Tuesday, October 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির শঙ্কায় নিজ দলের শক্ত ঘাঁটিতে প্রচার শুরু ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজ-ইপসোস সর্বশেষ জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন নেমে হয়েছে ৩৩%

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের সাফল্যের শঙ্কা বাড়তে থাকায় নিজ দলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে প্রচার শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) কানসাস অঙ্গরাজ্যে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে সাতটি অঙ্গরাজ্যে তার ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এসব অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছিলেন তিনি।

জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া ও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়ায় আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের সাফল্যের শঙ্কা করছে রিপাবলিকান শিবির।

ভোটের আর মাত্র ১৫ দিন বাকি থাকতে উইচিটার উপকণ্ঠে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প কানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে ভোট চান। মার্শাল বর্তমানে মেথডিস্ট সম্প্রদায়ের গির্জার যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মুখে রয়েছেন।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা যা-ই করুন, ভোট দিতে অবশ্যই বের হবেন।”

বক্তব্যে তিনি ইরানে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো, করছাড় স্থায়ী করা ও মার্কিন নাগরিকদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, “আপনাদের শুধু ভোট দিতে আসতে হবে। আপনারা ভোট দিতে এলে আমরাই জিতব।”

মাত্র দুই বছর আগে কানসাসে ১৬% পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ১৯৩২ সালের পর থেকে অঙ্গরাজ্যতে কোনো ডেমোক্র্যাটকে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হননি।

তবে এবারের নির্বাচনে বিশ্লেষকেরা কানসাসের সিনেট আসনটিকে ‘হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনাময়’ বলে বিবেচনা করছেন। রিপাবলিকান সিনেটরদের জন্য তহবিল সংগ্রহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনও একসময় নিরাপদ বলে বিবেচিত আসনটি রক্ষায় নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে অর্থ সরিয়ে নিয়েছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব সামান্য। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে।

আগামী ছয় দিনে কানসাসের পর নর্থ ক্যারোলাইনা, আইওয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশ করবেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সাতটি অঙ্গরাজ্যই তাকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে মিশিগান, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় তার জয়ের ব্যবধান ছিল তুলনামূলক কম।

নর্থ ক্যারোলাইনা ও আইওয়ায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সিনেট আসন রক্ষায় ট্রাম্পের প্রচার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের রিপাবলিকান নেতাদের অনেকেই নর্থ ক্যারোলাইনায় জয় ধরে রাখার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।

অন্যদিকে মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা একটি আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে রিপাবলিকানরা। তবে জর্জিয়ায় তারা এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

রবিবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজ-ইপসোস জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন নেমে হয়েছে ৩৩%, যা দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। জরিপে ৬৬% উত্তরদাতা তার কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। একই দিনে প্রকাশিত এনবিসি নিউজের জরিপে তার সমর্থনের হার ছিল ৩৪%।

কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ৮% পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। এনবিসির জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান ১০% পয়েন্ট।

এসব পরিসংখ্যান ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের নির্বাচনী সাফল্যের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপ থেকে সরাসরি কংগ্রেসের আসন সংখ্যা অনুমান করা কঠিন। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধা অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে এ হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য অর্থনীতি এখন বড় রাজনৈতিক দুর্বলতা হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ফলে ভোক্তাদের ব্যয় আরও বেড়েছে। আইওয়া ও কানসাসের মতো কৃষিনির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোতে এ চাপ বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে।

অভিবাসন ইস্যুতেও ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি জরিপে ৫৬% উত্তরদাতা মনে করেন, তার নির্বাসন কর্মসূচি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্পের নীতির প্রতি জনঅসন্তোষকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে কাজে লাগাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, ওহাইও, আইওয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বিদের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন।

টেক্সাসে সোমবার আগাম ভোট শুরু হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকো তৃতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন। সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর জন্য এটি এক প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ তহবিল। তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেন প্যাক্সটন সংগ্রহ করেছেন ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার—তালারিকোর সংগ্রহ করা অর্থের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

পাঞ্চবোল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে অন্তত ৪৭ জন রিপাবলিকান বর্তমান সদস্যের চেয়ে তাদের ডেমোক্র্যাট বা স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন।

এই ব্যবধান কমাতে রিপাবলিকানরা বাইরের বিভিন্ন সংগঠনের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কও অর্থ দিচ্ছেন। চলতি নির্বাচনে তিনি প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পেয়েছেন টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন।

   

About

Popular Links

x