“এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ……মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।” পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব, পহেলা বৈশাখ মানেই রঙিন উৎসবে বাঙালির প্রাণের সঞ্চার। কবিগুরুর এই গান নিয়েই বাঙালির মনে প্রাণের সঞ্চার করতে এবারও এসেছিল বৈশাখ, আবার চলেও গেছে। কবিগুরুর এই গানের সঙ্গে সব গ্লানি ও ব্যর্থতা নিয়ে ১৪২৬ বিদায় হয়েছে কিনা জানি না, তবে অগ্নিস্নানে শুচি হয়নি এবার এ ধরা, বরং করোনাভাইরাস নামের এক প্রাণঘাতী জরা নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ঘরবন্দি বিষণ্ণ বাঙালি ১৪২৭ এর প্রথম দিনটি পার করেছে। এমন বিষাদময় বৈশাখ বাঙালি কতদিন পরে দেখেছে বা আদৌ দেখেছে কি না জানা নেই। প্রাত্যহিক জীবনের তালই যেখানে কেটে গেছে, সেখানে ১৪২৭ এর পহেলা বৈশাখের ভোর বাঙালির জীবনে এবার আর দশটা বৈশাখের মত যে একই আবেগ নিয়ে আসবে না সেটাই স্বাভাবিক। পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে কেটে গেছে এমনই বিষণ্ণতায় ভরা আরও ক'টি দিন। বছর ঘুরে আজ আবার এসেছে সেই দিন, ২৫ বৈশাখ। আজ রবির আলোয় উদ্ভাসিত ২৫ বৈশাখ! বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে কবির জীবদ্দশায় পালিত জন্মদিনগুলোতে কবিগুরুর অনুভূতি সম্পর্কে এক অসাধারণ প্রবন্ধ লিখেছিলেন রুদ্র মাহমুদ। সেই প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ তার ৫০তম জন্মদিবসে কীভাবে নিজেকে আলোক প্রভায় প্রকাশ করেছিলেন তার সুন্দর বর্ণনা রয়েছে- কবি বলেছিলেন, “আজ আমার জন্মদিনে তোমরা যে উৎসব পালন করছো তার মধ্যে যদি সেই কথাটি থাকে তোমরা যদি আমাকে আপন করে পেয়ে থাকো আজ প্রভাতে সেই পাওয়ার আনন্দকেই যদি তোমাদের প্রকাশ করবার ইচ্ছে হয়ে থাকে তাহলেই এই উৎসব স্বার্থক। আমার এই পঞ্চাশ বৎসর বয়সেও আমাকে তোমরা নতুনভাবে পেয়েছ, আমার সঙ্গে তোমাদের সম্বন্ধের মধ্যে জরাজীর্ণতার লেশমাত্র লৰণ নেই। তাই আজ সকালে তোমাদের আনন্দ উৎসবের মাঝখানে বসে আমার এই নবজন্মের নবীনতা অনন্তের বাইরে উপলব্ধি করছি।” তবে কি আজ কবিগুরুর এ জন্মজয়ন্তীতে আমাদের মাঝে জরাজীর্ণতা বাসা বেঁধেছে। কবিগুরুর গান, কবিতা আর অমর বাণীর সুর সত্যিই কি এবার বাঙালির প্রাণকে আন্দোলিত করবে না? বাঙালির জীবনে কি তবে এ বিষণ্ণ, বিমর্ষ মুহূর্তে কবিগুরু অনুপস্থিত? অবশ্যই না। বরং ঠিক তার উল্টোটা! বাঙালির চিন্তায়, চেতনায়, মননে – এক কথায় সমগ্র সত্তাজুড়েই রবীন্দ্রনাথ প্রবলভাবে বিরাজমান। বাঙালি জীবনে কোথায় নেই কবিগুরু? রবীন্দ্রনাথ আমাদের জাতীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে জীবনের সব উৎসবে, সব আনন্দে, সব শোকে, মিশে আছেন তার সঙ্গীতে। তাই আজ এ শোকে কবিগুরুকে আরও বেশি প্রয়োজন। কারণ সেই ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ৭ মে ১৮৬১, কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়েছিল, আর ৮০ বছর ৩ মাস বয়সে ১৯৪১ সালের ৬ আগস্ট, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে যে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি খসে পড়েছিল, তিনি তো শুধু রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে, উদীচী কিংবা শিল্পকলা একাডেমির আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নন, তিনি বাঙালির আনন্দ-উচ্ছ্বাসে যতটা, প্রেম-প্রকৃতি আর ভালোবাসায় যতটা, তাদের দুঃখ-বেদনা, আশা-নিরশায় তার চাইতেও বেশি আপন। রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বিরাট প্রেরণা হয়ে ছিল। বিশ্বে খুব কম কবিই এরকমভাবে কোনো দেশের জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামকে প্রভাবিত করতে পেরেছেন। বাংলা, বাঙালি আর রবীন্দ্রনাথ এক সুতোয় গাঁথা। বাংলা কবিগুরুর মা, কবির সোনার বাংলা, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, প্রতিটি বাঙালির সোনার বাংলা। আর কবিগুরুর এ সোনার বাংলা আজ যখন জরাগ্রস্ত, আমাদের মা-মাতৃভূমি আজ যখন করোনাযুদ্ধে ভারাক্রান্ত তখনইতো কবিগুরুকে সবচাইতে বেশি প্রয়োজন। তিনি তো এ মায়ের মলিন মুখ দেখেই নয়ন জলে ভাসিয়েছেন: “মা তোর বদনখানি মলিন হলে/ আমি নয়ন...../ও মা আমি নয়ন জলে ভাসি/ সোনার বাংলা...... আমি তোমায় ভালবাসি/ আমার সোনার বাংলা/ আমি তোমায় ভালোবাসি।” দেড়শ' বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও বাঙালি মানসে এখনো তিনি দিবাকরের মতো সমান সমুজ্জ্বল, তাঁর কিরণ আজো চির অম্লান। আজও কবিগুরুর গান ও কবিতা বাঙালির অনুপ্রেরণা ও নতুন আশার বাণী। আজ যখন সমগ্র জাতি বিমর্ষ, মৃত্যু আতঙ্ক যখন বাঙালি তথা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অন্তরে, তখন সেই মৃত্যুকে জয় করবার সাহসটুকুর জন্যই কবিগুরুকে দরকার। দরকার রবীন্দ্রনাথের লেখা, দর্শন, চিন্তাচেতনা, আলোকছটার ঔজ্জ্বল্য-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বিভিন্ন লেখায় সৃষ্টি দিয়ে মৃত্যুকে জয় করার কথা বলেছেন। মৃত্যুঞ্জয় কবিতায় তিনি লিখেছেন, যত বড়ো হও, তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও, আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে, যাব আমি চলে। আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন, মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয়/সে প্রাণ অমৃতলোকে/মৃত্যুকে করে জয়। তার এ অমর বাণীতে মৃত্যুঞ্জয়ী হতেই তো, কর্মে ধ্যানমগ্ন মানুষের কল্যাণে জীবন বিলিয়েছেন ডা. মঈন উদ্দিন, সৃষ্টি করেছেন এক আত্মত্যাগের মহিমা। দেশের সকল চিকিৎসক আজ তাই ঐক্যবদ্ধ, এই মহামারিতে জীবন বাজি রেখে সেবা দিতে তারা আজ দৃঢ়চিত্ত। এখানেই কবিগুরুর বাঙালি সত্ত্বাজুড়ে প্রবলভাবে বিরাজমান থাকার প্রমাণ। চারিদিকে আজ যখন শুধু অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগ; এতদিন কাজের চাপে ঘুমের ফুরসত মিলত না যে ঢাকাবাসীর সেই কর্মব্যস্ত নাগরিকদের জীবনে এখন অফুরন্ত সময়, অথচ চোখ থেকে ঘুম হয়েছে উধাও। এ দিশেহারা নির্ঘুম রাএিতে কবিও যে আমাদের শোকে সমব্যথী: “দিন যায়, রাত যায়, সব যায় আমি বসে হায়! দেহে বল নাই, চোখে ঘুম নাই শুকায়ে গিয়াছে আঁখিজল। একে একে সব আশা ঝরে ঝরে পড়ে যায় সহে না যাতনা॥” আবার এ বেদনা আর যাতনা থেকে উত্তরনের উদদীপনাও কবি, তাইতো কবি বলেছেন: “বেদনা থেকে যে আনন্দের উৎপত্তি, সে আনন্দের তুলনা নেই।” সেই তুলনাহীন আনন্দের আশাই যে এখন বেঁচে থাকবার অনুষঙ্গ। মহামারির এ মৃত্যু মিছিলেও আজ চারপাশে যে অশুভ শক্তি, চারপাশে যে অস্থির মানসিকতা, যে স্বার্থপরতা, যে বিধ্বংসী নানা কিছু আমরা দেখছি, তা রুখতে হলে রবীন্দ্রনাথকে আমাদের এখন আরো বেশি প্রয়োজন। তার সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীত, জীবনদর্শন, মানবতা, ভাবনা- সবকিছুই সত্যিকারের বাঙালি হতে অনুপ্রেরণা দেয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সঙ্গীত জাগরণের বাণী হয়ে ধরা দিয়েছে বাংলায় যুগে যুগে। তার সৃষ্টি আজও নতুন, প্রাসঙ্গিক। করোনা নামের এক মহামারিতে বাঙালি যখন দিশেহারা; একদিকে প্রধানমন্ত্রী আর মানবদরদি বাঙালি তরুনদের, কী প্রাণান্ত পরিশ্রম, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে জীবন বাজি রেখে সেবা দিতে তারা আজ দৃঢ়চিত্ত। মানব সেবায় আত্মোৎসর্গের সুতীব্র অঙ্গীকার তাদের মাঝে। কারণ কবিগুরুই যে তাদের বলেছেন: “ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা। রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে আজকে যে যা বলে বলুক তোরে, সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা। আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা।” নবীনরা এসেছেন, এসেছেন মানবদরদী প্রবীণরাও, এমনকি নবীনদের সাথে সামান্য ভিক্ষুক পর্যন্ত তার সঞ্চয়ের টাকা তুলে দিয়েছেন প্রধানমণএীর হাতে। এ দানের পেছনেও প্রেরনার উৎস কবিগুরু: “প্রত্যেকের সাধ্যমতো যে ভালো সেই তাহার সর্বোত্তম ভালো, তাহার চেয়ে ভালো আর হইতে পারে না অন্যের ভালোর প্রতি লোভ করা বৃথা।” আবার কবিগুরু এও জানতেন এসবের মাঝেও একদল শুধুই বলবে, সমালোচনা করবে, আবার তারাই লোভী, তারাই অমানুষ, যেমনটি করছে মানুষ নামধারী চালচোরেরা। তাইতো তিনি ঐসব সমালোচকদের বলেছেন । “কাঁচা আমের রসটা অম্লরস— কাঁচা সমালোচনাও গালিগালাজ। অন্য ক্ষমতা যখন কম থাকে তখন খোঁচা দিবার ক্ষমতাটা খুব তীক্ষ্ণ হইয়া উঠে।” রবীন্দ্রনাথ ছিলেন শান্তির কবি, মানবতার কবি। শুধু কবিতা, গান কিংবা লেখনীতে নয়, কর্মের মাঝেও তিনি রেখে গেছেন তঁার মহীরূহপ্রততীম অবদানের প্রমাণ। নওগাঁর পতিসরে নিজের জমিদারির গরিব প্রজাদের নামমাত্র সুদে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে তিনিই প্রথম গ্রামীণব্যাংকের প্রতিষ্ঠা করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও পাবনার শাহজাদপুরে তার জমিদারিতে প্রজাদের কল্যাণের স্বার্থে আরও অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন রবীন্দ্রনাথ।বহুবার প্রজাদের খাজনা মওকুফ করে নিজে ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। নিজের অর্থে প্রজাদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছেন। আবার মানুষ নামধারী চালচোরদের কথা ভেবেই হয়ত কবি বলেছিলেন: “সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।” কিনতু তাইবলে কবিতো আমাদের হাল ছেড়ে দিতে বলেননি ।বিশ্বাসকে তিনি নষ্ট করেননি। জীবনস্মৃতি- বিলাত-এ তিনি বলেছেন- “যাহারা নিজে বিশ্বাস নষ্ট করে না তাহারাই অন্যকে বিশ্বাস করে।” আমাদেরও আজ বিশ্বাস করতে হবে। মানুষ নামধারী কিছু অমানুষের জন্য হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। বরং কবি ষেমনটি বলেছেন: “নির্দয় হবে না, কিন্তু কর্তব্যের বেলায় নির্মম হতে হবে।” আর যারা মানুষ নামধারী কিছু অমানুষের দোহাই দিয়ে শুধু সমালোচনা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার পহ্মে তারাও কিনতু সেই একই অমানুষদের দলে। তাই কে কি করেছে এসব নিয়ে ভাববার সময় আজ নয়।নিজের ষতটুকু বর্তমান আছে তাই নিয়ে আজ এ জরা জয় করবার সময়।কবিগুরুর ভাষায়: “অতীতকাল যত বড় কালই হোক নিজের সম্বন্ধে বর্তমান কালের একটা স্পর্ধা থাকা উচিত। মনে থাকা উচিত তার মধ্যে জয় করবার শক্তি আছে।” জয় করবার এই দৃঢ়চিত্ত নিয়েই কবিগুরুর সুরে সুর মিলিয়ে বলতে হবে— “কী পাইনি তারই হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি। বরং “মনেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক/সত্যেরে লও সহজে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এসব উক্তিতেই আজ আমাদের আপন সত্ত্বাকে খুঁজে নিতে হবে। তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি গুলোকেই পথ চলার সঙ্গী করে সামনে এগুতে হবে। রবীন্দ্রনাথের গান, পাঠ, আবৃত্তি ও নৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায়; আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে আজ কবিগুরুকে জনমজয়ন্তীর প্রাণের আবেগ ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় প্রকাশের সময় নয়। বরং বাঙালি জাতি, বাঙালির ভাষা ও সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, মন-মানসিকতা বিকাশে কবিগুরুর ষে অবদান সে অবদানের প্রতি ঋণ স্বীকার করতে হলে, প্রথম সারির যোদ্ধা হয়ে পরোপোকারীর মূল মন্ত্রে দিক্ষিত হয়ে জাতির এ ক্রাণতিকালে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। “ভয়ের তাড়া খেলেই ধর্মের মূঢ়তার পিছনে মানুষ লুকাতে চেষ্টা করে”, এভাবে শুধু মুখ লুকিয়ে নয় বরং “বিপদে মোরে রক্ষা করো/ এ নহে মোর প্রার্থনা, / বিপদে আমি না যেন করি ভয়।/ দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই বা দিলে সান্ত্বনা, / দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।” এ মন্ত্রে দিক্ষিত হয়েই ভয়কে জয় করতে হবে।তবেই মুছে যাবে গ্লানি, ঘুচে যাবে জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হবে ধরা। তবেই রবির আলোয় উদ্ভাসিত হবে ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী।
খন্দকার মোনতাসির হাসান সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় e-mail: [email protected]