• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

পৃথিবীর মতো প্লুটোতেও বালিয়াড়ি, তবে মিথেন বরফের দানার

  • প্রকাশিত ১১:৫৮ সকাল জুন ২, ২০১৮
প্লুটো

প্লুটোর বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সেখানেকার বাতাসকে যত কম ঘনত্বের মনে করা হতো, ততটাও কম ঘনত্বের নয় তা। বরং সেখানে সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ১০ মিটার গতিতে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তা বালির মতো ক্ষুদ্র কণা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে গিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা মহাকাশযানের পাঠানো ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। সেসব তথ্য ও ছবি থেকে জানা গেছে, প্লুটোতে বালি কণার মতো ক্ষুদ্র আকারের মিথেন বরফের দানা রয়েছে। আর বায়ু প্রবাহের কারণে সেগুলো বালি দিয়ে তৈরি বালিয়াড়ির মতো মিথন দানার বালিয়াড়ি তৈরি করেছে। বালিয়াড়ি থাকাদের তালিকায় পৃথিবী, মঙ্গল, শুক্র, শনির চাঁদ টাইটান এবং ধূমকেতু ৬৭পি এর সঙ্গে নাম যোগ হলো বামন গ্রহ প্লুটোর নাম। সাইন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধের বরাতে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নাসার নিউ হরাইজনস মহাকাশযানটি প্লুটোর ছবিগুলো পাঠিয়েছে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে সেটি প্লুটোর কাছাকাছি পৌঁছায়। পৃথিবী থেকে নিউ হরাইজনস যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৬ সালে। নিউ হরাইজনসের গতি ঘন্টায় ৫৮ হাজার ৫৩৬ কিলোমিটার।

প্লুটোর বায়ুমণ্ডলকে অনেক কম ঘন মনে করা হতো, যার কারণে বায়ু প্রবাহজনিত প্রভাবে সেখানে বালিয়াড়ির মতো কোনও কিছুর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অভাবিত ছিল। কারণ বালিয়াড়ির মতো কিছু তৈরি করতে হলে বায়ুকে যথেষ্ট ঘন হতে হয় যাতে তা শুষ্ক কণা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে যেতে পারে। সাইন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ঠিক কীভাবে প্লুটোর স্পুতনিক প্লানিশিয়া এলাকার কিছু অংশে গড়ে ওঠা ‘মিথেন বরফের’ দানা বালিয়াড়ির মতো জমা হয়েছে। বালিয়াড়ি সৃষ্টি হওয়া ওই এলাকাটি ৫ কিলোমিটার উঁচু বরফের পাহাড়ের কাছে সৃষ্ট। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, এক একটি বালিয়াড়ি পরস্পরের ০.৪ থেকে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর সেগুলো গড়ে উঠেছে যে মিথেন দানা দিয়ে সেগুলোর পরিধি ২০০-৩০০ মিলিমিটার। বরফের পাহাড় থেকে নিচের দিকে বায়ু প্রভাবিত হয় আর তা বালিয়াড়ি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

নিবন্ধটির মূল লেখক প্লাইমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলবিদ ড. ম্যাট টেলফার বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমরা মিথেন বরফের দানাগুলোকে আলাদা আলাদা করে দেখতে পারিনি। কিন্তু বালিয়াড়িগুলো, তাদের বাহ্যিক মূল বৈশিষ্ট্য এবং ওখানকার বায়ুমণ্ডলের ঘনত্বের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছি আমরা। বালিয়াড়িগুলোর পারস্পারিক দূরত্ব এবং বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ নিয়েও একটা ধারণা পেয়েছি আমরা। এসব থেকে আমরা ধারণা করতে পারি মিথেন বরফের দানাগুলোর আকার কেমন হতে পারে।’ প্লুটোতে মিথেন বরফের বালিয়াড়ির উপস্থিতি নিশ্চিত করে, সেখানে বরফের নিচে বিপুল পরিমাণ মিথেন মজুত রয়েছে।

ড. টেফার মন্তব্য করেছেন, ‘প্লুটো যে নিছক সৌরজগতের শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি বরফের চাঁই নয় তা জানতে পারা সত্যি একটি রোমাঞ্চকর বিষয়। এটি এখনও গঠিত হচ্ছে এবং এর পরিবেশ স্থবির নয়।’ বিবিসি জানিয়েছে প্লুটোর বিষয়ে আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, সেটি চিরস্থায়ীভাবে নীরব, বিরান এবং ‘মৃত্যুর মতো শীতল’ এক স্থান। বিবিসির ‘স্কাই অ্যাট নাইট’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক স্যার প্যাট্রিক মুর একসময় এমনভাবেই প্লুটো সম্পর্কে বলেছিলেন। কিন্তু সাইন্সে প্লুটোকে নিয়ে লেখা নিবন্ধের সহযোগী লেখক যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলেক্সান্ডার হেইসের মন্তব্য, প্লুটোর বিষয়ে এমন ধারণা পরিবর্তনের সময় এসেছে। সৌরজগতের শেষ সীমায় থাকাটাই প্লুটোর একমাত্র পরিচয় নয়। বরং এটি কিউপার বেল্টের অজানা এলাকা আবিষ্কারের প্রবেশ পথ।

ছবিগুলো পাঠানো নিউ হরাইজনস এখনপ্লুটো ছাড়িয়ে কিউপার বেল্টের আরেকটি বস্তুর দিকে যাচ্ছে, যাকে ২০১৪ এমইউ৬৯ ডাকে ডাকা হয়।