• বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩ রাত

জাদুঘর থেকে চুরি করা সোনার টিফিন বাক্সে প্রতিদিন খাবার খেত চোর

  • প্রকাশিত ০৭:৩০ রাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮
Nizam's Museum
হায়দ্রাবাদের নিজামের জাদুঘর থেকে এই টিফিন বাক্সটিই চুরি করে চোরেরা। ছবি- এনডিটিভি

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে হায়দ্রাবাদের জাদুঘরের ভেন্টিলেটার ভেঙে প্রবেশ করে ওই দুই চোর। মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করতে ভেন্টিলেটারের লোহার গ্রিল কেটে হামাগুড়ি দিয়ে তাঁরা ঢোকে ওই জাদুঘরে।

হায়দ্রাবাদে নিজামের জাদুঘর থেকে সোনা হীরে জহরত চুরি করে পালিয়ে মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে উঠেছিল দুই চোর। এক সপ্তাহের মধ্যে এই চোরদের খুঁজে বের করে আটক করেছে পুলিশ।

জাদুঘর থেকে চার কেজির একটি সোনার টিফিন বাক্স, যাতে হীরা, চুনি ও পান্না বসানো, একটি রুবি বসানো সোনার পেয়ালা ও পিরিচ, সোনার চামচ ও ট্রে উদ্ধার করা হয়েছে ওই চোরেদের থেকে। ত্রিস্তরী ওই টিফিন বাক্সের মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দুই চোরের একজন প্রতিদিন ওই টিফিন বাক্সেই টিফিন খেত। হায়দ্রাবাদ পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে হায়দ্রাবাদের জাদুঘরের ভেন্টিলেটার ভেঙে প্রবেশ করে ওই দুই চোর। মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করতে ভেন্টিলেটারের লোহার গ্রিল কেটে হামাগুড়ি দিয়ে তাঁরা ঢোকে ওই জাদুঘরে।

হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার অঞ্জনি কুমার জানান, "সোনার আস্তরণ দেওয়া একটি কোরাণ বই চুরি করতেই যাচ্ছিল তাঁরা, তক্ষুণি তাঁদের কানে আসে ফজরে আজান শুরু হয়ে গিয়েছে। জানিনা ওরা ভয় পেল নাকি সংবেদনশীল হয়ে পড়ল হঠাৎ আজান শুনে, কোরাণটা ওরা চুরি করে নিয়ে যায়নি”। চুরি যাওয়া জিনিসের মধ্যে শুধু সোনারই বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা কিন্তু এসবের ‘অ্যান্টিক বস্তু' হিসেবে এসবের কদর দামের চেয়েও বেশি। 

"দুবাইয়ের বাজারে ৩০-৪০ কোটি টাকায় আরামে বেচে দিত পারত এই চোরেরা" জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।

ওই চত্বরে প্রায় ৩২ টি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। কিন্তু তাতে কোনও ফুটেজই পাওয়া যায়নি কারণ চুরির সময় ক্যামেরার মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয় ওই চোরেরা।

ওই জাদুঘর থেকে পালানোর জন্য ১৮ টি আলাদা আলাদা রাস্তা ছিল। একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে দুই ব্যক্তি একটি বাইকে চেপে পালাচ্ছে। কিন্তু সেই ফুটেজ থেকে চোরেদের মুখ দেখা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। চোরেরা মাফলারও বেঁধে রেখেছিল মুখে। বাইকের পিছনে বসা ব্যক্তিকে দেখা যায় মোবাইলে কথা বলতে, ওই ফোনটি ট্র্যাক করতে বাইশটি দলকে কাজে লাগায় পুলিশ। কিন্তু সেই চেষ্টাও বৃথা যায় কারণ পুলিশকে বোকা বানাতে ফোন করার অভিনয় করেছিল ওই চোর। তাঁদের ফোনে কোনও সিমকার্ডই ছিল না। ভেন্টিলেটার দিয়ে ঢুকে যেতে পারে এমন চেহারার ব্যক্তি যারা এর আগে চুরির নানা ঘটনায় অভিযুক্ত তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। অবশেষে চারমিনার এলাকার একটি ভিডিও সার্ভিলিয়েন্স থেকে দেখা যায় ওই দুই ব্যক্তির বাইক মাঝ পথে রেডিয়েটরের গোলযোগের কারণে থেমে যায়।

জাহিরাবাদ জেলার কাছে পুলিশ একটি পরিত্যক্ত বাইক উদ্ধার করে যার রেডিয়েটর খারাপ ছিল। ওই দুই চোর মুম্বাই পালিয়ে গিয়ে একটি পাঁচতারা হোটেলে ওঠে, কয়েকদিন সেখানে অবস্থানও করে তারা। ঘটনার মূল অভিযুক্তের নামে ইতোমধ্যেই ২৬ টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী চোর যিনি বয়সে ছোট হলেও এই চুরির মূল পরিকল্পনা তারই। কয়েক মাস আগে পর্যটক হিসেবে জাদুঘর ঘুরতে এসেই চুরির পরিকল্পনা সাজায় তারা।