• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ সকাল

চীনে মুসলিম ধরপাকড় ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রকাশিত ০৬:০৩ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
চীন
চীনে মুসলিমদের ধরপাকড় ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: রয়টার্স

জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে কাউন্টার-এক্সট্রিমিজম সেন্টারগুলোতে আটকে রাখার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছে তারা।

চীনে মুসলিমদের ওপর চলমান ধরপাকড় অভিযান ও তাদের আটকে রাখা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিথার নোয়ার্ট চীনের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা জিনজিয়াং-এ সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান এই অত্যাচার নিয়ে এই উদ্বেগ জানান। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স কংগ্রেস সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে চীনা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অবশ্য চীন দাবি করে আসছে ইসলামিক সশস্ত্র যোদ্ধা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হুমকির মুখে আছে জিনজিয়াং প্রদেশ। ইসলামিক এসব যোদ্ধা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হামলার পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি করা হয়েছে দেশটির তরফ থেকে। এ ছাড়াও সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় চীনা আদিবাসী হানদের সঙ্গে উইঘুরদের সংঘর্ষের আশঙ্কাও জানিয়েছে চীন। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় সেখানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। 

তবে সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে কাউন্টার-এক্সট্রিমিজম সেন্টারগুলোতে আটকে রাখার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছে তারা। সংস্থাটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক কমিটির সদস্য গে ম্যাকডুগাল বলেন, “এতো বিপুলসংখ্যক উইঘুর আটকের ঘটনা উদ্বেগজনক।”

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিথার নোয়ার্ট বলেন, “চীনের ওই অঞ্চলে শুধু উইঘুর নয়, কাজাখসহ অন্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চালানো ভয়াবহ ধরপাকড় অভিযানের কারণে আমরা উদ্বিগ্ন। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে হাজারো মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত যা বলতে পারি তাতে এ সংখ্যাটা বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।”

আগস্টের শেষের দিকে সাত চীনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও অর্থমন্ত্রী স্টিভেন এমনুচিনকে অনুরোধ জানিয়েছিল মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি দল। মার্কিন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে আছে।  

কংগ্রেস সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স আরও জানায়, জিনজিয়াং-এ বন্দিশালা নির্মাণ এবং উইঘুরদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত নজরদারি ব্যবস্থা মোতায়েনে জড়িত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও অবরোধ আরোপের কথা ভাবছে মার্কিন সরকার। তবে মঙ্গলবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন নোয়ার্ট।

উল্লেখ্য, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মত স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার ওপর সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির কাছে উইঘুরদের আটকের অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে,উইঘুর মুসলিমদের গণহারে ধরে বিভিন্ন বন্দিশিবিরে নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেসব শিবিরে তাদের জোর করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করা হচ্ছে।

এদিকে, বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের।আবার পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অচলাবস্থা নিরসনে চীনের সহায়তা আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।