• সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৬ রাত

জার্মানিতে গরুর সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতা!

  • প্রকাশিত ০৭:৩৯ রাত অক্টোবর ৩, ২০১৮
জার্মানিতে গরুর সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতা
জার্মানিতে গরুর সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতা। ছবি: সৌজন্যে

নারীর সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতার মতো এখানেও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসা হয়৷

নারীদের সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতা নিয়ে রয়েছে নানা তর্ক-বিতর্ক৷ কিন্তু গরুর সৌন্দর্য্য বিচার করার কথা জানা আছে কি? জার্মানির এক প্রতিযোগিতায় অনেক গরুর মালিক নিজেদের গরু নিয়ে আসে এবং রীতিমতো লড়াই করে গরুগুলো রূপ ও গুণের স্বীকৃতি পেয়ে থাকে৷

ডয়েচে ভেলের সূত্রে জানা গেছে, জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যে গরুর রূপগুণ বিচার করতে অভিনব এক প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করতে গরুদের বিশেষ খাদ্যতালিকা মেনে খাবার খাওয়ানো হয় এবং নারীর সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতার মতো এ ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসা হয়৷ যেমন, এবারের প্রতিযোগিতায় এসেছেন আয়ারল্যান্ড থেকে স্টিভ ম্যাকলাউলিন নামের একজন গরু স্টাইলিস্ট৷ 

গরু স্টাইলিস্ট স্টিভ ম্যাকলাউলিন বলেন, ‘‘জেল দিয়ে বাঁট উজ্জ্বল করে তোলা হয়৷ ফলে রিং-এ নিয়ে গেলে গরুকে অনেক স্বাভাবিক দেখায়, বিচারকরাও ভালোভাবে দেখতে পান৷”

মঞ্চে প্রবেশের আগে প্রতিটি টিমের হাতে থাকে মাত্র কয়েক মিনিট সময়৷ জার্মানিতে এবারের গরুদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতায় ১০০ জনেরও বেশি প্রজননকারী যোগ দিয়েছেন৷ গোটা দেশে সবচেয়ে আদর্শ গরু কার কাছে আছে, সেটিই বের হয়ে আসে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।

বিচারকদের কাছে শারীরিক গঠন, দীর্ঘ আয়ু ও দুধ দেবার ক্ষমতা জরুরি বিষয়৷ বয়স্ক ও কমবয়সী গরুর মূল্যও আলাদা৷ ভালো প্রজননের জন্যও নম্বর পায় গরু। 

ভালো প্রজননের জন্য কৃষি ইঞ্জিনিয়ার আনিটা লুকাসসেন বলেন, ‘‘গরুর শারীরিক গঠণ ভালো হতে হবে, অনেক খাদ্য খাওয়ার জন্য পেট যথেষ্ট গভীর হওয়া চাই, পাঁজর শক্ত হওয়া চাই৷ বাঁট মজবুত হতে হবে, গোড়ালি থেকে অনেক উপরে থাকতে হবে৷ যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে গরুকে অনেক দুধ উৎপাদন করতে হবে৷”

এই প্রতিযোগিতায় শুধু সৌন্দর্য্য নয়, মুনাফাও জরুরি বিষয়৷ প্রাণীগুলিকে সর্বোচ্চ ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত করা হয়৷ অবিশ্বাস্য মনে হলেও দিনে অন্তত ৪০ লিটার দুধ উৎপাদন করতে পারে এমন গরুই বেশি নম্বর পেয়ে থাকে৷ গরুগুলো যাতে নিজেদের বাঁটের ভারে কাবু না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে প্রজননকারীদের গরুর শারীরিক গঠনের প্রতি মনোযোগ দিতে হয়৷ 

গরুর দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করাও প্রতিযোগী টিমের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়৷ এ প্রসঙ্গে আনিটা বলেছেন, “ব্রিডিং-এর ব্যয় অত্যন্ত বেশি৷ প্রথম বাছুরের জন্ম পর্যন্ত গরু প্রতি দেড় থেকে দুই হাজার ইউরো ব্যয় হতে পারে৷ তখনই প্রথম দুধ বেচে আয় করা সম্ভব হয়৷ বাছুরও বিক্রি করা যায়৷” 

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী গরুর মালিককে বেশ ভালো অংকের অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।