• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

তিস্তা নিয়ে কোনও সুখবর শোনাতে পারলেন না সুষমা স্বরাজ

  • প্রকাশিত ১১:৫৭ রাত মে ২৮, ২০১৮
sushma-swaraj-1527530091967.jpg
সুষমা স্বরাজ । ছবিঃ উইকিপিডিয়া

উপলক্ষ ছিল নরেন্দ্র মোদির সরকারের চার বছর পূর্তি। আর বছরে মাত্র একবার এ উপলক্ষে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যেমন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন, সোমবারও (২৮ মে) তেমন একটি দিন। সরকারের মেয়াদের শেষ বছরটা শুরু হওয়ার মুখে প্রতিবেশী বাংলাদেশের জন্য তিনি কিছু সুখবর শোনাতে পারেন, সেই প্রত্যাশায় কার্যত জল ঢেলে দিলেন তিনি!

বস্তুত তিস্তা চুক্তি কিংবা রোহিঙ্গা সংকট— কোনও ইস্যুতেই বাংলাদেশকে বিশেষ কোনও সুখবর দিতে পারলেন না ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত বছরের এপ্রিলে নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ভারতের হাতে সময় আছে বড়জোর ৭ মাস। কিন্তু সুষমা স্বরাজ বুঝিয়ে দিলেন সেই প্রতিশ্রুতি রাখা যাবে কিনা, তা নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর।

তিনি এদিন দিল্লিতে বলেন, তিস্তা চুক্তি শুধু ভারত আর বাংলাদেশ— এই দুই সরকারের বিষয় নয়, পশ্চিমবঙ্গও সেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ। ঠিক সে জন্যই আমরা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার কথা বলছি।’

সুষমা এদিন আরও জানান, গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটাকে কাজে লাগানো যায় কিনা, তা-ই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই প্রস্তাবটা ছিল তিস্তা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের আরও দুই-তিনটি নদী (যেমন মানসাই, ধরলা, জলঢাকা বা শিলতোর্সা) থেকে একই পরিমাণ জল বাংলাদেশে পাঠানো।

‘ওই নদীগুলোর জল ভাগ হলে তাতে তারা জলও পাবে, তিস্তাও বাঁচবে। এখন কেন্দ্রীয় সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকার মিলে সেই প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে, যদিও আমরা সেই রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি’, বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তার কথা থেকে এটা স্পষ্ট, এক বছর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে প্রস্তাবকে মনে করা হচ্ছিল সময় নষ্ট করার একটা উছিলা, এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও কিন্তু সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তাতে যে মূল তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে সেটাও পরিষ্কার।

সুষমা স্বরাজ অবশ্য এটাও দাবি করেছেন, মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, আমি এটাও বলবো, আমাদের সরকারের মেয়াদের তো পুরো এক বছর এখনও বাকি, আমাদের আগেই ফেল করিয়ে দিচ্ছেন কেন? এক বছর বাকি থাকতেই আমাদের বিফল ঘোষণা না করে বরং একটু ধৈর্য ধরুন, আমরা কিন্তু এটার পেছনে লেগে আছি!

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও মিয়ানমারের ভূমিকার সমালোচনা করে এদিন একটিও কথা বলেননি সুষমা স্বরাজ।

বরং বিস্তর টালবাহানার পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে থেকে তারা যে মাত্র ১ হাজার ২০০ লোককে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে, সেটাকে তিনি বিরাট গুরুত্বপূর্ণ একটা অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সুষমা বলেন, আমি কদিন আগেই আং সান সু চির সঙ্গে দেখা করে এলাম। তার আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী সাহেবও এখানে ঘুরে গেলেন। তারা দুজনই আমাকে দুদেশের মধ্যেকার প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে বলেছেন।’

‘আমি খুব খুশি যে মিয়ানমার এরইমধ্যে ১ হাজার ২২২ জন লোককে যাচাই-বাছাই করে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়ে গেছে। হয়তো এটা আকারে খুব ছোট পদক্ষেপ (বেবি স্টেপ), কিন্তু ফেলনা তো নয়!

এই মুহূর্তে যে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছেন, তাদের মধ্যে থেকে ১ হাজার ২২২ জনকে ফেরাতে রাজি হওয়াটা যে সিন্ধুতে বিন্দুও নয়, এটা যে ভারত মানছে না, সুষমা স্বরাজ সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এবং এই সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই যে ভারত একরকম মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে চলছে, সেই ব্যাপারটা?

এই প্রশ্নের জবাবেও তিনি সরাসরি জবাব দিয়েছেন, আপনারা কোথা থেকে এসব শুনতে পান জানি না, তবে আমরা এই ইস্যুতে মিয়ানমারকে সমর্থন করছি। বাংলাদেশ কিন্তু কখনও একটিবারের জন্যও আমাদের এমন কোনও অভিযোগ করেনি!