ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশ সদস্যদের সংযমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের কেন্দ্রীয় রেঞ্জের যুগ্ম কমিশনার মধুর ভার্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, "ঝড়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন। সংযমের চর্চা করুন। শান্তি রক্ষা করুন। কারণ, পুলিশের প্রকৃত শক্তি শুধু জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে নয়, বরং শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তা করার মধ্যে।"
কর্মকর্তারা জানান, ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের ব্যবহারের জন্য প্রায় ২৩ হাজার অতিরিক্ত সিএপিএফ সদস্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর আগে একটি বিক্ষোভে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ৭ অক্টোবর বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়, যা নির্ধারিত কর্মসূচির মাত্র তিন দিন আগে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হয়।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দিল্লি সরকার ৯ ও ১০ অক্টোবর মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজন এবং দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আবগারি বিভাগ।
এদিকে, সংবেদনশীল এলাকাগুলোর দিকে বিশৃঙ্খল জনসমাগম ঠেকাতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন ফটক বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচলের ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ। ৮ অক্টোবর পাঠানো এক চিঠিতে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনকে (ডিএমআরসি) এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান পুলিশের পরিবহন বিভাগের যুগ্ম কমিশনার।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লিজুড়ে একাধিক স্তরে ব্যারিকেড ও নজরদারির ব্যবস্থা করছে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মুখ শনাক্তকরণ ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে।
দিল্লিতে প্রবেশকারী মানুষ ও যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণে গাজীপুর, চিল্লা, টিকরি, সিংঘু, গুরুগ্রাম, কাপাসহেরা, লোনি ও বাদরপুরসহ শহরের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।



