https://bng-media.dhakatribune.com/?width=undefined&height=undefined&quality=90&image=/uploads/2021/02/new-1612688502040-1612699406809.gif

ভারতে হিমালয়ের হিমবাহ ভেঙে তুষারধস, হতাহত ১৫০ ছাড়ানোর আশঙ্কা

ট্রিবিউনি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের হিমালয় পর্বতমালার একটি হিমবাহে ভেঙে বাঁধের উপর পড়ায় প্রায় দেড় শতাধিক লোক মারা যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সেখানে বন্যার সৃষ্টি হওয়ায় নিচু গ্রামগুলো থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বিকট শব্দে ওই হিমবাহটি ভেঙে পড়ে। 

উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মুখ্যসচিব ওম প্রকাশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, "যদিও প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে একশ থেকে দেড়শ লোক মারা যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।"

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিকট শব্দের একটু পরেই নদী উপত্যকায় ধুলা-বালি, পাথর ও পানির প্রাচীর দেখেছেন।

"এটা এতো তাড়াতাড়ি আসলো যে কাউকে সতর্ক করার সময় ছিল না," বলেন রাইনি গ্রামের উপরের প্রান্তে বাস করা সঞ্জয় সিং রানা।

তিনি রয়টার্সকে ফোনে আরও বলেন, "আমি অনুভব করেছিলাম হয়তো আমরাও ভেসে যাব।"

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পার্শ্ববর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিকেরা ছাড়াও নদীর ধারে কাঠের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল বা গবাদি পশু চড়াচ্ছিল এমন অনেক গ্রামবাসীই ভেসে গেছে।

রানা বলেন, "ঠিক কত লোক নিখোঁজ রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই।"

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইটে জানিয়েছেন তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

রাজ্য মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলার পরে তিনি টুইটারে বলেন, "গোটা ভারত উত্তরাখণ্ডের পাশে আছে এবং সেখানে সবার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছে।"

ভারতের বিমান বাহিনী উদ্ধার কাজে সহায়তা কাজে নিযুক্ত হয়েছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, "দুর্যোগ-প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তা করার জন্য বিমানে রওনা হয়েছে।"

রাজ্য জুড়ে অবস্থিত অসংখ্য হিন্দু মন্দির এবং তীর্থস্থান কেন্দ্রের কারণে উত্তরখণ্ডকে "দেবতার দেশ" উল্লেখ করে শাহ টুইটারে শাহ টুইটে বলেন, "সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্মকর্তা পরিস্থিতিটি যুদ্ধ ময়দান ভেবে কাজ করছেন।"

স্থানীয়দের ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বাঁধের অংশগুলো গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেই পথে যা কিছু ছিল তা সবই ভেসে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোয় দেখা যাচ্ছে একটি ছোট বাঁধের এলাকা দিয়ে দিয়ে নির্মাণ সরঞ্জাম ভেসে যাচ্ছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত এ ব্যাপারে টুইটারে জানিয়েছেন, নন্দপ্রয়াগের ওপারে অবস্থিত অলকানন্দ নদীর প্রবাহ এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, "নদীতে পানির স্তর এখন স্বাভাবিক থেকে এক মিটার উপরে থাকলেও ক্রমেই প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে।"

ভারতের প্রাক্তন পানিসম্পদমন্ত্রী ও মোদীর দলের প্রবীণ নেতা উমা ভারতী এই অঞ্চলে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন। কেননা উত্তরাখণ্ড হিমালয়ের বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত।  

এর আগে ২০১৩ সালের জুনে, রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল যাতে প্রায় ৬ হাজার প্রাণহানি হয়েছিল। বিপর্যয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে "হিমালয়ে সুনামি" হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিল। যার ফলে কাদা ও পাথর ভেঙে পড়েছিল, ঘরবাড়ি মাটিতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।