• মঙ্গলবার, মে ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩০ সকাল

ইউরোপের পার্লামেন্টেও যৌন হয়রানির শিকার নারীরা

  • প্রকাশিত ০৬:১৭ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৭, ২০১৮
ইউরোপের পার্লামেন্টেও যৌন হয়রানির শিকার নারীরা
ইউরোপের পার্লামেন্টেও যৌন হয়রানির শিকার নারীরা। ছবি: এএফপি

হয়রানি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন পুরুষ এমপিরা

সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাতে জানা গেছে, ইউরোপের প্রায় অর্ধেক নারী রাজনীতিবিদ ও পার্লামেন্টের নারী সদস্যই হয়রানির শিকার হয়েছেন৷ এমন সব ঘটনায় নারীরা যাতে নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারেন, সে ধরণের ব্যবস্থাও নেই ইউরোপের অধিকাংশ পার্লামেন্টে৷

এক প্রতিবেদনে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নারী রাজনীতিবিদ ও পার্লামেন্টের নারী সদস্যরা হত্যা, নির্যাতন, এমনকি ধর্ষণের হুমকিও পেয়ে থাকেন৷ সন্তানকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে৷

ইউরোপীয় কাউন্সিলের পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সংগঠন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এ তথ্য প্রকাশ করেছে৷ 

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ৮৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মানসিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন৷ মোট ৬৮ শতাংশ বলছেন, নারী হওয়ার কারণে তাঁদের বিভিন্ন আক্রমণাত্মক কথা শুনতে হয়েছে৷ ২৫ শতাংশ সরাসরি যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন৷

এমন আচরণের শিকার সবচেয়ে বেশি হয়েছেন ৪০ বা তার চেয়ে কম বয়সী নারীরা৷ পার্লামেন্ট কর্মীদের ৪৯ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে হয়রানির কথা বলছেন৷ এসব হয়রানির ৭০ ভাগই সংগঠিত হয়েছে পুরুষ রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে৷

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েলা কুয়েভাস জানিয়েছেন, “গবেষণার এই ফল দেখিয়ে দিয়েছে পার্লামেন্টে নারীর প্রতি সহিংসতা আমরা যেমন ভাবতাম,তার চেয়েও বেশি খারাপ৷ এই তথ্য একজন নারী এমপি হিসেবে আমার জন্যও উদ্বেগের৷” তিনি আরও বলেন, ‘‘হয়রানি শুধু নারী অধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, গণতন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর৷''

ইউরোপের ৪৫টি দেশের পার্লামেন্ট থেকে মোট ১২৩ জন (৮১ জন এমপি ও ৪২ জন কর্মী) এই গবেষণায় অংশ নেন৷ ইউরোপের অধিকাংশ পার্লামেন্টেই এ ধরনের হয়রানির ঘটনায় নারীদের সাহায্য চাওয়া বা বিচার প্রার্থনার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই৷ ফলে হয়রানি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন পুরুষ এমপিরা৷

যৌন হয়রানির শিকার মাত্র ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী এমপি এবং ৬ শতাংশ পার্লামেন্ট কর্মী লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথা জানিয়েছেন৷ 

পাশাপাশি গবেষণায় এটিও দেখা গেছে, লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কাজ করা নারীরাই এ ধরণের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বেশি৷