বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনেক কিছুরই প্রথম রূপকার রবি ঠাকুরের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সৃষ্টি হয়
আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী। ৮০ বছর আগে ১৯৪১ সালের ৬ আগস্ট, বাংলা ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বাংলা সাহিত্য ও কাব্যগীতির শ্রেষ্ঠ রূপকার পরলোকগমন করেন।
নিজের অনবদ্য সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে জায়গা করে নিয়েছেন বাঙালির মণিকোঠায়। তাই বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মানুষই কবিগুরুকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে থাকেন।
করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার আগে প্রতি বছরেই বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হতো। কিন্তু গত বছরের মত এই বছরেও সার্বিক কোভিড পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউনের কারণে সীমিত পরিসরে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের পাশাপাশি অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং কবি ভক্ত-অনুরাগীরা দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিকে স্মরণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ, ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর ১৩ সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠতম ছিলেন।
৮ বছর বয়স হতে কবিতা লেখার হাতে খড়ি হয় তার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৮৭৪ সালে "অমৃত বাজার" নামের একটি দ্বিভাষিক পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
রবি ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনেক কিছুরই প্রথম রূপকার। তার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সৃষ্টি হয়। বাংলা গদ্যের আধুনিকায়নের পথিকৃৎ ছোটগল্পের জনকও তিনি। সব মিলিয়ে তার সাহিত্য জীবন ছিলো সাত দশকেরও বেশি। এই সময়ে তিনি প্রায় দুই হাজারের বেশী সংগীত লিখেছেন, বাংলা সাহিত্যে তা পরিচিত রবীন্দ্র সংগীত হিসেবে। এছাড়া, ৮টি উপন্যাস, ৮৮টি ছোটগল্প, ৫৬টি কাব্যগ্রন্থ, ২৯টি নাটক, ১৬টি প্রবন্ধ ও অসংখ্য কবিতা লিখেছেন তিনি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা" ও ভারতের জাতীয় সংগীত "জন গণ মন" দুটিরই রচয়িতা তিনি। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীতের রচয়িতা ও সুরকারও তিনিই।
বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন রবি ঠাকুর। "গীতাঞ্জলী" কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাঙালি, এশীয় ও অ-ইউরোপীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চা ছড়িয়ে দিতে এবং ভবিষ্যৎ শিল্পী-সাহিত্যিক তৈরির লক্ষ্যে ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনে গড়ে তোলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।
দরিদ্র কৃষককে ঋণ দেয়ার লক্ষ্যে নোবেল পুরস্কারের অর্থে কৃষি ব্যাংকের কাজ শুরু করেন তিনি। বঙ্গভঙ্গ রদের দাবিতে তিনি হিন্দু-মুসলমানদের নিয়ে রাখিবন্ধন কর্মসূচিতে রাজপথে নেমে আসেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে "নাইট" উপাধি দিলেও ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
মতামত দিন