• শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ রাত

অবশেষে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ পেলেন কাভানাফ

  • প্রকাশিত ১১:৫২ সকাল অক্টোবর ৭, ২০১৮
ব্রেট কাভানাফ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন ব্রেট কাভানাফ। ছবি: রয়টার্স

ভোটের আগে কাভানাফের মনোনয়নের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। ভোটের সময় সাধারণ গ্যালারি থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘লজ্জা লজ্জা’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। ওই সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে বারবার পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে হয়।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন ব্রেট কাভানাফ। যৌন হয়রানি, মদ্যপান, মিথ্যে বলাসহ নানান অভিযোগ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক, বিক্ষোভ আর তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে শপথ নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ব্রেট কাভানাফ।

রয়টার্স জানায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেট শনিবার কাভানাফের মনোনয়ন ৫০-৪৮ ভোটে অনুমোদন দেয়। এ অনুমোদনের মধ্যে দিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টেও রক্ষণশীলরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল, যা ট্রাম্পের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেব দেখা হচ্ছে।

শনিবার ভোটাভুটির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কাভানাফকে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর জোয়ে ম্যানকিন সমর্থন দেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দুজন সিনেটরের সমর্থন পাওয়ায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিতর্কিত কাভানাফের নিয়োগ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। এদিকে  কাভানাফের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠার মধ্যেই তার নিয়োগ চূড়ান্ত হলো।

ভোটের আগে কাভানাফের মনোনয়নের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। ভোটের সময় সাধারণ গ্যালারি থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘লজ্জা লজ্জা’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। ওই সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে বারবার পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে হয়।

কাভানার নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার পর টুইটারে তাঁকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। 

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়ার বসবাবাসকারী অধ্যাপক ক্রিস্টিন ব্লেসি ফোর্ড অভিযোগ করেন, ১৯৮২ সালে হাইস্কুলে পড়ার সময় এক পার্টিতে কাভানা মাতাল অবস্থায় তাঁকে যৌন হয়রানি করেন। এরপর আরেক নারী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ডেবোরাহ রামিরেজ নামের ওই নারী অভিযোগ করেন, ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ডরমিটরি পার্টিতে কাভানা সম্মতি ছাড়াই তাঁর শরীর স্পর্শ ও যৌন হয়রানি করেন। 

একের পর এক আরও অভিযোগ এসেছে। জুলি নামে ওয়াশিংটন ডিসির এক নারী অভিযোগ করেছেন, ১৯৮২ সালে কাভানার উপস্থিতিতে এক পার্টিতে তিনি গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। কলোরাডো সিনেটরের কাছে লেখা চিঠিতে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এক নারী জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে ১৯৯৮ সালে কাভানাফকে এক নারীর সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করতে দেখেছেন।

সব ক’টি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন কাভানাফ। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে তাঁর সুনাম নষ্ট করার জন্য ডেমোক্র্যাটরা এই ষড়যন্ত্র করছেন।