• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৪ সকাল

ত্বকের কয়েকটি রোগ ও তার প্রতিকার

  • প্রকাশিত ১২:১৫ দুপুর জানুয়ারী ১৬, ২০২০
ত্বক
সংগৃহীত

ত্বকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা, একটু সচেতনতা আর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমের আমরা ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরে পেতে পারি

সাধারণত ত্বক বলতে মানুষের শরীরের ওপরের আবরণে বুঝায়। মানুষের সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় উপাদান তার এই ত্বক। আমাদের ত্বককে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়। ধুলা-বালি, ময়লা, রোদ, বৃষ্টি এই সবকিছু আমাদের ত্বকের ওপর দিয়ে যায়। যার কারণে ত্বক হারায় তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য-ঔজ্জ্বল্য, হয়ে পড়ে মলিন ও নিষ্প্রাণ। আর এরফলে সৃষ্ট ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় আমরা অনেকেই হাতাশা ও দুশ্চিন্তায় ভুগি। সুতরাং আমাদের ত্বকে ভেসে ওঠা নানা ধরনের লক্ষণগুলো সম্পর্কে আমাদেরকে সবসময়ই সতর্ক থাকতে হবে।

তবে ত্বকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা, একটু সচেতনতা আর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমের আমরা ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরে পেতে পারি।

ব্রন

সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে এই রোগটি দেখা দেয়৷ তাই একে টিনএজারদের রোগও বলা যেতে পারে৷ ১৮ থেকে ২০ বছরের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এই রোগটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়৷ ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে তৈলাক্ত, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবারসহ চকলেট, আইসক্রিম ও অন্যান্য ফাস্টফুড খাওয়া কমাতে হবে৷ এছাড়া বেশি করে পানি ও শাক-সবজি খেতে হবে৷

মেছতা

মেছতার প্রধান কারণ ত্বকে মেলানিনের ভারসাম্যহীনতা। আমাদের ত্বকের নীচে মেলানিন নামক একধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে। কোনও কারণে ত্বকের বিশেষ জায়গায় এটির কার্যক্ষমতা বেশি হলে ত্বকের সেই অংশটি পার্শ্ববর্তী অংশের চেয়ে বেশি গাঢ় হয়ে যায়। ফলে ওই অংশটি কালো বা বাদামি থেকে হালকা বাদামি দেখায়। একে মেছতা বলে। এটি কোন এলার্জি ক্যান্সারও নয়, এটি ত্বকের সৌন্দর‌্যহানিকারক একটি রোগ। গালে, নাকের ওপরে, থুতনিতে উপরের ঠোঁটের উপরাংশে, গলায় ইত্যাদি জায়গায় মেছতা দেখা যায়। 

যেকোনো বয়সে মেছতা হলেও ১৫-১৬ বছরের কিশোর-কিশোরীদের বেশি হতে দেখা যায়। মেছতা পুরাপুরি প্রতিকার করা সম্ভর হয় না। তবে অবস্থার উন্নতি করা যায়। তাই মেছতা হলে প্রথমেই একজন ভাল ডার্মাটোলজিস্টকে দেখাতে হবে। মেছতা দুর করতে প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করুন। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। আর আপনি ক্যাফেইন জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত হলে তার চেয়েও বেশি পানি পান করুন। ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। শাকসবজি তাজা ও কাঁচা-পাকা ফল খেতে চেষ্টা করুন। মুখমণ্ডল ছাড়াও কারো যদি শরীরের অন্যান্য অঙ্গে মেছতার প্রকোপ বেশি থাকে তবে তাকে আঠালো বা ভুট্টা জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো।

বলিরেখা

চোখের তলায়-মুখের দুইপাশ ও কপালে ভাঁজ, চোয়ালের ত্বক ঝুলে যাওয়া, খোলা রোমকূপ, নির্জীব ত্বক এসবের কারণে বয়সের তুলনায় কাউকে বেশি বয়সী মনে হওয়াকেই বলিরেখা বা এজিং সমস্যা বলি। বলিরেখার প্রধান কারণ হল সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি। তাই রোদকে এড়িয়ে চলুন। এছাড়া অতিরিক্ত নামসিক চাপ, ধূমপান, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, রাতজাগা ইত্যাদির করণে বয়সের ছাপ দেখা দেয়। এগুলো এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পানি পান করুন, সবুজ শাক-সবজি খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস করুন।

দাদ

শরীরের যেকোনো স্থান ফাংগাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে৷ অধিকাংশক্ষেত্রে একে দাদ বলে৷ এই আক্রমণ মাথার চামড়ায়, হাত-পায়ের আঙুলের ফাঁকে কিংবা কুঁচকিতে হতে পারে৷ এটা ছোয়াঁচে রোগ৷ আক্রান্ত স্থান চাকার মতো গোলাকার হয় এবং চুলকায়৷ মাথায় দাদ দেখতে গোলাকার হয় এবং আক্রান্ত স্থানে চুল কমে যায়৷ প্রতিকার পেতে সাবান ও পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান প্রতিদিন ধুতে হবে৷ এছাড়া আক্রান্ত স্থান শুকনো রাখা জরুরি৷ অনেক সময় ব্যবহৃত সাবান থেকেও দাদ হতে পারে, সেক্ষেত্রে সাবান ব্যবহার কিছুদিন বন্ধ রাখতে হবে৷

পাঁচড়া

শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়৷ পরিষ্কার কাপড়-চোপড় ব্যবহার ও নিয়মিত গোসল করলে খোস-পাঁচড়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়৷

একজিমা

একজিমা হলো ত্বকের এমন একটি অবস্থা যেখানে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়৷ একেক ধরনের একজিমার লক্ষণ একেক রকম হয়৷ তবে সাধারণভাবে লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক; শুষ্ক, খসখসে ত্বক; ত্বকে চুলকানি; হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি ইত্যাদি হলো একজিমার লক্ষণ৷

ডার্ক স্পট

হঠাৎ করেই ত্বকে আবির্ভূত ডার্ক স্পট হতে পারে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির বহিরাংশের নিষ্ক্রিয়তাজনিত এক মারাত্মক ব্যাধির লক্ষণ। এই রোগে আক্রান্ত হলে লোকের মাংসপেশী এবং জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এতে ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা ও ওজন হ্রাসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ঘামাচি

গরমের সময় ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা৷ জাতীয় ই-তথ্যকোষে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘামাচি সাধারণত তখনই হয় যখন ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যায়, ঘাম বের হয় না এবং ত্বকের নীচে ঘাম আটকে যায়৷ এর ফলে ত্বকের উপরিভাগে ফুসকুড়ি এবং লাল দানার মতো দেখা যায়৷ কিছু কিছু ঘামাচি খুব চুলকায়৷ ঘামাচি সাধারণত এমনিতেই সেরে যায়৷ তবে ঘামাচি সারানোর জন্য ত্বক সবসময় শুষ্ক রাখতে হবে এবং ঘাম শুকাতে হবে৷

আর্সেনিকের কারণে চর্মরোগ

আর্সেনিকযুক্ত পানি খেলে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ যেমন ত্বকের গায়ে ছোটছোট কালো দাগ কিংবা পুরো ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে, হাত ও নখের চামড়া শক্ত ও খসখসে হয়ে যেতে পারে৷ এছাড়া ত্বকের বিভিন্ন স্থানে সাদা-কালো দাগ দেখা দেওয়াসহ হাত ও পায়ের তালুর চামড়ায় শক্ত গুটি বা গুটলি দেখা দিতে পারে৷ 

তবে চিন্তার বিষয় হলো, আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের শেষ পরিণতি হতে পারে কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা লোপ পাওয়া; ত্বক, ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসার হওয়া; কিডনির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি৷