জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সিংহ, তোপের মুখে তরুণী
ট্রিবিউন ডেস্কঅন্যান্য
বিনোদনের জন্য বাঘ কিংবা সিংহকে ব্যবহার করার বিরক্তিকর এক প্রথা দেখা দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ সমাজে। সম্প্রতি পাকিস্তানের এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার নিজের পার্টিতে নিয়ে আসেন একটি সিংহকে। আর এতেই তোপের মুখে পড়েছেন ওই তরুণী।
সুসান খান নামের ওই তরুণীর জন্মদিনের পার্টির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষেপে যান প্রাণি-অধিকারসংস্থার কর্মীরা।
ভিডিওতে দেখা যায়, সিংহটিকে চেন দিয়ে বেঁধে রেখে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে সোফায় বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং চারদিকে উচ্চ আওয়াজে গান বাজছে।
পাকিস্তান ভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা “প্রজেক্ট সেভ অ্যানিমালস”-এর পরিচালক সৈয়দ হাসান বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভিডিওটি ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে সিংহটির নখগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি সত্যিই লজ্জার যে আমরা ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করা প্রাণীদের দেখে মজা পায়।”
তিনি আরও বলেন, আমি কারও জন্মদিন পালনের বিরুদ্ধে বলছি না। কিন্তু জন্মদিন বা যে কোনো অনুষ্ঠানে প্রাণীদের “প্রপস” হিসেবে প্রদর্শন করা অনুচিত এবং আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবো।
এদিকে সুসানের ভিডিওতে নানান মন্তব্য করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। একজন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ভিডিওটিতে মন্তব্য করেছেন, “খুবই ঘৃণ্য, জঘন্য এবং অগ্রহণযোগ্য একটি কাজ! কারও বিবেক কীভাবে এতে সায় দেয়?” বেশ কয়েকজন সুসান খানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্বয়ং পাকিস্তানি আইনেই বিদেশি প্রাণী আমদানির বিষয়টি সহজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অগণিত প্রাণী-বিশেষত বাঘ বা সিংহ সম্পদ ও শক্তির প্রতীক হিসেবে অনেকেই প্রদর্শন করছে। আর অমানবিক আচরণ করছে অসহায় বন্যপ্রাণীগুলোর ওপর।