• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৩ দুপুর

কোন কোন দেশের মানুষ বেশিদিন বাঁচে!

  • প্রকাশিত ০৯:৫৫ রাত জানুয়ারী ২৭, ২০২০
গড় আয়ু
দক্ষিণ কোরিয়াই প্রথম দেশ যেখানকার মানুষের গড় বয়স প্রথমবারের মতো ৯০ ছুঁয়েছে। সংগৃহীত

স্পেনীয়দের দীর্ঘায়ু লাভের অন্যতম রহস্য হলো, সিয়েস্তা বা দিবানিদ্রা। অফিস-আদালতসহ সব জায়গাতেই দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করার পর, বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ফের কাজে যোগ দেন তারা!

মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে বেশ এগিয়েছে বিশ্ব। এরমধ্যে যেসব দেশ এগিয়ে আছে সম্প্রতি তার ওপর যুক্তরাজ্যের একটি সংবাদ সংস্থা বিভিন্ন দেশ ঘুরে সেখানকার মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেসব দেশ সম্পর্কে।

জাপান 

জাপানের মানুষ গড়ে ৮৩ বছর বাঁচেন। জাপানিরাই বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘায়ু হন। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জকে বলা হয় “দ্য ল্যান্ড অব ইমরটালস” বা “অমরদের দেশ”। দক্ষিণ জাপানের এই দ্বীপপুঞ্জে একটি বিশ্ব দীর্ঘায়ু গবেষণাকেন্দ্র আছে। কেননা এই দ্বীপপুঞ্জে ১০০ বছর বয়সী মানুষ আছেন ৪০০ জন। 

এই দ্বীপপুঞ্জের মানুষদের দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য লুকিয়ে আছে তাদের স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসে। এখানকার বাসিন্দারা প্রতিদিন “টফু” নামের একটি বিশেষ ছানা জাতীয় খাবার এবং মিষ্টি আলু ও অল্প পরিমাণে মাছ খায়। সয়া দুধ থেকে বানানো হয় এই টফু নামের খাবার। এছাড়া তাদের দীর্ঘায়ু হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বয়স্কদের সামাজিকচক্র ও শক্তিশালী সম্প্রদায়বদ্ধ জীবনযাপন। এখানকার মানুষরা সম্প্রদায়বদ্ধভাবে জীবনযাপন করে বলে তাদের মানসিকচাপ কম এবং একাত্মতার অনুভূতি প্রবল থাকে। যা তাদের জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে এবং আরও বেশিদিন বেঁচে থাকতে সহায়তা করে।

স্পেন

ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস স্পেনীয়দের দীর্ঘায়ু হওয়ার মূল রহস্য। যাতে রয়েছে হৃদপিণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল, সবজি ও সুস্বাদু ওয়াইন। তবে স্পেনীয়দের দীর্ঘায়ু লাভের আরেকটি রহস্য হলো- সিয়েস্তা বা দিবানিদ্রা। স্পেনের মানুষ প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘুমান। অফিস-আদালতসহ সব জায়গাতেই তাদের কাজের শিফট এভাবেই বণ্টন করা থাকে। দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করার পর বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ফের কাজে যোগ দেন স্পেনের মানুষ। 

এছাড়া স্পেনীয়রা প্রচুর হাঁটেন। বাজারে বা দোকানে তারা পায়ে হেঁটেই যান। অফিসে যেতেও লোকে বেশিরভাগই গণপরিবহন ব্যবহার করেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বরং বাইসাইকেলে চড়ে যাতায়াত করেন।

সিঙ্গাপুর

দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই উন্নত। আর এই চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণেই নাকি সিঙ্গাপুরবাসী গড়ে ৮৩.১ বছর করে বাঁচেন। দেশটিতে মাতৃ ও শিশু মৃত্যর হারও খু্বই কম। দেশটির স্বাস্থ্যসেবার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো রোগ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা করা। দেশটির সংস্কৃতি ও সহজে প্রবেশযোগ্য শহুরে পরিবেশও সেখানকার মানুষদের দীর্ঘায়ু হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

এছাড়া সিঙ্গাপুরবাসী নিয়মিতভাবে জিম ও পার্কে গিয়ে শরীরচর্চা করেন। সম্প্রতি দেশটিতে প্রথম একটি থেরাপিউটিক পার্ক খোলা হয়েছে। এটি স্থাপন করা হয়েছে, বয়স্কদের মানসিকচাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে। দেশটিতে ধূমপান ও মদপানের মতো স্বাস্থ্য ধ্বংসকারী অভ্যাসও বেশ ব্যয়বহুল। দেশটিতে সিগারেট ও মদের দাম অনেক বেশি রাখা হয়। সরকার কর বাড়িয়ে দিয়ে এসবের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুইৎজারল্যান্ড

দেশটির মানুষ গড়ে ৮১ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। ইউরোপের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি এই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই উন্নত। দেশটির বাসিন্দারা পনির ও দুধ জাতীয় খাদ্য বেশি খান। এটিও তাদের দীর্ঘায়ু হওয়ার একটি অন্যতম কারণ বলে বিবেচিত হয়। দেশটির মানুষরা ক্যারিয়ার খুব বেশি সচেতন হওয়া সত্ত্বেও তাদের অবসর কাটানোর সুযোগ আছে প্রচুর। সপ্তাহান্তের ছুটিতে পুরো ইউরোপ ও আল্পস পর্বতমালায় ভ্রমণে যাওয়া যায়। 

দক্ষিণ কোরিয়া 

দক্ষিণ কোরিয়াই প্রথম দেশ যেখানকার মানুষের গড় বয়স প্রথমবারের মতো ৯০ ছুঁয়েছে। দেশটির শক্তিশালী ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিই এর কারণ বলে অনেকের ধারণা। দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খুবই উন্নত এবং গণমানুষের সেবায় নিয়োজিত। আর পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার মানুসের রক্তচাপ অনেক কম যা তাদের দীর্ঘায়ু হওয়ার আরেকটি বড় কারণ। 

আর দেশটির মানুষদের খাদ্যাভ্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে ফার্মেন্টেড বা মজানো খাবার। যা দেহে কোলোস্টেরল কমিয়ে রাখে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আর কোরিয়ানরা আঁশযুক্ত ও পুষ্টিতে ঠাসা খাবার বেশি খান। 

সম্প্রদায়বদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ জীবন-যাপনের ফলে তাদের জীবনের গুণগত মানও বেশি। দেশটির গণগোসলখানাগুলো মানুষকে আরও বেশি সামাজিকতা ও বিনোদন যোগায়। এছাড়া বৌদ্ধসংস্কৃতি থেকে আসা মনোযোগী ও সহযোগিতার মনোভাবও তাদের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করেছে। দেশটির মানুষেরা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার চেয়ে বরং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাবই লালন করেন বেশি। এসব কিছু তাদের দীর্ঘায়ু হতে সহায়ক হয়।