• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

৭৫ বছরেও জেলের তোয়াক্কা না করে রজার ওয়াটার্সের প্রতিবাদ

  • প্রকাশিত ০২:৫৬ দুপুর অক্টোবর ২৯, ২০১৮
রজার ওয়াটার্স
ব্রাজিলের একটি কনসার্টে রজার ওয়াটার্স। ছবি: এপি।

শনিবারের কনসার্টের আগে পারানার নির্বাচনী আদালত এই রক মিউজিকের কিংবদন্তীকে দেশের আইনভঙ্গ করলে তাকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করার হুমকি দেয়

শনিবার ব্রাজিলের কুরিটিবাতে তার কনসার্ট "ইউএস দেম" এর সময়, পিঙ্ক ফ্লয়েডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কিংবদন্তী বেইজিস্ট রজার ওয়াটার্স গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জনগণকে ডানপন্থী সোশ্যাল লিবারেল পার্টির প্রার্থী জেইর বলসানরোকে ভোট না দেওয়ার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, অক্টোবরের শুরু থেকেই ব্রাজিলের বিভিন্ন এলাকায় কনসার্ট করছেন রজার। প্রতিটি কনসার্টেই রজার বলসানরোকে বর্জন করার আহ্বান জানান। 

তবে, শনিবারের কনসার্টের আগে পারানার নির্বাচনী আদালত এই রক মিউজিকের কিংবদন্তীকে দেশের আইনভঙ্গ করলে তাকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করার হুমকি দেয়। উল্লেখ্য, ব্রাজিলের নির্বাচনী আইনে নির্বাচনের আগেরদিন রাত ১০ টার পর নির্বাচনকেন্দ্রিক কোন ধরণের প্রচারনা কিংবা বক্তব্য দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

শনিবারের কনসার্টে সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। বলসানরোকে নিয়ে কোন কথা তখনও বলেননি রজার। যখন সবাই ভাবতে শুরু করেন রজার বুঝি মেনেই নিয়েছেন নির্বাচনি আদালতের সতর্কবাণী ঠিক তখনই অন্ধকার হয়ে যায় পুরো মঞ্চ। আর মঞ্চের ব্যাকস্ক্রিনে পর্তুগীজ ভাষায় একটি লাইন ভেসে ওঠে রাত ১০ টা বাজার ঠিক ২ মিনিট আগে।

সেখানে লেখা ছিল, "ওরা আমাদের বলেছিল রাত ১০ টার পর নির্বাচন নিয়ে কথা না বলতে। আমাদের হাতে আর ৩০ সেকেন্ড সময় আছে। এটাই  আমাদের রবিবারের নির্বাচনের আগে ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কথা বলার শেষ সুযোগ। বলসনরোকে বর্জন করুন।"


রাত ১০টা বাজার সাথে সাথে সেখানে আবার লেখা ওঠে, "এখন ১০টা বাজে, আইন মেনে চলুন।"

উল্লেখ্য, প্রচণ্ড কট্টরপন্থী ভাবাদর্শের জন্য বলসনরোর বিরুদ্ধে "#নট হিম" নামের একটি ক্যাম্পেইন ব্রাজিলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে।

এদিকে রজার ওয়াটার্সের এহেন মন্তব্যকে বিরোধীপক্ষের চাল বলে মন্তব্য করেছেন বলসনরো।

তবে, প্রগতিশীল মতাদর্শের রজারের এমন কর্মকান্ড এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, হাঙ্গেরির ভিক্টর ওরবানসহ বিভিন্ন কট্টরপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, বলসনরোর বিপক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা সত্ত্বেও রবিবারের নির্বাচনে তিনিই জয়ী হয়েছেন।