• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮ রাত

কঙ্গোতে ইতিহাসের ভয়াবহতম ইবোলার প্রাদুর্ভাব

  • প্রকাশিত ০২:৫৮ দুপুর নভেম্বর ১১, ২০১৮
ইবোলার প্রাদুর্ভাব
চলতি বছরের আগস্টে ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা এক নারীকে ইবোলার ভ্যাক্সিন দিচ্ছেন এক কঙ্গোলিজ স্বাস্থ্যকর্মী। ছবি: রয়টার্স (ফাইল ছবি)।

আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে ২০১ জন ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে

কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর নতুন করে দেখা দেওয়া ইবোলা ভাইরাসের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ২০০'র অধিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের একটি খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে ইবোলা সংক্রমণে পশ্চিম আফ্রিকার ১১ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ঐ বছর কঙ্গোতে এর প্রভাবে মারা গিয়েছিল প্রায় ৫০ জন মানুষ। তবে, এ বছরের জুলাইতে কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৩০০শ'র ও বেশী মানুষ ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা। আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে ২০১ জন ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, কঙ্গোতে গৃহযুদ্ধ চলার কারণে সশস্ত্র বিদ্রোহী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণ এবং বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান থাকার কারণে দেশটিতে ইবোলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হবার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলি ইলুঙ্গা অভিযোগ করেছেন যে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কারণে তাদের ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তাকারী দলকে বিদ্রোহীরা অনবরত হয়রানি করে যাচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি।

ইলুঙ্গা বলেন, "আমরা এখন যে অবস্থার মধ্যে আছি, বিশ্বের আর কোথাও ইবোলার প্রাদুর্ভাব এতোটা জটিল আকার ধারণ করেনি। এরপরও সপ্তাহে গড়ে তিন থেকে চারবার চিকিৎসা সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। পূর্ববর্তী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময়ের তুলনায় এবারের সহিংসতার মাত্রা নজিরবিহীন।" 

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে বেনি শহরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানকার ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

এদিকে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসাকর্মীদের কাজে বাঁধা না দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা ইবোলা মোকাবেলায় একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে।