https://bng-media.dhakatribune.com/?width=undefined&height=undefined&quality=90&image=/uploads/2021/09/73-n-1631205012242-1631270307210.jpg

তিন সন্তানের মা শুধু ভারোত্তোলন নয়, জয় করলেন সবার মন

সৈয়দ ফায়িজ আহমেদ

ফিচার

তিনি একজন বাংলাদেশি নারী। তবে এদেশের নারীদের চিরায়ত যে রূপে দেখা যায় সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। তিনি শুধুমাত্র নারীর শক্তিকেই বাড়িয়ে দেননি, ইচ্ছাশক্তি এবং শারীরিক শক্তি দিয়ে বয়সের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাকেও জয় করেছেন। তিনি শাম্মী নাসরিন। 

বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ভারোত্তোলনের ৬৩ কেজি বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করার পর তিন সন্তানের জননী, ৪৬ বছর বয়সী শাম্মী নাসরিন আলোচনায় উঠে এসেছেন। 

দেশের অনেক নারীর মতো নাসরিনও একটা সময় পর্যন্ত নিজের পুরোটা সময় এবং শ্রম তার দুই ছেলে, একমাত্র মেয়ে ও ঘরের কাজে উৎসর্গ করেছেন। 

দেশের বেশিরভাগ নারীই গৃহস্থালি কাজে জীবন উৎসর্গ করেন অথচ নিজের ফিটনেসকে অবহেলা করেন। পাশাপাশি সমাজও নারীদের শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়াকে নেতিবাচক হিসেবে দেখে। 

কিন্তু কয়েক বছর আগে, নাসরিন হঠাৎ অনুভব করেছিলেন, ফিটনেসের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তাদের জন্য যারা চল্লিশ বছর বয়সের সীমানা অতিক্রম করেছেন।

নিয়মিত জিমে সময় কাটানোর পরে, ফিটনেসের প্রতি তার আকর্ষণ আরও বেড়ে যায় এবং তিনি পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

প্রাথমিকভাবে তার এই পরিকল্পনায় পরিবারের সবাই অবাক হলেও, নাসরিনকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন তারাও। 

তাই নাসরিন যখন বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২০-এ অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করছিলেন, তিনি দেখতে পান তার বয়সী অন্য কোনো নারী প্রতিযোগিতার “মাস্টার ক্যাটাগরি”-তে নেই। 

এরপরও নাসরিন পিছু না হটে, সন্তানের সমবয়সী প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আর এই সাহসের ফলেই এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি।

ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাসরিন বলেন, “আসুন আমরা আমাদের বয়স পরিবর্তন করি। স্বাস্থ্য শুধুমাত্র ওজন কমানো নয়, স্বাস্থ্য হচ্ছে আপনি যে নতুন জীবন পাচ্ছেন সেটা।” 

তিনি জানান, তার লক্ষ্য দেশের নারীদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করা। 

এদিকে, নাসরিনের সাফল্যে তার সন্তানরাও অত্যন্ত গর্বিত। 

তার ছোট ছেলে সাজিদ ইকবাল, যিনি নিজেও সেমি-প্রফেশনাল ফুটবল খেলেন, তার মায়ের কাছ থেকে প্রচুর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান। 

সাজিদ বলেন, “আমাদের মা একদম চায়ের লিকারের মতো। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত তার শক্তি সম্পর্কে ধারণা করতে পারব না যতক্ষণ না তাকে গরম পানিতে ডুব দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।”

আমরা প্রায়ই চারপাশের নারীদের অপার ক্ষমতা ভুলে, তাদের দুর্বল ভাবতে থাকি। কিন্তু নাসরিনের মতো নারীরা পুরুষতন্ত্র দ্বারা সৃষ্টি করা এসব ভুল ধারণাকে ভেঙে ফেলে সমাজের কুসংস্কার চূর্ণ করে দেয়।

এভাবেই হাজার হাজার মানুষকে, সমাজকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যান কিছু মানুষ।