https://bng-media.dhakatribune.com/?width=undefined&height=undefined&quality=90&image=/uploads/2021/04/edited-collected-1618727513144.jpg

হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্ব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহবান আলেমদের

বাসস

বাংলাদেশ

হেফাজতে ইসলামের বর্তমান নেতৃত্ব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন দেশের আলেম সমাজ।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) দেশের শীর্ষস্থানীয় ৫১ জন আলেম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান নেতৃত্বকে “ফেতনা সৃষ্টিকারী” ও “ধর্ম ব্যবসায়ী” আখ্যায়িত করে এ আহবান জানান তারা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, “আপনারা জানেন হেফাজতে ইসলামের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা যিনি বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দা সবসময় নীতি-নৈতিকতার বক্তব্য দিয়ে গরম করে রাখতেন, তিনি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ব্যতীত অন্য একজন নারীকে নিয়ে রিসোর্টে সময় কাটাতে গেলে স্থানীয় জনরোষের মুখে পড়েন। পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি তার প্রকৃত স্ত্রীর নাম দিয়ে বুকিং করে এ নারীর সাথে সেখানে যান। তিনি উত্তেজিত জনগণের কাছে এ নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করলেও পরবর্তীতে সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হওয়া তার প্রকৃত স্ত্রীর সাথে ফোনালাপে নারীকে অন্য ব্যক্তির স্ত্রী দাবি করেন।”

তারা বলেন, “হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্ব এ ধরনের ভণ্ড, নারী লোভী, দুশ্চরিত্র ব্যক্তির পক্ষ অবলম্বন করে বিবৃতি দেন যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয়।”

বিবৃতিতে তারা বলেন, “হেফাজতের এ নেতৃত্ব কিংবা যারা এ ভণ্ড নেতৃত্ব অনুসরণ করছে, দেশের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা শুধুমাত্র ইসলামের শত্রু নয়, তারা দেশ ও দশের শত্রু। যখন তাদের সকল ভণ্ডামি দেশবাসীর কাছে উন্মোচিত হয়েছে তখন তারা এই পবিত্র রমজান মাসে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশবাসীকে ইসলামের দোহাই দিয়ে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য মিথ্যা বিবৃতি আশ্রয় নিয়েছে। তাই আমরা আলেম সমাজ এ সকল ভন্ড ও ফেতনা সৃষ্টিকারী ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি মুসলমান ভাই-বোনদের সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তারা কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতি এদের বর্জনের আহবান জানিয়ে বলেন, “কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাব- এ সকল মতলববাজ, রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিদৃষ্ট আলেমদেরকে বর্জনের জন্য। যাতে তারা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করতে না পারে।”

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী আলেমদের মধ্যে রয়েছেন-মাওলানা মো. ইসমাঈল হোসাইন, শাইখুল হাদিস মাওলানা মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মাওলানা শাহ মো. ওমর ফারুক, ডা. প্রফেসর আল ইমরান, মাওলানা মো. মুফতি সাহাবুদ্দিন ভূইয়া, মাওলানা মো. মুহিবুল্লাহ, মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ, মাওলানা মো. মোস্তফা চৌধুরী, মাওলানা মো. ইলিয়াস হোসাইন, মাওলানা মো. একলাছুর রহমান, মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান, মাওলানা মো. নুরে আলম সরকার, মাওলানা মো. শামসুল হক, মাওলানা মো. আবুল খায়ের মজুমদার, মাওলানা মো. নুরুল আমিন পীর সাহেব ভাঙ্গা, মাওলানা মো. আফলাতুল কাউছার, হাফেজ মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম খান, মাওলানা মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, মাওলানা মো. এনামুল হক সিদ্দিকী, মাওলানা মো. মনির হোসাইন চৌধুরী, ড. মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক, মাওলানা মো. হারুনুর রশিদ মিরন পীর সাহেব, মাওলানা মোহাম্মদ মোছাদ্দেক, মাওলানা মো. ওসমান গনি, মাওলানা মো. নুরুল ইসলাম, মাওলানা মো. রেজাউল করিম, কাজী মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম, মাওলানা হাফেজ মো. ফারুখ আব্দুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ মনজুররুল হক, মাওলানা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মাওলানা মোহাম্মদ দৌলতখান, মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান, মাওলানা মো. আজমির হোসাইন, মাওলানা মো. হারুনুর রশিদ, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, এড. মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মোসা. আফসানা পারভীন মনা, মোসা. জয়নাব আরা ফেরদৌসী, মোসা. রোকেয়া বেগম, মোসা. ইসরাত জাহান লামিয়া, মাওলানা মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা মো. আনোয়ারুল হক, মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন ফরিদপুরী, মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, মাওলানা মোঃ আলমগীর হোসেন, মাওলানা মো. ইকবাল হোসেন, মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম ও মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।