https://bng-media.dhakatribune.com/?width=undefined&height=undefined&quality=90&image=/uploads/2020/12/befunky-collage-4-1608128716381.jpg

মন খারাপ মানেই কি ডিপ্রেশন, সারিয়ে তুলুন ওষুধ ছাড়াই

ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম

ফিচার

“ডিপ্রেশন” শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। অনেকে মন খারাপ হলেই “ডিপ্রেশন” বলে ভেবে থাকেন বা দাবি করে থাকেন, যা আসলে ভুল ধারণা। ডিপ্রেশন বা ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার বেশ গুরুতর একটি মনের রোগ। কিন্তু “মন খারাপ” কোনো রোগ নয়, রোগের লক্ষণ হতে পারে।

ডিপ্রেশন রোগ শনাক্ত করার জন্য ডিএসএম-ফাইভ (DSM-5)-এর নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য

- বিষণ্ন মেজাজ দিনের বেশিরভাগ সময়, প্রায় প্রতিদিন।

- সবকিছুর ব্যাপারেই আগ্রহ বা আনন্দ লক্ষণীয়ভাবে কমে যাওয়া, দিনের বেশিরভাগ সময়, প্রায় প্রতিদিন।

- খাওয়ায় রুচি কমে বা বেড়ে যাওয়া; ফলস্বরূপ ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া।

- চিন্তার গতি কমে যাওয়া এবং শারীরিক চলাচলের মধ্যেও ধীরগতি চলে আসা (অন্যরা আপনার এই পরিবর্তনটি ধরতে পারবে)।

- প্রায় প্রতিদিনই ক্লান্তিভাব।

- প্রায় প্রতিদিনই নিজেকে মূল্যহীন মনে করা বা এমন কোনো কাজের জন্য অপরাধবোধ হওয়া, যেখানে প্রকৃতপক্ষে কোনো দায় নেই।

- প্রায় প্রতিদিন চিন্তাশক্তি বা কাজকর্মে মনোযোগ কমে যাওয়া বা সিদ্ধান্তহীনতা।

- বারবার মৃত্যুচিন্তা, আত্মহত্যার চিন্তা অথবা আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহত্যার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা।

যদি কেউ ১৪ দিন ধরে ওপরের ৫টি বা তার বেশি লক্ষণ প্রকাশ করে (সেগুলোর মধ্যে কমপক্ষে একটি লক্ষণ হতে হবে “বিষণ্ন মেজাজ” অথবা “আগ্রহ বা আনন্দ হারানো”) তখন তাকে “ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার” এর রোগী বলা যাবে। 

চিকিৎসা পদ্ধতি

- হতাশানাশক ওষুধ: অনেক ধরনের ওষুধ আছে, যেগুলো সেবন করে এই মারাত্মক মনের অসুখের চিকিৎসা করা যায়। সেসব ওষুধ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত না। কারণ সব ওষুধ সবার জন্য না। আবার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও তীব্র হতে পারে।

- অন্যান্য: যদি রোগ মৃদু পর্যায়ের হয়ে থাকে, তাহলে ওষুধ ছাড়াও “ডিপ্রেশন” সারানো যেতে পারে। তবে মাঝারি বা তীব্র পর্যায়ের ডিপ্রেশন হলে অবশ্যই ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য উপায়ে চেষ্টা করতে হবে।

ওষুধ ছাড়া যা যা করা যেতে পারে

- কী কারণে আপনি হতাশ, সেটি খুঁজে বের করা। সমস্যাটি সমাধান করার জন্য কী কী করা যেতে পারে, সেটা একটা তালিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী কাজ করা।

 - বাবা, মা, বন্ধু বা ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা। নেতিবাচক মানুষ এড়িয়ে চলতে হবে।

- নিজের ব্যাপারে ভালো ভালো বৈশিষ্ট্য লিখে তালিকা করা। (খুঁজে পাচ্ছেন না? হয়তো আপনি রাঁধতে পারেন, বা হাতের কাজ পারেন, সেগুলোই তালিকা করুন!) মনে রাখবেন, দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে “পজিটিভ”। 

- মজার কোনো টিভি সিরিজ দেখা, যা আপনাকে দীর্ঘদিন ব্যস্ত রাখবে এবং মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করবে। (যেমন F.R.I.E.N.D.S. বা The Office US)

- প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা।

- রাতে আগে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস এবং ভোরে জেগে ওঠার অভ্যাস করা।

- নামাজ পড়া অথবা নিজস্ব ধর্ম অনুযায়ী উপাসনা করা।

- যোগ ব্যায়াম করা, পারতপক্ষে ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা।

- কিছুদিনের জন্য কোথাও বেড়িয়ে আসা।

- উচ্চবিটের গান শোনা এবং দুঃখের গান এড়িয়ে চলা।

সবশেষে বলা যায়, সমস্যাটি সমাধানে নিজের যথেষ্ট আগ্রহ থাকতে হবে। তা না হলে কোনো কিছুতেই উপকার হবে না। 


ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম

এমবিবিএস, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ