ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ইইউতে পুরোপুরি পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলেছেন। তিনি একই সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থা বজায় রাখা, কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেওয়া বা সিঙ্গেল মার্কেটে ফেরার মতো বিকল্পের কথাও বলেছেন।
দেশটির ইইউতে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনার কথা বলার পর মাখোঁ এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মাদ্রিদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মাখোঁ এ কথা বলেন। এর আগে বার্নহাম ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের "সুবিধা ও অসুবিধা" বিবেচনা করে ইইউতে পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা জানান।
বার্নহাম বলেন, ব্রিটেনের ইইউর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থান বজায় রাখা, কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেওয়া, সিঙ্গেল মার্কেটে ফিরে যাওয়া অথবা "পুরো পথ এগিয়ে" ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য এবং প্রতিটির কী সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলেন তিনি।
মঙ্গলবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহাম বলেন, ২০২০ সালে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ "লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে"। তার ভাষ্য, ব্রেক্সিটের কারণে "এক দশক ধরে প্রবৃদ্ধি কমেছে" এবং ব্রিটেনকে তার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হবে।
চলতি বছরের শেষ দিকে ইইউর ২৭ সদস্য দেশের সঙ্গে পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্রিটেন-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বার্নহাম।
মাদ্রিদে মাখোঁ বলেন, "ব্রিটিশরা যদি ফিরে আসতে চায় এবং প্রধানমন্ত্রী যদি সেই পথে এগিয়ে যান, তাহলে আমি মনে করি এটি তার দেশের জন্য এবং ইউরোপীয়দের জন্য উভয়েরই খুব ভালো খবর।" এরপর তিনি বলেন, "ফিরে আসুন।"
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও মাখোঁর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি পুনরায় ইইউতে যোগ দেওয়ার আবেদন করে, তাহলে স্পেন তা স্বাগত জানাবে এবং "ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের জন্য আবারও দু’হাত বাড়িয়ে দেবে।"
এদিকে ব্রিটেনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়ার দায়িত্ব লন্ডনের।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বালাজ উজভারিই বলেন, "যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নিতে চায়, তা তুলে ধরার দায়িত্ব যুক্তরাজ্য সরকারের।"
তিনি বলেন, "তারা যেসব বিকল্প প্রস্তাব দেবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।"



