পরিকল্পনামন্ত্রী: গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় অবিচারের শিকার
ট্রিবিউন ডেস্কবাংলাদেশ
সরকারি চিকিৎসকদের গ্রামে গিয়ে সেবা দিতে “অনিহার” বিষয়টি সামনে এনে হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার দুঃখ হয়, মেডিকেল প্রফেশন থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষের সেবার জন্য আমরা যতটুকু আশা করেছিলাম, ওই ধরনের সহায়তা আমরা পাইনি।”
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার (ইএসসি) আয়োজিত “বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ত্রুটি বিশ্লেষণ: ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের প্রাসঙ্গিকতা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চিকিৎসকদের অনিহার ফলে গ্রামের মানুষ “অবিচারের শিকার” হচ্ছে মন্তব্য করে এম এ মান্নান বলেন, “এতটা অবিচারের শিকার হওয়ার কথা তাদের ছিল না। সাধারণ মানুষের অর্থেই গত ৫০ বছরে আমরা বিশাল বড় অবকাঠামো গড়ে তুলেছি।”
সরকারি চিকিৎসকদের মধ্যে যাদের গ্রামে বা মফস্বলে পাঠানো হয়, তাদের নিয়মিত কর্মস্থলে না থাকার আভিযোগ অনেক পুরনো। এনিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন সময়ে সরকারি চাকরিতে থাকা চিকিৎসকদের হুঁশিয়ার করেছেন।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা যাতে হাসপাতালে বসেই প্রাইভেট প্রাকটিস করতে পারেন সেজন্য গতবছর একনেক সভায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সেপ্রসঙ্গ টেনে পরিকল্পনান্ত্রী বলেন, “হয়ত অন্তর্নিহিত বড় কোনো বাধা আছে, না হলে কেন সরকার আমাদের সামান্য সম্পদ থেকে একের পর এক নানা ধরনের ইনসেনটিভ দিচ্ছে? তারপরও তাদের (চিকিৎসকদের) গ্রামে রাখতে পারছি না। গ্রামের দিকে উনারা যেতে অনীহা প্রকাশ করেন।”
নিজের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমি যখন আমলা ছিলাম তখন আমি মাঠে-ময়দানে কাজ করেছি। এখন চিকিৎসার অবকাঠামো আছে কিন্তু গ্রামাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। এটাকে ঠিক কীভাবে বর্ণনা করব আমার জানা নেই।”
এবিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ এর টেস্টের অবকাঠামো, যেটা করতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগত, সেই কাজ আমরা মাত্র ২৪ ঘণ্টায় করে আড়াই হাজার কোটি টাকার সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করে দিয়েছি।... ডাক্তারদের এসব কর্মকাণ্ড নাগরিকদের পীড়া দেয়।”
কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বরাদ্দ অর্থের অপচয়, ভুলভাবে ব্যয় করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা স্বীকার করেই চলমান সঙ্কটে স্বাস্থ্যখাতে যত দ্রুত সম্ভব বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও বলেন এম এ মান্নান।