• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ সকাল

মেডিসিনে আইজি নোবেল বিজয়ী রোলার কোস্টার থেরাপি!

  • প্রকাশিত ০৭:৪১ রাত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮
David Wartinger
রোলার কোস্টার থেরাপির গবেষক মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড ওয়ার্টিঙ্গার। ছবি: সংগৃহীত

রোলার কোস্টার থেরাপির গবেষক মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড ওয়ার্টিঙ্গার। তার গবেষণা ফলাফলে উঠে এসেছে, রোলার কোস্টারে চড়ার মাধ্যমে কিডনি’র পাথর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

যা ভাবছেন তা নয়, এটি সেই বিশ্ববিখ্যাত নোবেল পুরস্কার নয়, আইজি নোবেল পুরস্কার। প্রতি বছর বেশ কয়েকটি শ্রেণীতে আইজি নোবেল দেওয়া হয়ে থাকে ওইসব ব্যক্তিদের যারা কঠিন সমস্যার হাস্যকর কিন্তু কার্যকর সমাধান বের করেন। গবেষণাগুলো কিন্তু করা হয় পুরোদস্তুর পেশাদার প্রক্রিয়ায়। 

সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর বরাতে জানা গেছে, এ বছর মেডিসিন শ্রেণীতে আইজি নোবেল জিতেছে রোলার কোস্টার থেরাপির গবেষক মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড ওয়ার্টিঙ্গার। তার গবেষণা ফলাফলে উঠে এসেছে, রোলার কোস্টারের মাধ্যমে কিডনি পাথর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। 

কীভাবে বিষয়টি গবেষকের চিন্তায় এলো, সেটিও জানিয়েছে বিবিসি। বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। অধ্যাপক ওয়ার্টিঙ্গারের এক রোগী এসে তাকে জানালেন, ডিজনিল্যান্ড থেকে ঘুরে আসার পর তার কিডনীর পাথরগুলোর বেশ কয়েকটি আর আগের অবস্থানে নেই! 

রোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওয়ার্টিঙ্গার জানতে পারলেন, ডিজনিল্যান্ডের বিগ থান্ডার মাউন্টেন রাইডে চড়ে এসেছেন তার রোগী এবং পাথরের অবস্থান নড়েছে বুঝতে পেরে পরবর্তীতে তার রোগী আরও বেশ কয়েকবার গিয়ে ওই একই রাইডে চড়েছেন। প্রতিবারের রাইড শেষে দেখা গেছে একটা একটা করে পাথর আগের অবস্থান থেকে সড়ে গেছে।

গল্পটি শুনে একইসঙ্গে অবাক এবং হতবাক অধ্যাপক ওয়ার্টিঙ্গার। আদতেও ঘটনা সত্যি কিনা তা জানতে শুরু করে দিলেন প্রস্তুতি। এবার সিলিকন মডেলের একটি রোগী বানিয়ে নিজেই রওনা হলেন ডিজনিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। একবার নয়, একাধিকবার ওই সিলিকন মডেলের রোগীকে নিয়ে চড়লেন ওই রাইডটিতে। ফলাফলে দেখলেন, ঘটনা সত্যি! পাথরের অবস্থান আসলেও বদলে যাচ্ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে অধ্যাপক ওয়ার্টিঙ্গার লিখেছেন, রাইডটিতে যাত্রীদের যে পরিমাণ ঝাঁকুনির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, সেটিই কিডনির পাথরের অবস্থান নাড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। ব্যস, সহজ ভাষায় এই হলো রোলার কোস্টার থিওরি। এই থিওরি দিয়িই মেডিসিনে আইজি নোবেল বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রত্যেক আইজি নোবেল বিজয়ীকে ৬০ সেকেন্ড কথা বলার সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হতেই আট বছর বয়সী মেয়ে শিশু বলে উঠবে, “দয়া করে থামবেন এবার। আমার বিরক্ত লাগছে!”