• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৫ সকাল

নাফটা চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ট্রুডোর

  • প্রকাশিত ০৮:২৫ রাত জুন ১০, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৭ রাত জুন ১০, ২০১৮
justin-trudeau-1528640612283.jpg
জাস্টিন ট্রুডো

নাফটা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত সানসেট ক্লজ-এর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। শনিবার তিনি নিজ দেশের এমন অবস্থানের জানান দেন। সানসেট ক্লজ অনুযায়ী, চুক্তিটি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে পড়ার কথা। কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো মনে করেন, সানসেট ক্লজসহ চুক্তি আসলে কোনও চুক্তির আওতায় পড়ে না। তবে বিষয়টি নিয়ে আপোষরফায় তিনি প্রস্তুত ছিলেন।

ট্রাম্প নিয়মিতভাবেই এই নাফটা চুক্তি (নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন। তার দাবি, চুক্তিটি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে পড়বে। তবে ট্রাম্পের এমন দাবিকে অকার্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে কানাডা ও মেক্সিকো।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নতুন চুক্তিতে এই সানসেট ক্লজের বিধান থাকবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ট্রুডো।

জি৭ সম্মেলন শেষে কানাডার কুইবেকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখানে কোনও সানসেট ক্লজ থাকবে না। আমরা এমন চুক্তি করবো না, যা প্রতি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এখানে বিকল্পগুলোর বিষয়ে নানা আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সেটা একটা বাণিজ্য চুক্তিকে পুরোপুরি অস্থিতিশীল করে দেওয়া নয়। তবে আমি মনে করি, সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে আমরা উন্মুক্ত।

কর্মকর্তারা বলছেন, কানাডা ও মেক্সিকোর প্রস্তাব হচ্ছে, প্রতি পাঁচ বছর পর পর চুক্তিটি পর্যালোচনায় একত্রিত হবে এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো।

নির্বাচনি প্রচারণাকালে ট্রাম্প নাফটার নিন্দা জানিয়েছিলেন। সে সময় অঙ্গীকার করেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নাফটা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সহায়ক করতে পুনরায় আলোচনা শুরু করবেন। চুক্তিতে বড় ধরনের সংস্কার না আনলে এবং মার্কিন স্বার্থ সংরক্ষিত না হলে চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ারও হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিন দেশের আলোচনায় খুব একটা অগ্রগতি না হওয়ায় ট্রাম্প নাফটা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ভাবছেন।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, নাফটার মতো চুক্তির ক্ষেত্রে সব অংশীদার রাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বিষয়ে অবগত করার মাধ্যমে যে কোনও স্বাক্ষরকৃত রাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। চূড়ান্তভাবে চুক্তি প্রত্যাহারের আগে নতুন করে আলোচনার জন্য আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। তবে ছয় মাসের নোটিস দিলেও ট্রাম্প যে নাফটা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনতে পারবেন তার নিশ্চয়তা নেই। চুক্তি থেকে সরে আসার নোটিস কংগ্রেসে অনুমোদন পেতে হবে। আর কংগ্রেসেও এ নিয়ে ট্রাম্পকে বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। এবারের জি সেভেন সম্মেলনে এ ইস্যুতে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিবাদ চরমে পৌঁছায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন করে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্ক।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। কানাডা, মেক্সিকো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জবাবে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। জবাবে কানাডাকে অসৎ উল্লেখ করে সম্মেলন শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি সেভেন সম্মেলনে সাত দেশের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক বাণিজ্য নিয়ে সমঝোতা হলেও শেষ মুহূর্তে সেখান থেকে সরে আসেন তিনি।

কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের জি সেভেন সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্য নিয়ে মতৈক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিলো। দুইদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, ইতালি ও কানাডার নেতাদের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্কের পর শনিবার সমঝোতা হয়। পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্যের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে আট পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতি ঘোষণা করে সাত দেশ। সংরক্ষণবাদ নীতি মোকাবিলা এবং বাণিজ্য বাধা দূর করার ব্যাপারে বিবৃতিতে অঙ্গীকার করা হয়। ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর সেতুবন্ধন রচনা করা গেলো না। সম্মেলন শেষ হতে না হতেই ওই বিবৃতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার দাবি, অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিপুল শুল্ক’ আরোপ করছে।

জি সেভেন সম্মেলন শেষ হওয়ার পর একটি সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রুডো। সম্মেলনে তিনি বলেন, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে ট্রাম্প যে নিজ দেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের যুক্তি দেখিয়েছেন তা অপমানজনক’। ট্রুডো বলেন, এটা আফসোসের বিষয়। তবে করতে হবে। আমরা ১ জুলাই থেকে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

শনিবার আগাম কানাডা ছাড়েন ট্রাম্প। ১২ জুন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক করতে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথেই একটি টুইট করে জি সেভেনের সমঝোতামূলক বিবৃতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।।

টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, অটো মোবাইলের ওপর শুল্ক আরোপের জন্য তার দেশের কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদেরকে জি সেভেনের যৌথ বিবৃতি অনুসরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মিথ্যা বক্তব্যকে’ কেন্দ্র করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।

টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, "কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জি সেভেন সম্মেলনে নম্র-ভদ্র আচরণ করেছেন। আমি সেখান থেকে চলে আসার পর যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ অপমানজনক’ এবং তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না’। তিনি খুব অসৎ ও দুর্বল। ডেইরি খাতে তার আরোপিত ২৭০ শতাংশ শুল্কের জবাবেই আমাদের শুল্ক। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন।