• বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩ রাত

বিশেষ প্রতিবেদন: তরুণ-তরুণীদের গতানুগতিক রাজনীতি নয়, প্রতিবাদ পছন্দ

  • প্রকাশিত ১০:১৩ রাত সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮

ওর্ব মিডিয়া  পরিচালিত এক জরীপের বিশ্লেষণ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী রাজনীতি নিয়ে উৎসাহী তরুন-তরুনীদের ক্রমবর্ধমান একটি সংখ্যা রাজনৈতিক কার্যাদি পরিচালনার প্রচলিত প্রথা প্রত্যাখ্যান করে বেছে নিচ্ছে রাজপথমুখী প্রতিবাদসহ অন্যান্য প্রথাবিরোধী পন্থা।

গণতন্ত্রের সাথে কিম্বারলি কিউতের প্রথম পরিচয় তাকে মানসিকভাবে বেশ ধাক্কা দেয়। 

২০০৮ সালের সহিংস নির্বাচনের পর জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক বিরোধী দল চেষ্টা করছিল বিধ্বস্ততা থেকে উৎরিয়ে আসার। তখন কিশোরী কিউতে দেশটির রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্যাতিত সমর্থকদের খাবার পৌঁছে দিতে তাঁর মাকে সাহায্য করেন।   

সেই মুহূর্তের আঘাতে ছিন্নিভিন্ন মাংস আর জর্জরিত ফোলা মুখের দুর্বিষহ স্মৃতি সময়ের সাথে সাথে এখন সয়ে গিয়েছে।  সে সময়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে কিউতে বলেন, “সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি যা নিয়েছি তা হল, রাজনীতির সাথে কারোর কোনরকম সম্পৃক্ততার কোন প্রয়োজন নেই। কিছুই করার দরকার নেই। ভোটও দেবার দরকার নেই”।

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা রবার্ট মুগাবে গতবছর সামরিক অভ্যুত্থানের পর অপসারিত হলে জিম্বাবুয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনে ভোট দেয়া নিয়ে বেশ উৎসাহী ছিলেন ২৪ বছরের এই তরুণ ইভেন্ট পরিচালক কিউতে।

“তোমার ভোট তোমার সিদ্ধান্ত, তোমার আওয়াজ”, বলেন কিউতে। ভোট কেন্দ্র খোলার পূর্বমুহূর্তে সাক্ষাৎকার দেয়া তরুণ প্রাণদের কথাগুলোই যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল কিউতের কণ্ঠে, “আমি বেশ আশাবাদী”। 

কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রধান দুই প্রার্থীই যখন পরিবর্তনকে প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করেন, জিম্বাবুয়ের বিচ্ছিন্ন যুব সমাজ কি অংশগ্রহণ করবে সেই নির্বাচনে?

গোটা বিশ্বে জিম্বাবুয়ের মতো পরিস্থিতিতে তরুন-তরুনীদের অংশগ্রহণের নজির খুব কমই আছে। 

তবে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ওর্ব মিডিয়া  পরিচালিত ১২৮টি দেশের ৯৭৯,০০০ এরও বেশি লোকের তথ্য বিশ্লেষণ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী রাজনীতি নিয়ে উৎসাহী তরুন-তরুনীদের ক্রমবর্ধমান একটি সংখ্যা রাজনৈতিক কার্যাদি পরিচালনার প্রচলিত প্রথা প্রত্যাখ্যান করে বেছে নিচ্ছে রাজপথমুখী প্রতিবাদসহ অন্যান্য প্রথাবিরোধী পন্থা।  

সেই বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, যাদের বয়স ৪০এর ঊর্ধ্বে তাদের তুওনায় অনূর্ধ্ব ৪০ তরুন-তরুনীদের মধ্যে প্রথাবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করার প্রবণতা শতকরা ৯ থেকে ১৭ ভাগ বেশী। অথচ, ২০০০ সালের শুরুর দিকে অনূর্ধ্ব ৪০ যুবাদের মধ্যে প্রতিবাদ করার প্রবণতাই ছিল শতকরা মাত্র ৩ ভাগ। 

“আমাদের অংশগ্রহণে আগ্রহী এমন তরুণ প্রজন্ম আরও বেশী প্রয়োজন যেন তারা এগিয়ে আসে, আওয়াজ তোলে এবং গণতন্ত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে”, বলেন মালয়েশিয়ার গণতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা বার্স ২.০-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরুলসারি (৪৩) ।

তরুণ-তরুণীরা বরাবরি সংখ্যায় কম ভোট দিয়ে আসছে। তবে যখন জরীপ দেখাচ্ছে সরকার গঠনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ধরন গণতন্ত্র, তখন স্বেচ্ছাসেবক, দলের সদস্য কিম্বা আন্দোলনকারী হিসেবে অংশগ্রহণকারী তরুণদের সংখ্যা খুবই কম। 

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই তফাতটা বাড়ছেই। একদিকে যেমন তরুণরা গতানুগতিক প্রথা প্রত্যাখ্যান করে বিকল্প হিসেবে প্রতিবাদের প্রথাবিরোধী রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে, অপরদিকে বয়স্করা চাইছেন এসব প্রতিবাদ এড়িয়ে যেতে। 

এমন দোদুদ্যমানতার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। বর্তমানে যে সকল নেতৃত্ব কিংবা কার্যক্রম সেকেলে প্রাতিষ্ঠানিক আকারে পরিচালিত হয়, তরুন-তরুনীরা তাতে মোটেও আর আগ্রহী নয়।








তারা পছন্দ করে এমন একটি আধুনিক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কাঠামো, যেখানে সবাই ভোগ করবে সমান অধিকার এবং সেই সাথে পালন করবে সমান দায়িত্ব। আবার কিছু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণামূলক মতাদর্শভিত্তিক যুদ্ধের অভাবও একটি কারণ।

আরেকটি কারণ হল প্রতিষ্ঠিত কাঠামোতে তারুণ্যদীপ্ত নতুন মুখের অনুপস্থিতি। বিশ্বের সংসদগুলোয় ৩০ বছরের নীচে সাংসদের সংখ্যা প্রতি একশ জনে মাত্র দুই জন। গতানুগতিক রাজনীতি নৈতিকতার প্রসঙ্গে শিথিল। তরুণ-তরুণীদের কাছে গতানুগতিক রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা কম হওয়ার জন্য এটিও একটি সম্ভাব্য কারণ।নির্বাচন সম্পৃক্ত জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ইপসসের ইতালীয় বিশ্লেষক মাতিয়া ফরনি (২৭) বলেন, “তরুণ-তরুণীরা প্রতিষ্ঠা-বিরোধী বিকল্প পছন্দ করছে”।

পোল্যান্ডের ২০১৫ সালের নির্বাচনে অনেক বামপন্থী তরুণ-তরুণী সিদ্ধান্ত নেয় “মন্দের-ভালো”দেরও তারা ভোট দিবে না, মোটকথা তারা পুরো প্রক্রিয়াটারই বিরোধিতা করবে। এমন্তাই জানান কুড়ি বছরের পোলিশ কর্মী দমিনিক পুখালা।পোলিশ তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যারা ভোট প্রদান করেছিলেন, তাদের সমর্থন ছিল ডানপন্থী দলে। পতন ঘটে মধ্য-বাম দলের। “ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কি পদক্ষেপটা? হয়তো হ্যাঁ”, ওয়ারস্য বইয়ের দোকানে কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে বলেন পুখালা, “আমরা এখন এর প্রভাবগুলি পর্যবেক্ষণ করছি”। পোলিশ সংসদের বাইরে প্রতিবাদ সমাবেশে ধূম্র বোমা বিস্ফোরণের পর ডমিনিক পুখালা  (২০) আর তার বান্ধবী (ডান দিক থেকে)। ছবি:  ক্রিস্টোফার টাইরি 








তিনি আরও বলেন, “ভোট প্রদান হল আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কিছুকে প্রভাবিত করার একটি পদ্ধতি। তবে অনেক সময় তাও যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে সুশীল নয় এমন একটি সমাজে”। পর দিন, পুখালা একটি যন্ত্র দেখায়। এই যন্ত্রটা দিয়েই সংসদের বাইরে কোনো এক বিক্ষোভের সময় উজ্জ্বল-গোলাপী বর্ণের ধোঁয়ার তরঙ্গ তৈরি করা হয়।

রাজপথ হতে পারে একটি পছন্দনীয় বিকল্প, কিম্বা বেদনাদায়ক শেষ অবলম্বন। 

“আমার তো প্রতিবাদ করার কথা না, কিন্তু আমাকে করতে হল। এছাড়া তো আর কোন উপায়ান্তরও ছিল না”, বলেন স্থাপত্যকলার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, “রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। কিছুই করছে না তারা”।

গত আগস্ট মাসে রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় দুইজন কিশোর-কিশোরী প্রাণ হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত হাজারো শিক্ষার্থী রাজপথ আটকে ফেললে তাদের উপর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা বর্বরোচিত হামলা করে।  

“আমি কখনই ভোট প্রদান করব না”, এমনই বলেন কুড়ি বছরের এক তরুণী। পুলিশ পেটানোর পর তার হাত ছিল ব্যান্ডেজে বাঁধা। “আমাদের ভোটের কোন মূল্য নেই”। 

আন্দোলন শেষ। শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার তখনও চলছিল। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৩৬,০০০জন বাস চালককে পেশাদারী প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাঁচ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। 

স্লোভাকিয়া, গুয়েতেমালা, তিউনিসিয়া, এবং মিশরে বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের জন্য তরুণ-তরুণীদের দূর্বার অগ্রসরতায় তারা তাদের নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অপসরণে সফল হয়। প্রতিটা ক্ষেত্রেই তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত হয়।

“তরুণ-তরুণীরা যদি এভাবেই আইন অমান্য করেই যায়, তবে অনিবার্যভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাদের বাদ দিয়েই তা করা হবে”, মার্কিন-ভিত্তিক নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ সহায় সংস্থা দ্বারা পরিচালিত একটিকাগজে সম্প্রতি এমনটাই জানানো হয়।

অন্য কথায়, জিততে চাইলে তোমাকে এর সাথেই থাকতে হবে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের সময় অভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৫০ এর কম ছিল। অথচ মার্কিন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করে।  একটা বড় মাপের ফারাক এখানেই নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো।




তবে প্রথাগত দলগুলোকেও ব্যক্তিগত কারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি ভূমিকা পালন করার প্রতি আকৃষ্ট সেসব ভোটারদের সাথেও মানিয়ে চলতে হবে। “ রাজনীতির প্রথাগত ধরনে একটি সমস্যা আছে”, বলেন ব্রিটিশ সংসদের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ বেন লেক (২৫), “আমার মনে হয় না যুক্তরাজ্যে  এই নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অদ্যাবধি কোন সচেতনতা তৈরি হয়েছে”। অধিকাংশ তরুণ-তরুণীর জন্যই এই প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া সহজ নয়।

“দলীয় গঠনই এমন যে তা তাদের উৎসাহী করেনা”, বলেন লেক। (ব্রিটেনের ৬৫০ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র ১৪ জনের বয়স ৩০এর নীচে।)

নিকারাগুয়ার কর্মী ২২ বছরের মারিয়া নিরাপত্তা বাহিনী থেকে লুকোতে লুকোতে বলে, “ তাদের কথা হল, তুমি যদি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের অংশ না হয়ে থাক, তবে তোমার কোন কিছু বলার কোন অধিকার নেই”।

নিকারাগুয়ায় গত এপ্রিলে শুরু হওয়া দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে এই নিরাপত্তা বাহিনী শত-শত তরুণ-তরুণীদের হত্যা করেছে।

মারিয়া রাজধানী মানাগুয়ায় তিন বছর ধরে নাগরিক সমস্যা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে তরুণ-তরুণীদের উদ্বুদ্ধ করছে। তবে বর্তমানে সে লুকিয়ে রাখছে নিজেকে। “আমার জন্য বিকল্পগুলো হচ্ছে বাসায় চুপ করে বসে থাকা, আর বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনদের কাছে নালিশ করা। কিন্তু আমরা যারা তরুণ-তরুণীরা আছি, আমাদের অবশ্যই নিজেদের দাবি-দাওয়াগুলো উত্থাপন করতে হবে”। 

“আমার বাবা-মা আর তাদের পূর্বসূরি প্রজন্ম এক স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়েছিল,” বলেন ম্যাডেলিন (২০)। তিনিও মারিয়ার মতো নিকারাগুয়ার একজন কর্মী, তবে বর্তমানে ইউরোপে নির্বাসিত। রাষ্ট্রপতি ওরতেগার সামনেই মেরে ফেলা শিক্ষার্থীদের নামগুলো পড়ার পর থেকেই তিনি গ্রেফতার হওয়াকে ভয় পাচ্ছেন। " আমাদেরকেও তা'ই করতে হবে", বলেন ম্যাডেলিন।

মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ-অ্যালায়েন্সের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিরোধীদলীয় প্রার্থী নেলসন চামিসার এক তরুণ সমর্থক। ছবি:  ক্রিস্টোফার টাইরি 

এই উগ্রজাতীয়তাবাদ নিয়ে, ম্যাডেলিনের ভাসায় ‘অ্যাডাল্টেরিজমো’ নিয়ে তরুণ-তরুণীদের অভিজ্ঞতাগুলো গোটা মহাদেশ জুড়ে একই। 

জিম্বাবুয়ে ১৯৮০ সালে সংখ্যালঘিষ্ঠ-স্বেতদের শাসনের পতনের পরে যারা জন্ম নেয় তাদের বলা হয় ‘বর্ন ফ্রি’ কিম্বা ‘মুক্ত-জন্মা’। 

“এর অর্থ হল তুমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করনি, তাই তোমার মতামতের কোন আবশ্যকীয়তা নেই”, বলেন কিউতে। মুক্ত-জন্মারা তাদের ভবিষ্যৎ বার্ধক্যে মুহ্যমান এবং দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাতের কাছে হারিয়ে ফেলেছে। আজ তারা বেকারত্বের সাথে সংগ্রাম করছে, এমনকি জিম্বাবুয়ের নিজস্ব কোন মুদ্রাও নেই।   .

দুর্নীতি তরুণ-তরুণীদের ভোট দেয়ার ইচ্ছাটাকেও দমন করে দেয়।

অর্ব মিডিয়া’র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৪০ এর নীচে যারা ভাবছে সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত তাদের মধ্যে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা যারা   সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবছে না তাদের তুলনায় শতকরা ৭-১৫ ভাগ কম। ৪০ এর উপরে যাদের বয়স এবং যাদের কাছে দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে তাদের ভোট দেয়ার সম্ভাবনা শতকরা মাত্র ৪-৭ ভাগ কম। 

২০১৬ এর একটি তথ্যানুসারে জিম্বাবুয়েতে তরুণদের মধ্যে যাদের কাছে দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে, তাদের মধ্যে যাদের কাছে দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয় নি তাদের তুলনায় ভোট দেয়ার সম্ভাবনা শতকরা ২১ ভাগ কম। 

তরুণদের ভোট “প্রাথমিকভাবে, তাদের চাপা আক্রোশ আর বর্ণনাতীত কষ্টের ভিত্তিতে দেয়া হয়, রাজনৈতিক শিক্ষার ভিত্তিতে নয়”, বলেন দেশটির বিরোধীদলীয় মুখপাত্র গুতা চেঙ্গেতাই (৩৫)। 

কিন্তু এখনও একজন কপটচারী প্রার্থী কিম্বা কোন মিথ্যা সমস্যা বেশ আকর্ষণীয়। 

পোল্যান্ড আর ইতালির তরুণরা অভিবাসন-বিরোধীতা নিয়ে বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। ২০১৫’র দিকে যখন আন্দোলনকারীরা পোল্যান্ডের সরকারকে ৬,২০০ শরণার্থীদের  প্রবেশ করতে বাধা দিতে বাধ্য করে, “ আমরা সত্যি ভেবেছিলাম আমরা জিতে গিয়েছি”, বলেন চরম ডানপন্থী তরুণদের একটি দলের মুখপাত্র মাতেউস মাযখ (২৪)। খামারির ছেলে মাযখের ইচ্ছা পোলিশ তরুণদের ঈশ্বর এবং জাতির কাছে আনা। 

তার মতে, “গণতন্ত্র হল সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ইচ্ছার প্রতিফলনের পাশাপাশি সংখ্যালঘিষ্ঠদের অধিকারকে সম্মান করা। তবে এর মানে এই নয় যে সংখ্যালঘিষ্ঠদের ইচ্ছা সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর চাপিয়ে দেয়া, যেমনটা প্রায়ই পশ্চিমা দেশগুলোতে হতে দেখা যায়”। 

প্রথাগত এবং অপ্রথাগত পন্থার মধ্যের পাথক্যটা বরাবরই সহজভেদ্য। রাজপথ আর ইন্টারনেট কোন সহায়তা করতে পারেনা, কিন্তু শাসনব্যবস্থাকে ঠিকই প্রভাবিত করতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে সংঘটিত গোলাগুলির যে ঘটনায় ১৭টি বাচ্চা প্রাণ হারায়, সেই ঘটনায় যারা প্রাণে বেঁচে যায় তারা পরবর্তীতে নভেম্বারের কংগ্রেসের নির্বাচনে যারা প্রথমবার ভোটার হতে যাচ্ছে তাদের ভোট প্রদানে উৎসাহিত করতে একটি আন্দোলন শুরু করে । 

“প্রতিটা নির্বাচনকে এভাবে দেখ যে এটিই তোমার শেষ নির্বাচন”, এমনটাই টুইট করেন পার্কল্যান্ড আন্দোলনের কর্মী ডেভিড হগ (১৮)। হগের টুইটার আর ইনস্টাগ্রামে তাকে প্রায় এক মিলিয়ন ব্যবহারকারী অনুসরণ করে থাকে। এই এক মিলিয়ন ব্যবহারকারীদের মধ্যে অধিকাংশেরই টেলিভিশনসহ অন্যান্য মাধ্যমে বেশ নাম-ডাক আর প্রভাব আছে। ফলে হগের টুইটের পর তারাই দেশটির ভোক্তা প্রিয় বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোকে বাধ্য করে মার্কিন বন্দুক বিক্রেতা সংস্থা  ‘দি ইউএস গান লবি’র সাথে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করে।


 তরুণ-তরুণীদের ভোট দিয়ে উৎসাহিত করার লক্ষে আয়োজিত মার্চ ফর আওয়ার লাইভস আন্দোলনের ব্যাজ দিয়ে সুসজ্জিত জ্যাকেট পরা ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের একজন। ছবি: ক্রিস্টোফার টাইরি 

জুলাইয়ের ৩০ তারিখ কিম্বারলি কিউতে তাঁর মায়ের সাথে একটি স্থানীয় প্রাইমারি বিদ্যালয়ে গিয়ে ভোট দিয়ে আসে। আর ভোট দেয়ার পর সেই আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে উদযাপন করতে তার ভোটের চিহ্ন ছোট্ট আঙ্গুলের রঙ্গিন কালির ছবি তুলে পোস্ট করে টুইটারে। অবশ্য সে কাকে বা কোন দলকে ভোট দিয়েছে তা অপ্রকাশিতই রাখে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল দিতে যখন বিলম্ব করা হচ্ছিল, তখন রাজধানী হারারেতে স্লোগানমুখর জনগনের ঢল নামে। আর সেই ধলেই সেনারা গুলি ছোঁড়ে। এতে মারা যান ছয়জন, গ্রেফতার হন শত শত মানুষ। এই পরিস্থিতি জিম্বাবুয়েকে ঠেলে দেয় চরম হতাশা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।



গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রটাই যখন সীমাবদ্ধতায় থাকে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোই নিরাপদ ভরসা।

আনুষ্ঠানিকভাবে এমারসন এমনানগাওয়া (৭৫) কে নতুন রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়া হল। প্রতারণা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করার অভিযোগ থাকার পরেও তিনি তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী নেলসন চামিসাকে (৪০) পরাজিত করে রাষ্ট্রপ্রধান হন। “তবে আমি এই টুক নিশ্চিত, তরুণদের ভোটগুলো পেয়েছিলেন চামিসাই”, বলেন দেশটির ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদ কাইন্ডনেস পারাযা (৫৫)।

জিম্বাবুয়েতে ১০ বছর পুরনো মাগাম্বা নেটওয়ার্ক তাদের লক্ষ লক্ষ দর্শকদের জন্য তারুণ্যভিত্তিক রম্য-রচনা, খবর, আর ভোটের আয়োজন করে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই। "কোথায় যেন একটা তারুণ্যপূর্ণ কণ্ঠের অভাব ছিল,” বলেন নেটওয়ার্কটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা বত্রিশ বছর বয়সী কবি টোঙ্গাই মাকাওয়া।

মার্কিন ভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইন্সটিটিউটের র‍্যাচেল মিমস বলেন,” যদি তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে কিম্বা ব্যাঙ-রচনার মাধ্যমে কিছু করতে চায়, আমাদের উচিৎ তাদের নেতৃত্ব অনুসরণ করা।

জিম্বাবুয়ের নির্বাচনী দিনটির পর কিছু রাজপথে তখনও ছোঁড়া গুলির খাপগুলো পড়েছিল,তখনও রক্তের দাগ জমে ছিল।

“আমি আমার ভোট প্রদান নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম”, সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কিউতে বলেন,”কিন্তু এর জন্য, আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে গিয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, কোন এক সময় একটা পরিবর্তন অবশ্যই আসবে। আমি আমার ভোটাধিকার চর্চা করেই যাব”।

জিম্বাবুয়ের  নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী  নেলসন চামিসার সমর্থকদের র‍্যালির সময় ছবিগুলো তুলেছেন আলোকচিত্রী ক্রিস্টোফার টাইরি