প্রথমবারের মতো যৌন নিপীড়নবিরোধী আইন প্রণয়ন করছে সৌদি আরব
বিদেশ ডেস্কআন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়নে সৌদি আরবের সুরা কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটির অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া এই খসড়া আইনে যৌন হয়রানির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর আইনে সেখানে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপের সুযোগ ছিল না। সুরা কাউন্সিলের সদস্য লতিফা আল সালানকে উদ্ধৃত করে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, খসড়া বিলটি সৌদি আরবের আইনের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আরও বলেন, এটার মাধ্যমে একটি বড় আইনি শূন্যতা পূরণ হলো। যৌন হয়রানি রোধে এটা একটা বড় উদ্যোগ।
২০৩০ সাল নাগাদ তেল নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতি বহুমুখী করতে সৌদি আরবে পরিচালিত হচ্ছে সংস্কার উদ্যোগ। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছর নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব যা আগামী ২৪ জুন থেকে কার্যকর হবে। তবে সম্প্রতি ১১ জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে যাওয়া সুপরিচিত কর্মীরাও রয়েছেন। তারা দীর্ঘ দিন ধরে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার ও রক্ষণশীল দেশটির পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। সৌদি সরকারের দাবি, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সন্দেহমূলক যোগাযোগ চালানো জন্য এসব আন্দোলনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত্রুদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া ও দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সৌদি সরকার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও এখনও দেশটিতে নারীদের জন্য অন্যতম বড় বড় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখনও সৌদি আরবে নারীদের পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা প্রচলিত। আইন অনুযায়ী নারীদের পড়াশুনা, ভ্রমণ বা অন্য কোনও কাজের জন্য বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের অনুমতির দরকার পড়ে। সৌদি অ্যাকটিভিস্টদের দাবি নারী অধিকারের লড়াইয়ের জন্য এই অভিভাবকত্ব একটি বড় ইস্যু। ২০১১ সাল থেকে প্রায় ৩০ জন অ্যাকটিভিস্ট ও বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে সৌদি আদালত। এইচআরডব্লিউ এর মতে এদের অনেককেই ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।