• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪০ সকাল

এরদোয়ান: খাসোগজি হত্যায় সৌদি আরবই দায়ী

  • প্রকাশিত ১১:৪৯ সকাল নভেম্বর ৩, ২০১৮
রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ফাইল ছবি। ছবি: এএফপি।

তুরস্কের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হত্যার পর খাশোগির দেহ টুকরো টুকরো করে তা এসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সৌদি সাংবাদিক খাসোগজি হত্যায় সৌদি আরবকে সরাসরি দায়ী করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে এরদোয়ান বলেন, "আমরা জানি, খাসোগজি হত্যার নির্দেশ সৌদি প্রশাসনের উচ্চ মহল থেকে এসেছে।" 

তবে, সৌদি আরবের সাথে তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "বাদশা সালমান এই ঘটনার সাথে জড়িত তা আমি বিশ্বাস করি না।"  তিনি এ ঘটনার মূল হোতার মুখোশ উন্মোচনের আহবান জানান নিবন্ধটিতে।  

এদিকে তুরস্কের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হত্যার পর খাশোগজির দেহ টুকরো টুকরো করে তা এসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন। 

এ বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা অ্যাসিড ব্যবহারের বিষয়টিকে একমাত্র যৌক্তিক উপসংহার উল্লেখ করে বলেছেন, "বলেন, যারা খাশোগজিকে হত্যা করেছে তারা কোনও প্রমাণ না রাখতেই তার দেহ এসিডে গলিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা শুধু তার দেহকে টুকরোই করেনি বরং তা ভস্মীভূতও করেছে।"

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগজিকে তিনি বিপজ্জনক ইসলামপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে ওয়াশিওংটন পোস্টের একটি খবরে বলা হয়ে। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর খাশোগজিকে হত্যার পর গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাই ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এসময় ফোনে তিনি খাশোগজিকে বহুজাতিক ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে দাবি করে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অটুট রাখার আহবান জানান।

এছাড়াও, খাশোগজিকে হত্যার কথা স্বীকার করার আগেই হোয়াইট হাউসে ফোন করে যুবরাজ এ কথা বলেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। তবে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর ব্যক্তিগত কাজে তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে প্রবেশের পর ঘাতক দের হাতে নির্মমভাবে খুন হন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজি। সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রথমে জামাল খাশোগজির খুনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও গত ১৯ অক্টোবর তা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। 

প্রসঙ্গত, একসময় সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা এই সাংবাদিক পরবর্তী সময়ে সৌদি যুবরাজের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালে তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে যান।