অ্যান্টার্কটিকার হিমশীতল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য পরিচিত পেঙ্গুইন। তবে তাদের বিষ্ঠা বরফ গলার গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পেঙ্গুইনের বিষ্ঠা থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদান অ্যান্টার্কটিকার তুষারে জন্মানো শৈবালের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। এতে তুষারের উপরিভাগ আরও গাঢ় হয়ে সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে এবং বরফ গলার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে।
সম্প্রতি পিপল সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: বায়োজিওসায়েন্সেস-এ প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, পেঙ্গুইনের বিষ্ঠা থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদান তুষারে জন্মানো শৈবালের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকায় অ্যান্টার্কটিকার বিভিন্ন এলাকায় এসব শৈবালের বিস্তারও বাড়ছে।
ডিসকভার ওয়াইল্ডলাইফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে শৈবালের রং নির্ভর করে এর জন্য প্রাপ্য পুষ্টি উপাদানের ওপর। পুষ্টির অভাব হলে সূর্যের আলো থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শৈবাল লাল রং ধারণ করে। তবে পর্যাপ্ত পুষ্টি পেলে সূর্যের আলো তাদের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়ে ওঠে। তখন শৈবাল ক্লোরোফিল নামের সবুজ রঞ্জক ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালায়।
তুষারে শৈবালের বিস্তার বাড়লে এর উপরিভাগের রং গাঢ় হয়ে যায়। ফলে তুষার সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। পেঙ্গুইনের বিষ্ঠা থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদান শৈবালের বৃদ্ধিতে সহায়তা করায় এ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক ও ক্রায়োস্ফিয়ার বায়োজিওকেমিস্ট আলিয়া খান ফিজ.অর্গ-কে বলেন, বন্য প্রাণী, পুষ্টি উপাদান ও তুষারে জন্মানো শৈবালের পারস্পরিক সম্পর্ক অ্যান্টার্কটিকায় বরফমুক্ত এলাকার বিস্তার নিয়ে পূর্বাভাস তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপস্থিত বিষয়।
তিনি বলেন, তুষারকে গাঢ় করে তোলার ক্ষেত্রে এসব জৈবিক প্রভাব বিবেচনায় না নিলে উপকূলীয় অঞ্চলের তুষারস্তর কত দ্রুত গলছে এবং অ্যান্টার্কটিকাজুড়ে বরফমুক্ত ভূমি কত দ্রুত বাড়ছে, তা প্রকৃত অবস্থার তুলনায় কম করে হিসাব করা হতে পারে।
পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টার্কটিকার বরফও কমছে। গত মাসে সায়েন্টিফিক ডেটা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর দুটি প্রধান বরফস্তর অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ড গত ৪৭ বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বা ১১.৩ ট্রিলিয়ন মেট্রিক টন বরফ হারিয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, এ বরফ ক্ষয়ের প্রায় ৮৪% ঘটেছে হিমবাহ থেকে আগের তুলনায় দ্রুতগতিতে সমুদ্রে বরফ প্রবাহিত হওয়ার কারণে; উপরিভাগের বরফ গলে যাওয়ার কারণে নয়।
অ্যান্টার্কটিকায় বন্য প্রাণীর অবস্থান শনাক্ত করতেও পেঙ্গুইনের বিষ্ঠা কাজে এসেছে। ২০২৪ সালে উপগ্রহচিত্রে সম্রাট পেঙ্গুইনের নতুন কয়েকটি কলোনি শনাক্ত করা হয়। মহাকাশ থেকে দৃশ্যমান বিষ্ঠার বড় বড় দাগ দেখে এসব কলোনির সন্ধান পাওয়া যায়।



