Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অ্যালিসার মঙ্গল যাত্রা

স্বপ্ন পূরণের পথে  ১৭ বছর বয়সী অ্যালিসা। তিন বছর বয়সেই বাবাকে বলেছিল মঙ্গল গ্রহে যাবে সে। 

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৮, ০৪:৪০ পিএম

১৭ বছর বয়সের অ্যালিসা কার্সনকে নাসা পাঠাবে মঙ্গল গ্রহে! আর তাই চলছে তৈয়ারি ভরপুর উদ্দমের সাথে।

স্বপ্নচারী অ্যালিসার হৃদয় জুড়ে শুধুই তারারাজি! মঙ্গল গ্রহে যাবার ইচ্ছা তার সেই তিন বছর বয়স থেকে। ছোট্ট মেয়েটি বাবাকে একদিন বলেই ফেলল, ‘বাবা, আমি বড় হয়ে মহাকাশ অভিযাত্রী হতে চাই। হতে চাই মঙ্গল গ্রহে বিচরণকারীদের মধ্যে অন্যতম একজন!’ অনেকের মতো ছোটবেলার অনেক স্বপ্ন যেমন বড় হতে হতে হারিয়ে যায় তারও এই স্বপ্ন হয়তো হারিয়ে যেত। কিন্তু  অ্যালিসা তা হতে দেয়নি। সে দৃঢ়তার সাথে তার স্বপ্নটাকে আঁকড়ে ধরে রাখে এবং সময় ও সুযোগ বুঝে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিতে থাকে। আর এই অটুট প্রচেষ্টাই এখন তার স্বপ্নকে দিচ্ছে বাস্তবতার হাতছানি! নাসা তাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ২০৩৩ সালে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর তাদের প্রথম মিশনের অংশ হিসেবে! 

তার ঝুলিতে জমা হতে থাকা সাফল্যের গল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দারুণটি হল, অ্যালিসা অ্যাডভান্সড স্পেস অ্যাকাডেমির সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যাজুয়েট! শুধু কি তাই? যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, এবং তুরস্কে নাসার স্পেস ক্যাম্প সফলভাবে শেষ করে সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে প্রথম হয়ে ধুন্ধুমার ফেলে দেয় সে! গল্প এখানেই শেষ নয়, বরং সবে শুরু! যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি প্রদেশে অবস্থিত নাসার ১৪টি ভিজিটর সেন্টার ভ্রমন শেষ করে নাসার পাসপোর্ট প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ করা প্রথম এবং একমাত্র মানুষ হবার গৌরবটাও যে অ্যালিসার ঝুলিতে! 

স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপটি পুরো হয় যখন ২০১৩ সালের জানুয়ারি অ্যালিসাকে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত নাসা টিভির এমইআর টেন প্যানেলে নিমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে সে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে ভবিতব্য মিশনগুলো নিয়ে আলোচনা করে। পরবর্তীতে তাকে ‘মার্স ওয়ান’-এর সাতজন অ্যাম্বাসেডরের মধ্যে একজন হিসেবে সম্মানিত করা হয়। ‘মার্স ওয়ান’ হল ২০৩৩ সালে মঙ্গল গ্রহে প্রথম মানুষ পাঠানোর মিশন।

২০১৬ সালের অক্টোবার অ্যালিসা অ্যাডভান্সড পসাম অ্যাকাডেমির সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যাজুয়েট হিসেবে মহাশূন্যে যাবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও লাভ করে। 

সবচেয়ে মজার  ব্যাপারটা কি জানেন? এতো কিছুর মাঝেও অ্যালিসা তার গতানুগতিক শিক্ষার জন্য সময়টা ঠিকি বের করে নিচ্ছে। বর্তমানে সে তার বিদ্যালয়ের সবগুলো পাঠ্য বিষয় ইংরেজি, চীনা, ফরাসি, এবং স্প্যানিশ এই চারটি ভাষায় শিখছে। তার ভাস্যমতে, ‘ সবচেয়ে বড় মোকাবিলা সময় আর হাইস্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি এই অল্প বয়সেই বাকি সবকিছু ঠিকঠাক মতো করে ফেলতে পারা। অল্পবয়স থেকেই এসব প্রশিক্ষণ নিতে থাকা অবশ্যই কঠিন হলেও আমি কিন্তু অদ্যাবধি এই সবকিছুই বেশ দারুণভাবে করে আসছি’। 

কি করা হয় অবসরে জানতে চাইলে অ্যালিসা জানায়, যখন কোন পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ থাকেনা, সে তখন ‘পাব্লিক স্পিকার’ হিসেবে সময়টা কাজে লাগায়। সে তার সমবয়সীদের নিজনিজ স্বপ্ন ছুঁতে উৎসাহ যোগাতে ভালবাসে। 

বোঝাই যাচ্ছে, বয়স কম হলেই বা কি, স্বপ্ন নিয়ে অ্যালিসার বাজিটা তো আর ছোট নয়! বরং আরও সহস্র ক্ষুদে স্বপ্নবাজদের প্রেরণা দিতে যেন অ্যালিসার এই কথাটাই যথেষ্ট - ‘স্বপ্নকে সত্য করতে তার পেছনে বারম্বার ছুটে যাও, আর কাউকে তোমার থেকে তোমার স্বপ্ন কেড়ে নিতে দিওনা’। 


About

Popular Links