• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯ রাত

'দিল্লীর দূষিত বাতাস মৃত্যুদণ্ডের সমতুল্য'

  • প্রকাশিত ০৫:৪৬ সন্ধ্যা নভেম্বর ৭, ২০১৮
দিল্লির বায়ু দূষণ
দিল্লি শহরে ধুলার কুয়াশা। ছবি: বাসস।

ভারতের রাজধানী দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের নগরী

ভারতে প্রতিবছর ১০ লাখেরও বেশি লোক ধোঁয়ার কারণে মারা যায়। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে ভারতের রাজধানী দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের নগরী বলে এএফপির একটি খবরে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে ২ কোটি লোকের বসবাস। প্রতি বছর শীত আসার আগে এই নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে দিল্লির হাসপাতালগুলোতে অসংখ্য গুরুতর শ্বাসকষ্টের রোগী ভর্তি হয়। দিল্লীর শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক শ্রীনিবাশ কে. গোপিনাথ বলেন, "তার জন্য দিল্লীর বাতাস মৃত্যুদন্ডের মতো।"       

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতল বাতাস দূষণকে ভূমির কাছাকাছি নিয়ে আসে। দিল্লীর বাতাসে পিএম এর মাত্রা ২দশমিক৫। ফলে, বাতাসের উপাদান এতোটাই ছোট যে এই কণিকাগুলো ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে এবং এর ফলে প্রায়ই রক্তপ্রবাহ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ৩০ গুণ কম হতে পারে।

উল্লেখ্য, হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব দিওয়ালির সময় বাতাসে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। পটকা ও বাজির ধোঁয়া বাতাসকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। পাশাপাশি গাড়ির কালোধোঁয়া, কারখানার ধোঁয়া, নির্মাণাধীন ভবনের ধুলা ও শস্য পোড়ানোর ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে। এসময় শহরের বাতাসে দূষণের পরিমাণ এতই বেড়ে যায় যে কোন যন্ত্র পরিমাপ করা যায় না।

রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত ডাক্তার গোপীনাথ বলেন, "হাসপাতালের ভেতরে বাতাসের মান বজায় রাখা হয়, কিন্তু তিনি যদি হাসপাতালের বাইরে যান, তবে দূষিত বায়ুর কারণে আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।"

দিল্লীর বাতাস শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, "শিশুরা বড়দের তুলনায় ঘনঘন শ্বাস নেয়, এতে দূষিত বাতাস তাদের ছোট্ট দেহে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই দিল্লীর এই অতিঝুঁকিপূর্ণ ধোঁয়ায় শিশু, বয়স্ক ও হাঁপানীর মতো শ্বাসকষ্ট রোগীদের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া উচিত নয়।"

উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দূষিত বায়ুর কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু মারা যায়।