• সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮ সকাল

মিয়ানমারের অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহে জাতিসংঘের নতুন প্যানেল

  • প্রকাশিত ১১:১৬ রাত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮
রোহিঙ্গা
গণহত্যার থেকে বাঁচতে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। < strong>এএফপি

বৃহস্পতিবার জেনিভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে এই প্যানেল তৈরির প্রস্তাব পাস হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই প্যানেল রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার জেনিভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে এই প্যানেল তৈরির প্রস্তাব পাস হয়। ৪৭ সদস্যের এই কমিশনে প্রস্তাবের পক্ষে ৩৫ এবং বিপক্ষে তিন ভোট পড়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল সাত সদস্য দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির আনা ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোট দেয় কেবল মিয়ানমারের মিত্র চীন, ফিলিপিন্স ও বুরুন্ডি।

জড়িতদের ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথি তৈরির কাজ এই প্যানেল এগিয়ে রাখবে। জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে মিয়ানমারে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করার পর মানবাধিকার কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিলো।

মানবাধিকার কাউন্সিলের অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে গুরুতর যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটেছে, সেসব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করবে এই আন্তর্জাতিক প্যানেল। পাশাপাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারের লক্ষ্যে নথিপত্র তৈরির কাজ এগিয়ে নেবে এই প্যানেল।

২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত যাত্রা। সে সময় রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উশৃঙ্খলদের চালানো নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ বিবরণ পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বলেছে, রাখাইনে যে ধরনের অপরাধ হয়েছে, আর যেভাবে তা ঘটানো হয়েছে তা পূর্বপরিকল্পিত এবং গণহত্যার সমতুল্য। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ পাঁচ জেনারেলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলা হয়।

এদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলামদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তও শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এর জবাবে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, তার দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কোনো দেশ, সংস্থা বা গোষ্ঠীর নেই। 

এর আগে ২০১৬ সালে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের একটি প্যানেল গঠিত হয়েছিল। সেবারের লক্ষ্য ছিল, সিরিয়ার যুদ্ধপরাধকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।