• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২ রাত

হাজার বছরের পুরনো মূর্তি ফিরে পেতে চান চীনারা

  • প্রকাশিত ০৫:২২ সন্ধ্যা নভেম্বর ১, ২০১৮
মূর্তি ফিরে পেতে নেদারল্যান্ডসের আদালতে চীনারা
হাজার বছরের এই পুরনো মূর্তি ফিরে পেতে নেদারল্যান্ডসের আদালতে চীনারা। ছবি: সৌজন্যে

মূর্তি ফিরে পেতে নেদারল্যান্ডসের আদালতে চলছে আইনি লড়াই

হাজার বছরের পুরনো এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর মূর্তি ফিরে পেতে নেদারল্যান্ডসের আদালতে চলছে আইনি লড়াই। মূর্তিটিকে নিজেদের আধ্যাত্মিক নেতা বলে দাবি করে তা ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রাম ইয়াংচুনের একদল গ্রামবাসী। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান সংবাদটি সম্পর্কে জানিয়েছে।  

চীনের ওই গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মূর্তিটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। আর চুরি হয়ে যাওয়া মূর্তিটিই সংগ্রহ করেন ডাচ সংগ্রাহক অস্কার ভ্যান অভরিম। ওই ডাচ সংগ্রাহককে ডিলার বলেও অভিযুক্ত করেছেন তারা।

এদিকে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালে হংকং থেকে মূর্তিটির মমিকৃত অবিশিষ্টাংশ সংগ্রহ করেছিলেন ওই ডাচ সংগ্রাহক। চুরি যাওয়ার ২০ বছর পর ২০১৫ সালে গ্রামবাসী দাবি করেন, বুদাপেস্টের ন্যাশনাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের মমি ওয়ার্ল্ড এক্সিবিশনে প্রদর্শন করা ওই মূর্তিটি আদতে তাদের মন্দিরের বৌদ্ধ মূর্তি ঝাংগং প্যাট্রিয়াক।

পরবর্তীতে স্ক্যান করা হলে মূর্তিটির ভেতরে একটি কঙ্কাল দেখা যায়। এ থেকে ধারণা পাওয়া গেছে, চীনের ওই ভিক্ষু প্রায় হাজার বছর আগের সং রাজবংশের সময়কালীন একজন সন্ন্যাসী ছিলেন। এক পর্যায়ে বুদাপেস্টের ওই প্রদর্শনী থেকে মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হয়। মামলাটি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেই জানিয়েছে গার্ডিয়ান। এই ইস্যুতে প্রথমবারের মতো আদালতে সফলতা পেতে পারে বেইজিং।

আমস্টারডাম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বুধবার মূর্তিটি নিয়ে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে গ্রামের মুখপাত্র লিন ওয়েন কিং জানান, “মূর্তিটির সঙ্গেই বড় হয়েছি। দিনরাত তিনি এখানে ছিলেন। আমাদের আধ্যাত্মিক নেতা তিনি। আমাদের জন্য তাকে ফিরে পাওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

গ্রামবাসীরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, মনুষ্য আকৃতির বৌদ্ধ মূর্তিটি যেন তাদের মন্দিরে ফেরত দেওয়া হয়।” 

এদিকে ডাচ সংগ্রাহক অস্কার ভ্যান অভরিম নিজের অবস্থান সম্পর্কে আদালতকে জানিয়েছেন, মূর্তিটি তার ছিল না। ২০১৫ সালে একজন চীনা সংগ্রাহকের কাছ থেকে বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি এটি সংগ্রহ করেছেন। তবে ঠিক কোন সংগ্রাহকের কাছ থেকে এটি তিনি সংগ্রহ করেছে সেটি তার মনে পড়ছে না।

ভ্যান অভরিম আদালতকে বলেছেন, “আমি এটি শুনে খুশি হয়েছি যে মূর্তিটি চীনে ফিরে যাবে। আমি একজন স্থপতি এবং একজন সৌখিন সংগ্রাহক, কোনও ডিলার নই। মূর্তিটি কোথায় ছিল, সেটি আমার জানা নেই।”

চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর এই মামলার রায় দেবেন আদালত।