• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ রাত

ইমরানের উপর ক্ষুব্ধ সিন্ধুর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

  • প্রকাশিত ০৮:২৯ রাত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮
সাঈদ গনি,  প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাঈদ গনি, এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

ইমরানের বাংলাদেশীদের পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট দেবার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হলেন মন্ত্রী সাঈদ গনি।

পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া বাঙালি ও আফগান শরণার্থীদের সন্তানরা সে দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ পাবেন। 

রবিবার ১৬ সেপ্টেম্বর তার প্রথম করাচি সফরে পাকিস্তানের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এমনটাই ঘোষণা দিয়ে জানান, তার সরকার বাংলাদেশী ও আফগানদের পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট দেবে। কোনও রকম স্বীকৃতি না পাওয়ায়, তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ইমরানের এ ঘোষণায় মোটেও খুশি নন  সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাঈদ গনি।

পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া বাঙালি ও আফগানদের সে দেশের নাগরিকত্ব প্রদানের ঘোষণার বিরোধিতা করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইমরান খানের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বেশ ক্ষোভের সাথেই তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মধ্যে যদি আফগান ও বাঙালি শরণার্থীদের সন্তানদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে থাকে তাহলে তিনি ‘বনি গালা’ এলাকার নিজের বাড়ির দরজা তাদের জন্য খুলে দিতে পারেন”।

সম্প্রতি করাচি সফরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান বলেন, “এই অভিবাসীরা এখানে দশকের পর দশক ধরে বাস করছে। এখানে তাদের সন্তানরা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু তাদের কোনও পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নেই। পরিচয় সংকটই হাজার হাজার বাঙালি ও আফগান অভিবাসীকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” 

তিনি আরও বলেন, “এখানে কোনও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। আর হাজার হাজার অনিবন্ধিত আফগান ও বাংলাদেশী এই শহরে বাস করছেন। পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট না থাকায় এই অবহেলিত শ্রেণিটি কোনও কাজ পাচ্ছে না। তাই আমাদের সরকার তাদের কম্পিউটারাইজড জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে"।”

উল্লেখ্য, করাচিতে কয়েক দশক ধরে বাঙালি সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে আসছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানে থেকে যেতে চেয়েছিল। পাকিস্তানে অবস্থানরত বাঙালিদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে জানা যায়নি।

পাকিস্তানি বাঙালিদের সংগঠন পাক মুসলিম অ্যালায়েন্স’র এক অনানুষ্ঠানিক জরিপের তথ্য অনুসারে, সেখানে প্রায় ২০ লাখ বাঙালি রয়েছে।