https://bng-media.dhakatribune.com/?width=undefined&height=undefined&quality=90&image=/uploads/2021/04/edited-bogra-1617259439439.jpg

নারী জেসমিন হলেন পুরুষ জুবায়েদ

মো. নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া

বাংলাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জেসমিন আকতার এখন জুবায়েদ মণ্ডল (২০)। নারী থেকে সে পূর্ণাঙ্গ পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছে। জুবায়েদ নিজে এবং তার পরিবার এতে খুশি। মা-বাবার ইচ্ছা তাকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে বড় আলেম বানাবেন। উপজেলার শাওইল গ্রামে এ ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর গত তিন দিন ধরে বাড়িতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় লেগেই আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরৎপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক জালাল হোসেন মণ্ডল ও মরিয়ম বিবি দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। মেয়ে জেসমিন আকতার ও ছেলে মিজানুর রহমান মিজান। ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণের পর জেসমিন শাওইল গ্রামে নানা মোবারক আলীর বাড়িতে থাকছিল। সেখান থেকে বাবা-মা ও ভাইকে দেখতে লক্ষ্মীপুরে যাতায়াত করতো। জেসমিন স্থানীয় শাওইল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি ও মিজানুর রহমান মিজান ধনতলা আলিম মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল ও মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় জেসমিন নানার বাড়িতে ও ছোট ছেলে মিজান লক্ষ্মীপুরে গ্রামের বাড়িতে বাবা-মার সঙ্গে রয়েছে। এ অবস্থায় জেসমিনকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খোঁজার কাজও চলছিল।

স্বজনরা জানান, চার মাস আগে হঠাৎ জেসমিন আকতারের কণ্ঠস্বর বদলে যেতে শুরু করে। কণ্ঠস্বর, চলাফেরা ও আচার-আচরণ ছেলেদের মতো হতে থাকে। প্রায় ৪৫ দিন আগে তার শারীরিক গঠন পরিবর্তন হয়ে ছেলেদের মতো হয়ে যায়। জেসমিন বিষয়টি তার নানা মোবারক আলীকে জানায়। তাকে ঢাকার শাজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চিকিৎসক সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন, শরীরে অতিরিক্ত পুরুষ হরমোন থাকায় সে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে। চিকিৎসক বিষয়টি নানা মোবারক আলীকে জানান।

পরে বাড়িতে এসে জেসমিন আকতারের নাম পরিবর্তন করে জুবায়েদ মণ্ডল রাখা হয়। চুল ছোট করে কেটে ছেলেদের মতো পোশাক দেওয়া হয়। ছেলেতে রূপান্তর হওয়া জুবায়েদ মণ্ডল জানায়, সে নিয়মিত নামাজ আদায় করতো। কিছু দিন আগে জ্বর হওয়ার পর শরীরে পরিবর্তন শুরু হয়। সে বুঝতে পারে পুরুষে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনে সে খুব খুশি। এজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানায়।

বাবা জালাল হোসেন মণ্ডল জানান, মেয়ে জেসমিন ছেলেতে রূপান্তর হওয়ায় তার নাম রাখা হয়েছে জুবায়েদ মণ্ডল। তিনি আশা করেন, জুবায়েদ মণ্ডল এখন মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে বড় আলেম হবে।

 তিনি আরও জানান, তার মাত্র দেড় বিঘা জমি রয়েছে। সংসারে অভাব থাকলেও পরিবার নিয়ে সুখি। সংসারে মেয়ে সন্তান না থাকা প্রসঙ্গে জালাল মণ্ডল জানান, দুই ছেলেকে বিয়ে করালে তাদের ঘরে মেয়ে সন্তান হবে। এতে মেয়ে সন্তানের অভাব পূরণ হয়ে যাবে।