• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ সকাল

মুসলিম বন্দীর বিষয়কে আইন করে 'বৈধতা' দিল চীন

  • প্রকাশিত ১১:৩২ সকাল অক্টোবর ১১, ২০১৮
উইগর মুসলিম
উইগর মুসলিমদের যে বন্দীশালায় আটক করে রাখা হয়েছে সেই বন্দী শিবিরগুলোকে আইন করে বৈধতা দিয়েছে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ছবি: এএফপি।

বন্দিশালায় আটক ছাড়াও শিনজিয়াংয়ে বিভিন্ন ইসলামি রীতি এবং আচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচারণা শুরু হয়েছে

আন্তর্জাতিক উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কয়েক লক্ষ উইগর মুসলিমদের যে বন্দীশালায় আটক করে রাখা হয়েছে সেই বন্দী শিবিরগুলোকে আইন করে বৈধতা দিয়েছে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এই খবর জানা গেছে।

মুসলিমদের বন্দী করার তথ্য চীনের কর্তৃপক্ষ এতদিনে স্বীকার করার ফলে অবশেষে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া উইগর মুসলিমদের নিয়ে যে রহস্যের আবর্ত তৈরি হয়েছিল তার অবসান হল।

চীন কর্তৃপক্ষ সূত্রে বলা হয়েছে যে, আটক বন্দীদের কট্টর ইসলামি চিন্তার পরিবর্তন আনার জন্য উইগরদের আদর্শ শেখানো, তাদের চিন্তা-চেতনায় বদল আনা হচ্ছে।

এবিষয়ে সম্প্রতি মানবাধিকার বিষয়ক একটি বৈঠকে চীনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ধর্মীয় উগ্রবাদের কবলে পড়া উইগরদের নতুন করে শিক্ষা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে”। যদিও কিভাবে এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

তবে, নতুন করে প্রণীত বন্দীশিবিরগুলোকে বৈধতা দানকারী আইনে কি কি কারণে এই বন্দীশালায় কাউকে আটক করা যেতে পারে সে সম্পর্কে একটি বিষদ বিবরণ রয়েছে।

উক্ত আইনে যে সব কর্মকান্ডের কারণে বন্দী শিবিরে আটক করা হতে পারে তার মধ্যে রয়েছেখাবার ছাড়া অন্য হালাল পণ্য ব্যবহার, রাষ্ট্রীয় টিভি দেখতে অস্বীকার করা, রাষ্ট্রীয় রেডিও শুনতে অস্বীকার করা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাচ্চাদের দুরে রাখা।

চীনের কর্তৃপক্ষ বলছে যে এইসব বন্দিশিবিরে চীনা ভাষা শেখানো হবে, চীনের আইন শেখানো হবে এবং বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 

তবে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এসব শিবিরে প্রেসিডেন্ট শি জিন-পিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে উইগরদের শপথ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আত্মসমালোচনা করানো হচ্ছে বলে দাবী করেছে।    

এদিকে অনেক আগে থেকে অভিযোগ থাকলেও গত আগস্ট মাসেই প্রথম জাতিসংঘের একটি কমিটি জানতে পারে যে ১০ লাখের মতো উইগর মুসলিমকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে কয়েকটি শিবিরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এই আইন প্রনয়ন করার মাধ্যমে মুসলিমদের বন্দী করার ব্যাপারটি স্বীকার করে নিল চীন কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বন্দিশালায় আটক ছাড়াও শিনজিয়াংয়ে বিভিন্ন ইসলামি রীতি এবং আচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য ছাড়া বিভিন্ন হালাল পণ্য ব্যবহারের প্রবণতার বিরোধিতা করা হচ্ছে।

গত সোমবার শিনজিয়াংয়ে অনুষ্ঠিত  কমিউনিস্ট পার্টির এক সভায় নেতারা 'হালাল পণ্য ব্যবহারের' প্রবণতা রোখার অঙ্গীকার করেন। এমনকি আইন করে মুসলিম নারীদের জন্য মুখ ঢাকা বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে

প্রসঙ্গত, শিনজিয়াংয়ে গত কয়েকবছর ধরেই সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চীনের কর্তৃপক্ষ এর জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী ইসলামি সন্ত্রাসীদের দায়ী করে আসছে।