Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা

দেশভাগের পর দেখা যায় একই পরিবারের দুই সদস্যের বাড়ি ভিন্ন দু'টি দেশের সীমান্তের মধ্যে পড়ে গেছে; তারা ভিন্ন দু'টি দেশের নাগরিক হয়ে গেছেন

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৯ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে পাথরকালী পূজা উপলক্ষে হরিপুর উপজেলার চাপসার ও কোচল সীমান্তে দুই বাংলায় আলাদা হয়ে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কথা বলার সু্যোগ করে দিতে এক ব্যতিক্রমী মেলা উদযাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই মেলার কার্যক্রম চলে।

মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়  চাপসার-কোচল সীমান্ত এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে দেখা না হওয়া স্বজনদের সাথে আলাপচারিতার জন্য দূরদূরান্ত থেকে সীমান্তে জড়ো হন দুই বাংলার অসংখ্য মানুষ।

মেলায় অনেক খোজাঁখুজির পর নিজের আত্বীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে একটু বুকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছা পোষণ করলেও কাঁটাতারের বেড়ার কারণে উপস্থিত নারী-পুরুষদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। চোখের পানি ফেলে নিকটজনকে কাছে পাওয়ার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তাদের অনেকে। আবার ভিড়ের মধ্যে প্রিয়জনের দেখা না পেয়ে অনেককেই চোখের পানি ফেলে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

বগুড়ার শেরপুর থেকে এসেছেন সাগুফতা রায়। তার ছোটো ভাই সরেন রায় থাকেন ওপার বাংলায়। সাগুফতা ভাইয়ের জন্য নিজের হাতে শীতের পিঠা বানিয়ে এনেছেন। আর ভাই বোনের জন্য নিয়ে এসেছেন কাশ্মিরী শাল।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থেকে আসা রওশন এলাহী জানান, "আমার চাচা ভারতে থাকেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তার সঙ্গে কোন দেখা হয় না । আজ সহপরিবারে তার সাথে দেখা করতে এসেছি।"

রানীশংকৈল উপজেলার উত্তর লেহেম্বা থেকে মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছেন নগেন বাবু ও তার স্ত্রী। তার মেয়ে ভারতের নকশাল বাড়িতে থাকেন। তিনি জানান, "দীর্ঘদিন আমাদের সাথে মেয়ের দেখা হয় না। এবার সুযোগ পেয়ে তার সাথে দেখা করতে মিলন মেলায় হাজির হয়েছি। অনেক খোজাখুজি করে তার সাথে দেখা করতে পেরেছি। কথাও হয়েছে তার সাথে।" বলতে বলতে গলা ধরে আসে নগেন বাবুর।

ব্যতিক্রমী এই আয়োজন প্রসঙ্গে মেলা কমিটির সভাপতি নগেন কুমার পাল বলেন, "দেশভাগের পর এখানে বসবাসরত অনেক বাসিন্দাদের বাড়ি ভারতের মধ্যে পড়ে। ফলে দেখা যায় একই পরিবারের সদস্যরা দুই দেশের বাসিন্দায় পরিণত হয়েছেন। আলাদা দেশ হয়ে যাওয়ায় তাদের দেখা করার সুযোগ প্রায় মেলে না বললেই চলে। তাই তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে প্রতিবছর এই মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করার জন্য বছর জুড়ে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন এই এলাকার বাসিন্দারা।"

About

Popular Links