• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

আত্মহত্যার বন!

  • প্রকাশিত ০৮:২৭ রাত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০
আত্মহত্যা
১৯৫০ সাল থেকে এপর্যন্ত ৫শ’র মতো মানুষ এখানে আত্মহত্যা করেছেন। সংগৃহীত

এই বনের মাটিতে ম্যাগনেটিক আয়রনের পরিমাণ এতই বেশি যে সেলফোন সার্ভিস মোটেও কাজ করে না। জিপিএস সিস্টেম তো দূরের কথা, কম্পাসও এখানে অচল!

অতিপ্রাকৃত এই বনটির অবস্থান জাপানের ফুজি পর্বতমালার উত্তর-পশ্চিমে। গাছপালার প্রাচুর্যের জন্য কেউ বলে “সি অফ ট্রিজ” বা “বৃক্ষ-সাগর"। তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত “সুইসাইড ফরেস্ট” বা “আত্মহত্যার বন” নামে।

আত্মহত্যার বিষয়টি বাদ দিলেও অওকিগহারা বা সুইসাইড ফরেস্টে ভ্রমণোপযোগী পরিবেশ রয়েছে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। গভীর ও সুবিশাল এই বনে একবার ঢুকলে বের হওয়ার রাস্তা পাওয়া খুব মুশকিল। অদ্ভুতরকমের মোচড়ানো ও বাঁকানো আকৃতির গাছগুলো যেন বনের রহস্য আরও বাড়িয়ে দেয়। গাছের শেকড়গুলো জালের মত আঁকড়ে রেখেছে পুরো বনের মাটি। 

বলা যায়, জাপানের লোকসাহিত্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে এই অওকিগাহারা বন বা সুইসাইড ফরেস্ট। অনেকের বিশ্বাস ইউবাসিউটে মৃত বৃদ্ধদের অতৃপ্ত আত্মা এখনো ঘুরে বেড়ায় এই বনে এবং এই আত্মাগুলো এতটাই প্রতিহিংসাপরায়ণ যে ঘুরতে আসা পর্যটকদের পথভ্রষ্ট করে দেয় ও আত্মহত্যায় প্রলুব্ধ করে।

অওকিগাহারার মাটিতে ম্যাগনেটিক আয়রনের পরিমাণ এতই বেশি যে সেলফোন সার্ভিস মোটেও কাজ করে না। জিপিএস সিস্টেম তো দূরের কথা এমনকি কম্পাসও এখানে অচল। এজন্যই টেপ বা প্লাস্টিকের ফিতা ব্যবহার করা ছাড়া অন্যকোনো উপায় নেই।

১৯৫০ সাল থেকে এপর্যন্ত ৫শ’র মতো জাপানি এখানে আত্মহত্যা করেছেন। কেবল ২০০২ সালেই ৭৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এখান থেকে। ২০০৩ সালের দিকে আত্মহত্যার হার বেড়ে যায় এবং তারপর থেকে জাপানি সরকার আত্মহত্যার হার প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে। 

২০০৪ সালে ১০৮ জন এখানে আত্মহত্যা করে এবং ২০১০ সালে ২৪৭ জন লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করে যারমধ্যে ৫৪ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। ২০১১ সালের দিকে যারা আত্মহত্যা করেছে তাদের অধিকাংশ গলায় ফাঁস দিয়ে অথবা বেশি পরিমাণে মাদক নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।