• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

মন্দিরে ঢুকতে চাওয়া ঋতুমতী নারীদের সমালোচনায় স্মৃতি ইরানি

  • প্রকাশিত ০১:১৫ দুপুর অক্টোবর ২৪, ২০১৮
ভারতের কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি
ভারতের কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। ছবি: সংগৃহীত

"স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে বন্ধুর বাড়িতে যান না, তাহলে মন্দিরে কেন?"

ভারতের কেরালার শবরীমালায় আয়াপ্পা মন্দিরে যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রথায় এই যুগেও ঋতুমতী মহিলাদের মন্দিরে ঢোকা নিসিদ্ধ। শুধু তাই না, ঋতুমতী নারীদের মন্দিরে ঢোকার পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে গত এক সপ্তাহে আয়াপ্পা মন্দিরে ঢোকার পথে মন্দির কর্তৃপক্ষ  অন্তত ৯ জন মহিলাকে বাধা দিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। 

আর এই ঘটনার পর মুম্বইয়ে 'ইয়ং থিঙ্কার্স কনফারেন্স' নামে একটি ইভেন্টে মঙ্গলবার স্মৃতি বলেছেন, “আমি এক জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী। তাই সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। আমি মনে করি, মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করার অধিকার আমার অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই মন্দিরকে আমি কিছুতেই অপবিত্র, অপরিচ্ছন্ন করে তুলতে পারি না। আর এটাই কোনও বিষয়কে বোঝা ও সম্মান দেওয়ার মধ্যে তফাত"।

ভারতের এই কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি শবরীমালা মন্দিরে ঢুকতে বাধা পাওয়া ঋতুমতী নারীদের পক্ষে না দাঁড়িয়ে উল্টো তাদের সমালোচনা করে বলেন, "মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করার অধিকার রয়েছে সকলেরই। কিন্তু কেউ সেই মন্দিরকে অপবিত্র, অপরিচ্ছন্ন করে তুলতে পারেন না"।

আর তার এই হাস্যকর অভিমতের পেছনে যুক্তি দিয়ে বলেন, “এটা একটা কমন সেন্স। ঋতুস্রাবের রক্তে ভেজা স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে কি আপনি যেতে পারেন আপনার বন্ধুর বাড়িতে? পারেন না। আর সেই কাজটাই কোনও মন্দিরে করা হলে সেটা কি মর্যাদাজনক হয়?”।

আর এটা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে স্মৃতিও বলেন, "আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে”।

স্মৃতি বক্তব্য, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন তিনি, যার প্রেক্ষিতে অনেকেরই ধারণা হয়েছে, মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে জাতপাতের বাছবিচারের বিষয়টিকে খুব অস্বাভাবিক মনে করেন না কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী।

স্মৃতির ভাষায়, “মুম্বইয়ের আন্ধেরির ফায়ার মন্দিরে আমি ঢুকতে পারিনি। তা আমি মন্ত্রী হই বা রাজনীতিক হই, মন্দিরের নিয়ম তো আমাকে মানতেই হবে। আমার সঙ্গে ছিল ছেলেমেয়েরা, ছিলেন আমার স্বামী। ওঁরা সকলেই পার্সি। তাই আমাকে মন্দিরের বাইরেই থাকতে হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে গাড়ি থাকলে কেউ গাড়িতে বসে থাকতে পারেন। আর তা না থাকলে, তাকে মন্দিরের বাইরে রাস্তায় তো দাড়িয়েই থাকতে হবে”।