https://bng-media.dhakatribune.com/?width=undefined&height=undefined&quality=90&image=/uploads/2020/11/befunky-collage-4-1606360235224.jpg

‘বাংলাদেশ সমানভাবে সব ধর্মের মানুষের’

ইউএনবি

বাংলাদেশ

সকলে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেছেন, এ দেশের মাটিতে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে।

তিনি বলেন, “সকলে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে। যার যা ধর্ম তা পালনের স্বাধীনতা সকলেরই থাকবে।”

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা ওঠানোর চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।”

শেখ হাসিনা বলেন, যার যা ধর্ম তা পালনের স্বাধীনতা সকলেরই থাকবে। সরকার সেই চেতনায় বিশ্বাস করে।

“ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে থাকে এবং হযরত মুহম্মদ (সা.) ও আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে গেছেন,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে চলমান বির্তক সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “সকলকে যে কোনো পরিস্থিতিকে সহনশীলতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে এবং সেটাই আমাদের কর্তব্য। কে কী বলল না বলল তা শোনার থেকে কতটুকু আমরা দেশের জন্য করতে পারলাম সেটাই আমাদের চিন্তায় থাকবে।”

শেখ হাসিনা সংগঠনটাকে শক্তিশালী করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং জাতির পিতার আদর্শকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।

বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ইউনেসকোর পুরস্কারের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৫-এর পরে যে নামটি মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল সেখানে ইউনেসকো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমি মনে করি এটা মুজিব শতবর্ষে সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য বড় একটি উপহার।”

জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেসকো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিশ্বব্যাপী টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সৃজনশীল অর্থনীতিতে যেসব তরুণ, নারী ও অভিবাসী অবদান রাখতে পারবে তাদের ইউনেসকো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার বর্তমানে দেশের যে অগ্রগতি তা ধরে রাখতে সচেষ্ট। তিনি কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পেতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের মধ্যে সকলের জন্য যথাযথ ও সময়োপযোগী প্রণোদনা প্রদান করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

কোভিড টিকা আনার ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে ইতোমধ্যে আমাদের চুক্তিও হয়ে গেছে এবং আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এটা আমরা পেয়ে যাব।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আলোচনা সভায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড.আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মীর্জা আজম, আবু আহমেদ মান্নাফি এবং শেখ বজলুর রহমান এ সময় বক্তব্য দেন।