যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম শীর্ষ পরমাণু বিশেষজ্ঞ রিচার্ড জনসন পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন। রিচার্ড জনসন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান পরমাণু বাস্তবায়ন দফতরের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার এ খবর জানিয়েছে।
এক ই-মেইল বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণায় জনসন বলেছেন, ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিটিকে ‘পরিষ্কারভাবে সফল’ ছিল। তবে পদত্যাগের জন্য কোনও স্পষ্ট কারণের কথা উল্লেখ করেননি তিনি। জনসন লিখেছেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে ছোট অংশে দায়িত্ব পালনে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জনের জন্য আমি গর্বিত। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে চুক্তিটি পরিষ্কারভাবে সফল।’
একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিনের খবরে বলা হয়, ইরান চুক্তির ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের চিন্তা করেননি। আরেকজন কর্মকর্তা তার চলে যাওয়াকে ‘বিরাট ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জনসনের এই পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক নাটকের একটি অংশ। সর্বশেষ নাটকীয়ভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে রেক্স টিলারসনকে অব্যাহতি দিয়ে মাইক পম্পেওকে নিয়োগ দেন ট্রাম্প। এছাড়া ট্রাম্পের অধীনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ শীর্ষ পেশাদার কূটনীতিক চলে গেছেন।
ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইউরোপিয়ান মিত্রদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এই পদক্ষেপকে দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও ইরানের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করবে।
ট্রাম্প নিয়মিতভাবে ইরান পরমাণু চুক্তিকে ভয়ংকর বলে দাবি করলেও দেশটির বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। ওবামা প্রশাসনের তৈরি করা চুক্তিটি ২০১৫ সালে চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রাখা হয় বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপ করা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
মতামত দিন