Wednesday, October 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বামীকে হত্যার পর ড্রামে সিমেন্টের ঢালাই, স্ত্রী ও প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

১২৬টি শুনানি ও ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেলা জজ এ রায় দেন

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভি কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। দুই সপ্তাহ আগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাজা ঘোষণা করা হয়।

১২৬টি শুনানি ও ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র এ রায় দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রা নগরের বাড়িতে মুসকান খাবারে ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে অজ্ঞান করেন। এরপর সাহিল সেখানে পৌঁছালে দুজন মিলে ছুরিকাঘাতে সৌরভকে হত্যা করেন। বাথরুমে মরদেহ টুকরো টুকরো করে দুর্গন্ধ ঠেকাতে খণ্ডিত দেহাংশ একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরেন তারা। এরপর বালি, পানি ও সিমেন্টের মিশ্রণ ঢেলে ড্রামের মুখ আটকে দেন। হত্যা মামলার প্রমাণ হিসেবে কংক্রিটে ভরা এই ড্রাম আদালতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

হত্যার পর দুজন হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। সৌরভ বেঁচে আছেন এবং ব্যবসার কাজে বাইরে আছেন, এমন নাটক সাজাতে মুসকান স্বামীর ফোন থেকে স্বজনদের বার্তা পাঠাতেন। সন্দেহ হলে ১৭ মার্চ স্বজনেরা স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। তখন সৌরভ-মুসকানের ছয় বছরের মেয়ে প্রতিবেশীদের জানায়, বাবা ড্রামের ভেতর। পুলিশ ড্রাম কেটে দেহাবশেষ উদ্ধার করে। দুই দিন পর মুসকান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভৌত প্রমাণের শক্তিশালী শৃঙ্খল উপস্থাপন করে। স্থানীয় দোকানদারেরা সাক্ষ্য দেন, অভিযুক্তদের কাছে তারা নীল ড্রাম, সিমেন্ট, বালি ও মাংস কাটার ছুরি বিক্রি করেছিলেন। মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান ও কল রেকর্ডে অপরাধের সময় সাহিলের উপস্থিতিও প্রমাণিত হয়।

রায়ের আগে মুসকানের বাবা-মা আদালতকে জানান, সৌরভ “খুব ভালো মানুষ” ছিলেন এবং দোষীদের মৃত্যুদণ্ড হলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। গ্রেপ্তারের পর মুসকানের পরিবার কখনো কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেনি।

   

About

Popular Links

x