• শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩২ বিকেল

ঔপনিবেশিক আইন বাতিল করে সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারত

  • প্রকাশিত ০৩:২৩ বিকেল সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮
lgbt
ভারতের অন্তত ৩২ জন এলজিবিটি কর্মী ৩৭৭ ধারা বাতিলের জন্য আদালতে পিটিশন করছিলেন। ছবি- এএফপি

বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র  বলেছেন, একজন সাধারণ নাগরিকের যে অধিকার রয়েছে সেই একই অধিকার সমকামী সম্প্রদায়েরও রয়েছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ১৫৮ বছরের পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের দণ্ডবিধির বিতর্কিত ৩৭৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করেছে। ৩৭৭ ধারায় সমলিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা হত। এই ধারকে অযৌক্তিক ও বিধিবহির্ভূত বলে ঘোষণা করেছে ভারতের আদালত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি রোহিন্তন নারিমন, এএম খানউইলকার, ডিওয়াই চন্দ্রচুড় ও ইন্দু মালহোত্রা।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র  বলেছেন, একজন সাধারণ নাগরিকের যে অধিকার রয়েছে সেই একই অধিকার সমকামী সম্প্রদায়েরও রয়েছে। পরস্পরের অধিকারকে সম্মান করুন আর সেটাই সর্বোচ্চ মানবতা। সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা অযৌক্তিক ও অসমর্থনযোগ্য। প্রধানবিচারপতির রায়কে সমর্থন করেছেন বিচারপতি রোহিন্তন নারিমন, ডিওয়াই চন্দ্রচুড় ও ইন্দু মালগহোত্রা।

২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ৩৭৭ ধারা থেকে অপরাধ-কে নিমূর্ল করার পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু ২০১৩ সালে সুরেশকুমার কৌশল বনাম নাজ ফাউন্ডেশনের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। চলতি বছরের মে মাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এলজিবিটি-দের প্রাক্তনীদের অ্যাসোসিয়েশন ৩৭৭ বাতিল করতে মামলা করে। অবশ্য এর আগেই ২৭এপ্রিল হামসফর ট্রাস্টের অশোক রাও কাভি এবং আরিফ জাফর ৩৭৭ ধারা-র বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

গত ১৭ জুলাই শীর্ষ আদালত ৩৭৭ ধারা নিয়ে তার চূড়ান্ত রায়দান স্থগিত রাখে। তখনই জানানো হয়েছিল যে এই নিয়ে ৬ সেপ্টম্বর চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। গত আগস্টে আদালত জানিয়েছিলো কারও যৌন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আলাদা করাটা তার বিরুদ্ধে সম্মানহানি ও বৈষম্যমূলক আচরণ।