• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪২ সন্ধ্যা

মুসলিমদের জন্য গোপন বন্দীশালা বানালো চীন

  • প্রকাশিত ১১:২৫ সকাল অক্টোবর ২৫, ২০১৮
চীন
চীনে উইঘুর মুসলিমদের গোপন কারাগার। ছবি: সৌজন্য

বুধবার বিবিসি'র অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্যের সত্যতা দাবী করা হয়

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকদের বিশেষ শিক্ষার নামে মরুভূমিতে গোপন বন্দিশালায় আটক করছে দেশটির সরকার। বুধবার বিবিসি'র অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্যের সত্যতা দাবী করা হয়। 

বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১২ জুলাই চীনের পশ্চিমের বিশাল মরুভূমির একটি স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা যায়, ফাঁকা মরুভূমিতে বালু ছাড়া কিছু নেই। কিন্তু ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল ঠিক ওই জায়গাতেই কঠোর নিরাপত্তায় একটি বিশাল কিছু স্থাপনা গড়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়াল দিয়ে ঘেরা ওই জায়গাটিতে ১৬টি গার্ড টাওয়ার রয়েছে।

গত বছর চীন দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমদের ‘বিচ্ছিন্ন শিবির’ নামক এক বন্দিশালায় পাঠাচ্ছে এমন অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই মূলত নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা এই অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য গুগল আর্থের তথ্য ঘাঁটতে শুরু করে। তখনই পাওয়া যায় মরুভূমির মাঝখানে নতুন এই স্থাপনার ছবি। 

ডাবানচেং নামের একটি ছোট শহরের ঠিক বাইরেই ওই স্থাপনাটি অবস্থিত। জিনজিয়াংয়ের প্রাদেশিক রাজধানী উরুমকি থেকে গাড়িতে করে সেখানে যেতে এক ঘণ্টা লাগে। বিবিসির সাংবাদিকরা পুলিশি বাধা এড়ানোর জন্য খুব ভোরে সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। কিন্তু উরুমকি এয়ারপোর্ট থেকে ডাবানচেং যেতে যেতেই কমপক্ষে পাঁচটি গাড়ি তাদের পিছু নেয়।

ঘিরে রাখা এলাকাটির কাছাকাছি যাওয়ার পর সাংবাদিকদের গাড়ি থামিয়ে তাদের ক্যামেরা বন্ধ করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে তা সাংবাদিকরা খেয়াল করেন। বেশ কয়েকটি ক্রেন নির্মাণ কাজে সচল রয়েছে।

বিবিসির রিপোর্টার জন সাডওয়র্থ বলেন, "এটা একটা শহরের মতো। এটা যদি সত্যিই লেখাপড়ার বিষয় হয় তাহলে আমাদের এর কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না কেন?"

ওই জায়গার ভিতরে থাকা লোকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষমাণ আত্মীয়-স্বজনদের কয়েকটি লাইনও দেখতে পান সাংবাদিকরা। তবে তাদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলতে দেয়নি।

চীনের ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টি গত সপ্তাহে মধ্য এশিয়ার সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিনা বিচারে আটকে রাখাকে সমর্থন করে একটি বিবৃতি দেয়। এদের মধ্যে উইঘুর ও কশাক মুসলিমরাও রয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, প্রায় দশ লাখ মুসলিমকে এসব বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। সাবেক কয়েকজন বন্দী সেখানে তাদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাদেরকে সেখানে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। বন্দীদের সন্তানদের তাদের থেকে আলাদা করে রাখা হয় এতিমখানায়।

এদিকে, চীনের পশ্চিমের জিনজিয়াং প্রদেশের লাখ লাখ মুসলিমকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। চীনের ভাষ্য মতে, মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের বিশেষ কারিগরি বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছে। "সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার" বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এসব স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।