম হতে চায় না। এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ৫. প্রোটিন অতিরিক্ত খেলে কিডনিকে অতিরিক্ত বর্জ্য শরীর থেকে বাইরে পাঠাতে হয়। এতে কিডনি একপর্যায়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে কিনা তা বুঝতে হলে কিছুটা সচেতনতা প্রয়োজন- 

১. অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শ্বাস-প্রশ্বাসে উৎকট গন্ধ হয়। ভালোভাবে ব্রাশ করার পরও যদি সেই গন্ধ থেকে যায়, তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে।

২. অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শরীরের ওজন একপর্যায়ে বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রোটিন খাওয়ার মাত্রা কমিয়ে ওজন ঠিক রাখতে হয়। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে প্রোটিন গ্রহণের একটি মাত্রা নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত।