রাঙামাটিতে আগাম আনারসের বাম্পার ফলন
বিজয় ধর, রাঙামাটিঅর্থনীতি
রাঙামাটিতে ১১শ হেক্টর জমিতে আগাম আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। আনারসের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে, কারণ আগাম ফলনের কারণে তারা দামও পাচ্ছেন অনেক বেশি।
রাঙামাটি শহরের বনরুপা সমতাঘাট বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, আগাম আনারসে ভরপুর হয়ে উঠেছে রাঙামাটি সমতাঘাটের বাজার। রসালো আনারসের গন্ধে মৌ মৌ করছে চারদিকের পরিবেশ। তবে আনারসের আগাম ফলন ভালো হওয়ায় এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষিরা। বর্তমানে রাঙামাটি শহরের বাজারগুলোতে জমজমাট বিক্রি হচ্ছে আনারস। এছাড়াও নানিয়ারচর, বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নসহ পুরো জেলার আনারস সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
এদিকে, স্থানীয়রা আগাম আনারস খেতে পেয়ে অত্যন্ত খুশি। স্থানীয় হাট বাজার থেকে নিয়ে ফেরি করে শহরের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে আনারস বিক্রি করছেন অনেকে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে আনারসের প্রচুর উৎপাদন হচ্ছে। সবচেয়ে অধিক উৎপাদন হয়েছে নানিয়ারচর উপজেলায়। বাজারে বড় সাইজের প্রতি জোড়া আনারস খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। আর ছোট সাইজের আনারস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। তবে কৃষকদের কাছে পাইকাররা কিনছেন মাত্র ২০-৩০ টাকায়। নানিয়ারচরসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ আনারস জেলা সদরসহ বিভিন্ন বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে রাঙামাটির আনারস যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলাতেও।
চাষিরা মনে করছেন, করোনাভাইরাসের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গতবার আগাম আনারস চাষিরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। ফলে এবার ভালো ফলন হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে পারবেন।
নানিয়ারচর উপজেলার হাজাছড়া এলাকার বাসিন্দা আনারসচাষি শান্তি বিকাশ চাকমা জানান, আমি ৩০ হাজার আনারস চারা রোপণ করেছি। গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে এবং ভালো দামে বিক্রিও হচ্ছে। আনারস চাষ করতে যা খরচ হয়েছে তার দ্বিগুণ লাভ করতে পারব বলে আশা করছি। বড় সাইজের আনারস বিক্রি হচ্ছে জোড়া ৩০-৪০ টাকা ও ছোট সাইজের আনারস বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা দরে।
রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের আরেক চাষি সোহাগ চাকমা জানান, গতবারের তুলনায় এবার আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রসাদ মল্লিক বলেন, “এ মৌসুমে জেলায় আনারসের চাষ হয়েছে ২১৩০ হেক্টর জমিতে। এবার আগাম ১১০০ হেক্টর জমিতে আগাম মৌসুমি আনারসের চাষ করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ধরা হয়েছে ২০ মেট্রিক টন এতে করে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন আনারস উৎপাদন হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আগাম আনারস চাষে ফলন বৃদ্ধির জন্য এক ধরনের ভিটামিন ব্যবহার করা হয়। তবে এই ভিটামিন মানবদেহে তেমন ক্ষতিকারক নয়। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষিদের সুপরামর্শ দিয়ে থাকেন।”