• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

নিরাপদে নেই ইরাকি নারীরা?

  • প্রকাশিত ০৫:৫২ সন্ধ্যা অক্টোবর ৩, ২০১৮
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি: ছবি: সৌজন্যে

‘পরিচিত নারীদের হত্যা করে ইরাকের অন্য নারীদের ঘরে থাকার বার্তা দেয়া হচ্ছে’

বেছে বেছে প্রখ্যাত নারীদের হত্যা করা হচ্ছে ইরাকে। এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ‘মিস বাগদাদ’, মানবাধিকার কর্মী, প্লাস্টিক সার্জন, কসমোলজিস্ট ইত্যাদি পেশার নারীরা। নতুন করে আবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন দেশটির বর্তমান মডেল ও সাবেক ‘মিস ইরাক’। কিন্তু চলতে থাকা হত্যাকাণ্ডের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে দেশটির সরকার। 

ডয়েচে ভেলে সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দেশটির বাগদাদ শহরে দুই মটোরসাইকেল আরোহী গুলি করে হত্যা করে সাবেক ‘মিস বাগদাদ’ খেতাবপ্রাপ্ত তারা ফারেস-কে।    

ফারেসের ইন্সটাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লক্ষ৷ প্রায়ই পশ্চিমা পোশাক পরে ইন্সটাগ্রাম ভিডিওতে উপস্থিত হতেন তিনি৷ এ ছাড়াও ইরাকে নারীদের অবস্থারও সমালোচনা করতেন ফারেস৷

আর ফারেসকে হত্যার ঠিক দু’দিন আগে ইরাকের আরেক শহর বসরায় গুলিতে প্রাণ হারান মানবাধিকার কর্মী সৌদ আল-আলী৷

এর আগে চলতি বছরের আগস্ট মাসে প্লাস্টিক সার্জন রাফিফ আল-ইয়াসিরি ও কসমেটোলজিস্ট রাশা আল-হাসানকে তাঁদের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়৷ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি৷

এদিকে শনিবার সাবেক ‘মিস ইরাক' ও বর্তমানে মডেল শিমা কাশিম সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করেন৷ সেখানে তিনি ভীত কণ্ঠে জানান, ফারেসের হত্যার পর একটি টেক্সট মেসেজ পেয়েছেন তিনি, ওই মেসেজটিতে বলা হয়েছে, ‘এরপর আপনি'৷

এরই মধ্যে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি হত্যার ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ এসব হত্যাকাণ্ড ‘পরিকল্পিত' বলে মনে করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ তবে আল-আমাল নামের নারী মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের সদস্য হানা এডওয়ার-এর মন্তব্য হচ্ছে, ‘এরই মধ্যে হত্যাকারীদের সঙ্গে আপোশ করা হয়ে গেছে৷’ পরিচিত নারীদের হত্যা করে ইরাকের অন্য মেয়েদের ঘরে থাকার বার্তা দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী, পেশায় স্টাইলিস্ট বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “একদল লোক আছে, যারা ইরাকের উন্নয়ন চায় না, নারীর উন্নয়ন চায় না৷ তারা আমাদের পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়।'' 

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ‘রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট’-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন পারগেটার বলেন, ‘‘এসব নারী হত্যায় ইরাকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে৷'' তিনি বলেন, “অনেকে এসব হত্যার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ কেউ কেউ আতঙ্কিতও হয়ে পড়েছেন৷” তবে অন্যরা খুব একটা উদ্বিগ্ন নন বলে মনে করছেন পারগেটার৷ তিনি আরও বলেন, “সামাজিক নিয়মের বাইরে যাওয়ায় এসব নারীরা তাঁদের ‘প্রাপ্য' পেয়েছেন বলেও মনে করেন ইরাকি সমাজের একটি অংশ৷” এমনকি দেশটির গণমাধ্যমেও কয়েকজন নারীকে সেক্স ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িয়ে হত্যাকাণ্ডগুলোকে যুক্তিসঙ্গত করে তোলার প্রচেষ্টা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন পারগেটার৷

ইরাকে খুব শিগগিরই নারীদের অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন না পারগেটার৷ তিনি বলেন, “ইরাকি সমাজে পরিবর্তন আনতে এখনো অনেক দূর যেতে হবে৷” ফলে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো সরকার ও প্রশাসন এড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি৷ হত্যাকারীদেরও বিচারের আওতায় আনার সম্ভাবনা কম দেখছেন পারগেটার৷

আর যুক্তরাজ্যের ‘ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট'এর উর্ধ্বতন গবেষক দিনা মনসুর-ইলে বলেন, “নারীদের অধিকার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তুলতে ইরাকি সরকারকে আরো কাজ করতে হবে। কিছুদিন আগেই এমন আইনের প্রস্তাব করছেন দেশটির সাংসদেরা যাতে করে ইরাকে নারীদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে৷ গত নভেম্বরে একটি বিল প্রস্তাব করেন তারা, যেটি পাস হলে নয় বছরের মেয়ের বিয়ে দেওয়াও বৈধ হয়ে যেতে পারে দেশটিতে৷”